ঢাকা ০৬:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo  টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ব্যর্থতার পর নির্বাচক কমিটি থেকে পদত্যাগ আলিম দারের Logo ডেপুটি স্পিকার পদে আলোচনায় পাঁচ জামায়াত সদস্য Logo আসিফের দাবি: প্রকৃত জনগণের সরকার গঠিত হলে সংবিধান বাতিল হবে Logo শ্যামনগরে প্রেসক্লাব সভাপতির ওপর হামলার অভিযোগ, যুবদল নেতাসহ আটক ২ Logo দেশে ফিরলে আটক হবেন অভিনেতা জাহের আলভী Logo কুয়েতের আকাশসীমায় ইরানের মিসাইলের আঘাতে বিধ্বস্ত মার্কিন এফ ১৫ ফাইটার জেট Logo ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েল ও আমিরাতে নিহত বহুজন, আহত শতাধিক Logo ফুটবলে আসছে নতুন নিয়ম, জুন থেকে কার্যকর করবে আইএফএবি Logo ইসরায়েলি হামলায় সাবেক ইরানি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদ নিহতের দাবি Logo সংসদ ও রাজপথে একসঙ্গে সক্রিয় থাকবে এনসিপি: নাহিদ ইসলামের ঘোষণা

হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তরের উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডাদেশ ঘোষিত হওয়ার পর জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (OHCHR) আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়। সোমবার (১৭ নভেম্বর) জেনেভা থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটির মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি এ প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ঢাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের রায় ঘোষণা করেছে। গত বছরের বিক্ষোভ দমনের সময় যেসব ব্যক্তি গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন, তাদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।

তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই OHCHR বারবার বলেছে— আদেশ প্রদানকারী বা নেতৃত্বের ভূমিকায় থাকা ব্যক্তিদেরও আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীরা যেন ন্যায্য প্রতিকার ও ক্ষতিপূরণের সুযোগ পান, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

শামদাসানি জানান, এই নির্দিষ্ট মামলার বিচারকার্য তারা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেননি। তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ সংক্রান্ত বিচারপ্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচার ও বৈশ্বিক মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণের ওপর তারা বরাবরই জোর দিয়ে আসছেন। বিশেষ করে দণ্ডপ্রাপ্তরা অনুপস্থিত থাকায় বিচার অনুষ্ঠিত হওয়া এবং তাতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া—এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মান মেনে চলা আরও বেশি জরুরি।

তিনি আরও বলেন, সংস্থাটি সবসময় মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করে, এবং এ মামলাতেও দুঃখের সঙ্গে সেই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

রায়ের পর উত্তেজনা এড়াতে সব পক্ষকে সংযত আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে শামদাসানি বলেন, মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক আশা প্রকাশ করেছেন যে বাংলাদেশ সত্য উদ্ঘাটন, ক্ষতিপূরণ এবং ন্যায়বিচারকে কেন্দ্র করে একটি সমন্বিত প্রক্রিয়ার দিকে অগ্রসর হবে। সেই সঙ্গে নিরাপত্তা খাতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডসম্মত, অর্থবহ ও রূপান্তরমূলক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন লঙ্ঘন পুনরায় না ঘটে। এ প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ সরকার ও জনগণকে সহায়তা করতে হাইকমিশনারের কার্যালয় প্রস্তুত বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৭:০৭:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
১০৩ বার পড়া হয়েছে

হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তরের উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া

আপডেট সময় ০৭:০৭:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডাদেশ ঘোষিত হওয়ার পর জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (OHCHR) আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়। সোমবার (১৭ নভেম্বর) জেনেভা থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটির মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি এ প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ঢাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের রায় ঘোষণা করেছে। গত বছরের বিক্ষোভ দমনের সময় যেসব ব্যক্তি গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন, তাদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।

তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই OHCHR বারবার বলেছে— আদেশ প্রদানকারী বা নেতৃত্বের ভূমিকায় থাকা ব্যক্তিদেরও আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীরা যেন ন্যায্য প্রতিকার ও ক্ষতিপূরণের সুযোগ পান, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

শামদাসানি জানান, এই নির্দিষ্ট মামলার বিচারকার্য তারা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেননি। তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ সংক্রান্ত বিচারপ্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচার ও বৈশ্বিক মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণের ওপর তারা বরাবরই জোর দিয়ে আসছেন। বিশেষ করে দণ্ডপ্রাপ্তরা অনুপস্থিত থাকায় বিচার অনুষ্ঠিত হওয়া এবং তাতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া—এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মান মেনে চলা আরও বেশি জরুরি।

তিনি আরও বলেন, সংস্থাটি সবসময় মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করে, এবং এ মামলাতেও দুঃখের সঙ্গে সেই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

রায়ের পর উত্তেজনা এড়াতে সব পক্ষকে সংযত আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে শামদাসানি বলেন, মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক আশা প্রকাশ করেছেন যে বাংলাদেশ সত্য উদ্ঘাটন, ক্ষতিপূরণ এবং ন্যায়বিচারকে কেন্দ্র করে একটি সমন্বিত প্রক্রিয়ার দিকে অগ্রসর হবে। সেই সঙ্গে নিরাপত্তা খাতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডসম্মত, অর্থবহ ও রূপান্তরমূলক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন লঙ্ঘন পুনরায় না ঘটে। এ প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ সরকার ও জনগণকে সহায়তা করতে হাইকমিশনারের কার্যালয় প্রস্তুত বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।