ইরানে বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীকে ‘ব্ল্যাঙ্ক চেক’ দেওয়া হয়েছিল
ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনীকে কার্যত সীমাহীন ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল এবং প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারে তাদের জন্য ‘ব্ল্যাঙ্ক চেক’ অনুমোদন ছিল—এমন তথ্য প্রকাশ করেছেন দেশটির এক শীর্ষস্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা।
ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করে সহিংসতা দমনের লক্ষ্যেই নিরাপত্তা বাহিনীকে এ ধরনের ব্যাপক স্বাধীনতা দেওয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জানান, দেওয়া নির্দেশনায় কোনো বিভাজন ছিল না; সাধারণ নাগরিক, বিক্ষোভকারী কিংবা অন্য যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধেই হামলার অনুমতি ছিল।
সরকারি হিসাবে নিহতের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার বলা হলেও, ইরান ইন্টারন্যাশনালের বিশ্লেষণে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। অভ্যন্তরীণ নথি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য পর্যালোচনা করে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, নিহতের সংখ্যা ৩৬ হাজার ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এই দমন অভিযানের নির্দেশ সরাসরি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কাছ থেকেই এসেছে।
এ ছাড়া বিক্ষোভ দমনে ইসলামিক রেভুল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি), বাসিজ মিলিশিয়া এবং কুদস ফোর্স–সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো সক্রিয়ভাবে অংশ নেয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। অভিযানে বিদেশে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাহিনীও যুক্ত ছিল, যাদের বড় একটি অংশ চেচনিয়া, ইরাক, পাকিস্তান ও সুদান থেকে এসেছে বলে উল্লেখ করা হয়।

























