বাংলাদেশি দুই শিক্ষার্থী হত্যার সন্দেহভাজন আবুঘরবেহ তিন বছর আগে মাকেও মারধর করেছিলেন
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত হিশাম আবুঘরবেহর অতীত আচরণ ও পারিবারিক সহিংসতার একাধিক তথ্য সামনে এসেছে। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, কয়েক বছর আগে থেকেই তাঁর আচরণ অস্বাভাবিক হয়ে উঠেছিল।
পুলিশ ও সিএনএনের হাতে আসা প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০২৩ সালের মে মাসে এক ঘটনায় আবুঘরবেহ তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। ওই সময় ভাই তাঁর আচরণ ভিডিও করতে গেলে তিনি তাকে ঘুষি মারেন, এতে ভাই মাটিতে পড়ে যান। একই ঘটনার সময় তিনি তাঁর মাকে লাথি মারেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই সময় থেকেই তাঁর মানসিক ও আচরণগত পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পরে তাঁকে শারীরিক সহিংসতার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ফ্লোরিডার ‘বেকার অ্যাক্ট’ অনুযায়ী সাময়িকভাবে আটক রাখা হয়েছিল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আবুঘরবেহ দাবি করেছিলেন যে তিনিই তাঁর ভাইকে ‘সৃষ্টি করেছেন’ এবং নিজেকে ‘ঈশ্বর’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন, যা তাঁর মানসিক অবস্থাকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে।
পরিবারের এক সদস্য জানিয়েছেন, গাঁজার মতো মাদক ব্যবহার শুরু করার পর থেকেই তাঁর আচরণে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দেয় এবং রাগ ও সহিংসতা বেড়ে যায়। যদিও তারা তাঁর চিকিৎসার জন্য পদক্ষেপ নিতে চেয়েছিলেন, তবে পরে মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়।
তদন্তে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার আগে আবুঘরবেহ অনলাইনে এমন কিছু প্রশ্ন করেন, যা হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি ডাক্ট টেপ, ব্যাগ ও দাহ্য পদার্থসহ বিভিন্ন সামগ্রী অনলাইনে অর্ডার করেছিলেন।
বর্তমানে তিনি ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই পিএইচডি শিক্ষার্থী হত্যার মামলায় বিচারাধীন রয়েছেন।


























