এনইআইআর কার্যক্রম শুরু হলেও তিন মাস বন্ধ হবে না অবৈধ ও ক্লোন মোবাইল
ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালু হলেও আগামী ৯০ দিনের মধ্যে কোনো অবৈধ বা ক্লোন হ্যান্ডসেট বন্ধ করা হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের উদ্দেশে এ তথ্য জানান এবং এ বিষয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, এনইআইআর কার্যকর হলেও প্রথম তিন মাস গ্রাহকদের ব্যবহৃত অবৈধ কিংবা ক্লোন করা ফোন বন্ধ করা হবে না। তিনি জানান, অপারেটরদের কাছ থেকে প্রায় তিন বিলিয়নের বেশি ডেটাসেট সংগ্রহ করা হয়েছে, যার মধ্যে হিস্টোরিক তথ্যও রয়েছে। এ কারণে আপাতত অনেক গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সক্রিয় সিম বা হ্যান্ডসেটের সংখ্যা বেশি দেখাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বিটিআরসি ও মোবাইল অপারেটররা যৌথভাবে বিষয়টি সমাধানে কাজ করছে। ধাপে ধাপে পুরোনো তথ্য ব্যাকগ্রাউন্ডে আর্কাইভ করে কেবল বর্তমানে সক্রিয় হ্যান্ডসেটের তথ্য দেখানো হবে, তবে এতে কিছুটা সময় লাগবে।
এনইআইআর নিয়ে বিভিন্ন ভুল ও সমস্যার কথা জানানোয় সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, নতুন করে চালু হওয়া টেকনিক্যাল প্ল্যাটফর্মে শুরুতে কিছু জটিলতা দেখা দেওয়া স্বাভাবিক, যা ধীরে ধীরে সমাধান করা হবে। তিনি জানান, আগে ভিএপিটি করা হলেও সিস্টেমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আবারও Vulnerability Assessment and Penetration Testing করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সিস্টেমটি নতুন নয়; ২০২১ সালে প্রথম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এবং কিছু ফিচার সংযোজনের মাধ্যমে বর্তমানে এটি চালু করা হয়েছে।
তিনি জানান, আগে একজন ব্যক্তির একটি এনআইডির বিপরীতে সর্বোচ্চ ২০টি এবং পরে ১৫টি সিম ব্যবহারের অনুমতি থাকলেও বর্তমানে তা কমিয়ে ১০টিতে আনা হচ্ছে। ফলে হিস্টোরিক ডেটার কারণে এনআইডির বিপরীতে বেশি হ্যান্ডসেট দেখানো স্বাভাবিক। তবে এর মাধ্যমে নাগরিকরা নিজেদের এনআইডির সঙ্গে যুক্ত সিম ও ডিভাইসের তথ্য জানতে পারবেন এবং আর্থিক অপরাধ বা অনলাইন জুয়া সংশ্লিষ্ট কোনো অপব্যবহার হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে সচেতন হতে পারবেন।
পোস্টের শেষাংশে তিনি ডাটাবেজের নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বাস দিয়ে জানান, নিরাপদ ডিজিটাল টোকেন (JWT), রেট লিমিট এবং একাধিক নিরাপত্তা স্তর যুক্ত করা হয়েছে। এনআইডির বিপরীতে আইএমইআই তথ্য জানাতে বর্তমানে যে প্রক্রিয়া রয়েছে, সেটিকে আরও নিরাপদ করতে অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, দেশে অবৈধ ও আনঅফিশিয়াল মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আনতে ১ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এনইআইআর চালু করা হয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত সব ফোনের আইএমইআই নম্বর জাতীয় ডাটাবেজে যুক্ত হচ্ছে, যার ফলে চোরাই ও অবৈধ ফোন শনাক্ত করা সহজ হবে। তবে চালুর পরপরই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে কিছু বিভ্রান্তি তৈরি হয়।











