ঢাকা ০৪:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত, ৬ জন নিহত Logo নোয়াখালীর পুকুরে মিলল অজ্ঞাত ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ Logo  অসুস্থ মির্জা আব্বাসকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী Logo ১৯ রানের ব্যবধানে পাকিস্তানের তিন উইকেট হারাল Logo ইরানি শাসকদের হত্যাকে ‘সম্মানের’ বলে মন্তব্য ট্রাম্পের Logo হাসপাতালে মির্জা আব্বাসকে দেখতে গেলেন ডা. শফিকুর রহমান Logo নতুন মন্ত্রিসভায় ২ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর বণ্টন, গেজেট প্রকাশ Logo স্বৈরাচারের সমর্থক কেউ নেই, এটাই বর্তমান সংসদের সৌন্দর্য: পার্থ  Logo ফ্যাসিবাদের অবসান, নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের শুরু: সংসদে রাষ্ট্রপতি Logo সংসদে ওয়াকআউটের পর ফেসবুকে হাসনাতের ‘গেট আউট চুপ্পু’ মন্তব্য

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন : ভোটের দৌড়ে ৪০ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী, বিএনপির ভাবনায় কী আছে?

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

ছবি সংগৃহীত

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনী পরিবেশ ধীরে ধীরে গতি পাচ্ছে, শিগগিরই শুরু হবে পূর্ণমাত্রার প্রচারণা। দীর্ঘ ১৭ বছর পর ক্ষমতার বাইরে থাকা (বিএনপি) এবার নির্বাচনে অন্যতম শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হলেও দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে বিদ্রোহী প্রার্থীর বিষয়টি।

যদিও অনেকেই ইতোমধ্যে সরে দাঁড়িয়েছেন, তবুও এখনও প্রায় ৪০টি আসনে বিএনপির অর্ধশতাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। দলীয় নেতৃত্বের হাতে একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে সময় আছে মাত্র এক দিন। এর মধ্যেই নতুন করে চাপ তৈরি করেছে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি আসনে প্রার্থিতা বাতিলের ঘটনা।

দলীয় নেতাদের দাবি, বিদ্রোহীরা নির্বাচনে বড় কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না। অন্যদিকে, যেসব প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, তারা আইনি পথে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করবেন বলে জানানো হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর আসনভিত্তিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরই বিদ্রোহের বিষয়টি সামনে আসে। দলটির হিসাব অনুযায়ী, সিদ্ধান্ত অমান্য করে অন্তত ৫২টি আসনে ৯১ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকেই দলের পদধারী ও প্রভাবশালী নেতা।

বিদ্রোহ দমনে ৩০ ডিসেম্বর দলটির সাবেক চেয়ারপারসন -এর মৃত্যুর দিন ১০ জন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। তবে তাতেও পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি। শেষ পর্যন্ত সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন দলীয় প্রধান । কয়েক দিন ধরে তিনি বিদ্রোহীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তার আশ্বাসের পর অন্তত ১০ জন প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, এখনও সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সুযোগ আছে এবং যারা দলের সিদ্ধান্ত মানবেন না, তাদের বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বিপরীত চিত্রও রয়েছে—তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পরও ঢাকা-১২ আসনের বিদ্রোহী প্রার্থী সাইফুল আলম নিরব নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। এমন আরও কিছু বহিষ্কৃত নেতা এখনও প্রচারণা চালাচ্ছেন।

বিদ্রোহী ঠেকাতে দলটি কয়েকটি উপজেলা ও জেলা কমিটিও বিলুপ্ত করেছে, কিন্তু তারপরও মাঠে রয়ে গেছে অর্ধশতাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী। এদিকে ঋণ খেলাপ ও দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে কুমিল্লা-৪, কুমিল্লা-১০ ও চট্টগ্রাম-২ আসনের প্রার্থীদের অযোগ্য ঘোষণা করেছে । দলীয় আইনজীবীদের মতে, উচ্চ আদালতে রিটের মাধ্যমে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার সুযোগ এখনও রয়েছে।

বিএনপির আইন সহায়তা উপকমিটির প্রধান ব্যারিস্টার রুহুল কদ্দুছ কাজল বলেন, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চলতে পারে এবং অতীতেও এমন নজির রয়েছে। তফসিল অনুযায়ী মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি। বিদ্রোহী প্রার্থীদের সরাতে বিএনপির হাতে সময় রয়েছে আর মাত্র এক দিন। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচন-পূর্ব এই সংকট দলটি কীভাবে সামাল দেয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০২:৪০:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
৬৪ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন : ভোটের দৌড়ে ৪০ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী, বিএনপির ভাবনায় কী আছে?

আপডেট সময় ০২:৪০:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনী পরিবেশ ধীরে ধীরে গতি পাচ্ছে, শিগগিরই শুরু হবে পূর্ণমাত্রার প্রচারণা। দীর্ঘ ১৭ বছর পর ক্ষমতার বাইরে থাকা (বিএনপি) এবার নির্বাচনে অন্যতম শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হলেও দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে বিদ্রোহী প্রার্থীর বিষয়টি।

যদিও অনেকেই ইতোমধ্যে সরে দাঁড়িয়েছেন, তবুও এখনও প্রায় ৪০টি আসনে বিএনপির অর্ধশতাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। দলীয় নেতৃত্বের হাতে একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে সময় আছে মাত্র এক দিন। এর মধ্যেই নতুন করে চাপ তৈরি করেছে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি আসনে প্রার্থিতা বাতিলের ঘটনা।

দলীয় নেতাদের দাবি, বিদ্রোহীরা নির্বাচনে বড় কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না। অন্যদিকে, যেসব প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, তারা আইনি পথে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করবেন বলে জানানো হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর আসনভিত্তিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরই বিদ্রোহের বিষয়টি সামনে আসে। দলটির হিসাব অনুযায়ী, সিদ্ধান্ত অমান্য করে অন্তত ৫২টি আসনে ৯১ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকেই দলের পদধারী ও প্রভাবশালী নেতা।

বিদ্রোহ দমনে ৩০ ডিসেম্বর দলটির সাবেক চেয়ারপারসন -এর মৃত্যুর দিন ১০ জন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। তবে তাতেও পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি। শেষ পর্যন্ত সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন দলীয় প্রধান । কয়েক দিন ধরে তিনি বিদ্রোহীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তার আশ্বাসের পর অন্তত ১০ জন প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, এখনও সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সুযোগ আছে এবং যারা দলের সিদ্ধান্ত মানবেন না, তাদের বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বিপরীত চিত্রও রয়েছে—তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পরও ঢাকা-১২ আসনের বিদ্রোহী প্রার্থী সাইফুল আলম নিরব নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। এমন আরও কিছু বহিষ্কৃত নেতা এখনও প্রচারণা চালাচ্ছেন।

বিদ্রোহী ঠেকাতে দলটি কয়েকটি উপজেলা ও জেলা কমিটিও বিলুপ্ত করেছে, কিন্তু তারপরও মাঠে রয়ে গেছে অর্ধশতাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী। এদিকে ঋণ খেলাপ ও দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে কুমিল্লা-৪, কুমিল্লা-১০ ও চট্টগ্রাম-২ আসনের প্রার্থীদের অযোগ্য ঘোষণা করেছে । দলীয় আইনজীবীদের মতে, উচ্চ আদালতে রিটের মাধ্যমে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার সুযোগ এখনও রয়েছে।

বিএনপির আইন সহায়তা উপকমিটির প্রধান ব্যারিস্টার রুহুল কদ্দুছ কাজল বলেন, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চলতে পারে এবং অতীতেও এমন নজির রয়েছে। তফসিল অনুযায়ী মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি। বিদ্রোহী প্রার্থীদের সরাতে বিএনপির হাতে সময় রয়েছে আর মাত্র এক দিন। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচন-পূর্ব এই সংকট দলটি কীভাবে সামাল দেয়।