ঢাকা ০৪:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo অপহরণের খবর পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর তৎপরতা, এক ঘণ্টার মধ্যেই স্কুলছাত্র উদ্ধার Logo দেড় বছর পর ফের শুরু আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা আন্তর্জাতিক বাস চলাচল Logo বাংলাদেশ পুলিশের নতুন আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন আলী হোসেন ফকির Logo চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রাণ গেল দুজনের, দগ্ধ আরও সাত Logo  জনগণের শক্তিকেই মূল ভরসা করে বিএনপি, প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস নেই: মঈন খান Logo রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিয়োগ অনিয়ম তদন্তে হাইকোর্টের নির্দেশ Logo গরমের ঈদে আরামদায়ক পাঞ্জাবির চাহিদা, বাজারে রং-নকশায় নতুনত্ব Logo এনসিপি গঠন করল স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি Logo ভিনিসিউসকে বর্ণবাদী মন্তব্যের অভিযোগে বেনফিকার আর্জেন্টাইন ফুটবলার নিষিদ্ধ Logo ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর ১১২ নির্বাচন কর্মকর্তার বদলি

কারা কবরের অন্ধকারে নিরাপদ থাকবেন? হাদিসে বর্ণিত সাত সৌভাগ্যবান

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

সংগৃহিত

মৃত্যু এমন এক বাস্তবতা, যাকে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো পথ নেই। দুনিয়ার ব্যস্ততার পর মানুষকে যেতেই হবে তার শেষ ঠিকানায়—কবরের নিঃসঙ্গ অন্ধকারে। কবর থেকেই শুরু হয় পরকালের যাত্রা—সৌভাগ্যের পথ অথবা পরীক্ষার পথ। তবে প্রত্যেককেই সেখানে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে—এমন নয়। কিছু মানুষ আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহে কবরের ফিতনা ও প্রশ্ন থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বিভিন্ন হাদিসে এই বিশেষ মর্যাদাপ্রাপ্ত মানুষদের পরিচয় তুলে ধরেছেন। তাদের সম্পর্কে জানা যেমন প্রশান্তি দেয়, তেমনি আমাদের জীবনের লক্ষ্যও পরিষ্কার করে।

১. ইসলামের সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব পালনকালে শহীদ হওয়া রিবাতকারী

হজরত সালমান ফারসি (রা.) জানান, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—সীমান্ত পাহারা দেওয়া এক দিন ও রাতের আমল এক মাস নফল রোজা ও নামাজের চেয়েও উত্তম। মৃত্যুর পরও তাদের সওয়াব অব্যাহত থাকে এবং কবরের পরীক্ষাও তাদের জন্য সরিয়ে নেওয়া হয়।

২. আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হওয়া ব্যক্তি

বিভিন্ন হাদিসে শহিদের জন্য ছয়টি মর্যাদার কথা বলা হয়েছে—

  • প্রথম রক্তবিন্দুর সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমা

  • জান্নাতের আবাসন দেখানো

  • কবরের আজাব থেকে নিরাপত্তা

  • বড় ভীতির দিনেও তারা নিশ্চিন্ত

  • সম্মানের মুকুট পরানো

  • ৭২ জন হুরের সঙ্গে বিবাহ এবং

  • ৭০ জন আত্মীয়ের জন্য সুপারিশ কবুল

শহিদের জন্য কবরের প্রশ্ন থাকে না।

৩. নিয়মিত সুরা মুলক পাঠকারী

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—সুরা মুলক হলো এমন সুরা, যা পড়লে তা কবরের শাস্তি থেকে রক্ষা দেয়। প্রতিদিন এই সুরা পড়া যেন কবরের অন্ধকারে একটুকরো আলো নিয়ে যাওয়ার মতো।

৪. জুমার দিন বা রাতে মৃত্যু হওয়া মুমিন

হাদিসে এসেছে, কেউ যদি জুমার দিন বা রাতের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেন, তবে কবরের ফিতনা থেকে তাকে রক্ষা করা হবে। এটি একটি বড় সৌভাগ্যের নিদর্শন।

৫. পেটে রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু (শহীদের মর্যাদা)

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন—উদরাময় রোগে মৃত ব্যক্তি শহীদের মর্যাদা পান। তাই কবরের প্রশ্ন তাদের ক্ষেত্রেও নেই। একইভাবে আগুনে পুড়ে, পানিতে ডুবে বা দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে শহীদের মর্যাদা পাওয়া যায়।

৬. অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু ও গর্ভে মৃত্যু হওয়া শিশু

ইসলামি আলেমদের মতে, শিশুদের ওপর শরিয়তের দায়িত্ব প্রযোজ্য না হওয়ায় তাদেরকে কবরের বিপদের সম্মুখীন হতে হয় না। গর্ভকালীন মৃত্যু হলেও একই বিধান প্রযোজ্য।

৭. মানসিকভাবে অসামর্থ্য বা বুদ্ধিবিকল ব্যক্তি

যাদের বুদ্ধি-ক্ষমতা নেই, তাদের ওপরও কোনো শরিয়তী দায়িত্ব নেই। তাই তাদের কবরেও প্রশ্ন করা হবে না।

শেষত, দুনিয়ার সব অর্জনের চেয়ে এই মর্যাদা অনেক বড়। কবরের নিরাপত্তা পাওয়া মানে মৃত্যুর পরের কঠিন পরীক্ষায় সফলতা। তাই আমাদের জীবনের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন কাজ করা, যা কবরের অন্ধকারকে আলোয় ভরে দেয়—ঈমান, সৎকর্ম ও আল্লাহর রহমতের মাধ্যমে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৮:৪৬:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
১২৭ বার পড়া হয়েছে

কারা কবরের অন্ধকারে নিরাপদ থাকবেন? হাদিসে বর্ণিত সাত সৌভাগ্যবান

আপডেট সময় ০৮:৪৬:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

মৃত্যু এমন এক বাস্তবতা, যাকে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো পথ নেই। দুনিয়ার ব্যস্ততার পর মানুষকে যেতেই হবে তার শেষ ঠিকানায়—কবরের নিঃসঙ্গ অন্ধকারে। কবর থেকেই শুরু হয় পরকালের যাত্রা—সৌভাগ্যের পথ অথবা পরীক্ষার পথ। তবে প্রত্যেককেই সেখানে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে—এমন নয়। কিছু মানুষ আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহে কবরের ফিতনা ও প্রশ্ন থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বিভিন্ন হাদিসে এই বিশেষ মর্যাদাপ্রাপ্ত মানুষদের পরিচয় তুলে ধরেছেন। তাদের সম্পর্কে জানা যেমন প্রশান্তি দেয়, তেমনি আমাদের জীবনের লক্ষ্যও পরিষ্কার করে।

১. ইসলামের সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব পালনকালে শহীদ হওয়া রিবাতকারী

হজরত সালমান ফারসি (রা.) জানান, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—সীমান্ত পাহারা দেওয়া এক দিন ও রাতের আমল এক মাস নফল রোজা ও নামাজের চেয়েও উত্তম। মৃত্যুর পরও তাদের সওয়াব অব্যাহত থাকে এবং কবরের পরীক্ষাও তাদের জন্য সরিয়ে নেওয়া হয়।

২. আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হওয়া ব্যক্তি

বিভিন্ন হাদিসে শহিদের জন্য ছয়টি মর্যাদার কথা বলা হয়েছে—

  • প্রথম রক্তবিন্দুর সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমা

  • জান্নাতের আবাসন দেখানো

  • কবরের আজাব থেকে নিরাপত্তা

  • বড় ভীতির দিনেও তারা নিশ্চিন্ত

  • সম্মানের মুকুট পরানো

  • ৭২ জন হুরের সঙ্গে বিবাহ এবং

  • ৭০ জন আত্মীয়ের জন্য সুপারিশ কবুল

শহিদের জন্য কবরের প্রশ্ন থাকে না।

৩. নিয়মিত সুরা মুলক পাঠকারী

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—সুরা মুলক হলো এমন সুরা, যা পড়লে তা কবরের শাস্তি থেকে রক্ষা দেয়। প্রতিদিন এই সুরা পড়া যেন কবরের অন্ধকারে একটুকরো আলো নিয়ে যাওয়ার মতো।

৪. জুমার দিন বা রাতে মৃত্যু হওয়া মুমিন

হাদিসে এসেছে, কেউ যদি জুমার দিন বা রাতের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেন, তবে কবরের ফিতনা থেকে তাকে রক্ষা করা হবে। এটি একটি বড় সৌভাগ্যের নিদর্শন।

৫. পেটে রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু (শহীদের মর্যাদা)

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন—উদরাময় রোগে মৃত ব্যক্তি শহীদের মর্যাদা পান। তাই কবরের প্রশ্ন তাদের ক্ষেত্রেও নেই। একইভাবে আগুনে পুড়ে, পানিতে ডুবে বা দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে শহীদের মর্যাদা পাওয়া যায়।

৬. অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু ও গর্ভে মৃত্যু হওয়া শিশু

ইসলামি আলেমদের মতে, শিশুদের ওপর শরিয়তের দায়িত্ব প্রযোজ্য না হওয়ায় তাদেরকে কবরের বিপদের সম্মুখীন হতে হয় না। গর্ভকালীন মৃত্যু হলেও একই বিধান প্রযোজ্য।

৭. মানসিকভাবে অসামর্থ্য বা বুদ্ধিবিকল ব্যক্তি

যাদের বুদ্ধি-ক্ষমতা নেই, তাদের ওপরও কোনো শরিয়তী দায়িত্ব নেই। তাই তাদের কবরেও প্রশ্ন করা হবে না।

শেষত, দুনিয়ার সব অর্জনের চেয়ে এই মর্যাদা অনেক বড়। কবরের নিরাপত্তা পাওয়া মানে মৃত্যুর পরের কঠিন পরীক্ষায় সফলতা। তাই আমাদের জীবনের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন কাজ করা, যা কবরের অন্ধকারকে আলোয় ভরে দেয়—ঈমান, সৎকর্ম ও আল্লাহর রহমতের মাধ্যমে।