ঢাকা ০৮:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo কুমিরের আক্রমণে নিহত কুকুরের ময়নাতদন্ত, তদন্ত চলমান Logo দল টিকিয়ে রাখতে শীর্ষ নেতাদের দেশে ফেরার আহ্বান তৃণমূলের Logo হামলায় আহত মোজতবা খামেনির মুখমণ্ডল বিকৃত, পা ক্ষতিগ্রস্ত Logo ড্রয়ে শিরোপা দৌড়ে আরও পিছিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ Logo সৎ থাকলে দেশ ছাড়ার প্রয়োজন নেই: অনন্ত জলিল Logo সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির ৩৬ পদে শতাধিক আবেদন, আলোচনায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা Logo চীন সফরে তাইওয়ানের বিরোধী নেত্রী, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে একত্রীকরণে জোর Logo টেকনাফে মুরগির খামারে অভিযান, ৫ লাখ ইয়াবা উদ্ধার Logo বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত বাংলাদেশি নারী দিপালী Logo জাতীয় সংসদে পাস হলো ‘সাইবার সুরক্ষা বিল-২০২৬’, বাতিল আগের অধ্যাদেশ

কুমিরের আক্রমণে নিহত কুকুরের ময়নাতদন্ত, তদন্ত চলমান

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারের দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে একটি কুকুর মারা যাওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি ও তদন্ত কমিটি গঠনের পর এবার মৃত কুকুরটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

 

শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে মাজার এলাকায় এই ময়নাতদন্ত করা হয়। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাহেব আলী জানান, কুকুরটির মাথা পরীক্ষার জন্য ঢাকার সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর জানা যাবে কুকুরটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল কিনা।

 

ঘটনাটি ঘটে গত ৮ এপ্রিল বিকেলে, যখন ‘ধলা পাহাড়’ নামে পরিচিত একটি কুমির দিঘির ঘাট থেকে কুকুরটিকে পানির নিচে টেনে নেয়। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নানা ধরনের মন্তব্য ও বিতর্ক শুরু হয়। কেউ দাবি করেন কুকুরটিকে বেঁধে কুমিরের সামনে দেওয়া হয়েছে, আবার কেউ বলেন মাজার কর্তৃপক্ষ কুমিরকে খাবার হিসেবে কুকুর দেয়।

 

তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কুকুরটি আগে থেকেই অসুস্থ ছিল এবং কয়েকজনকে কামড় দেওয়ার পর নিজেই পানির দিকে চলে যায়। পরে পানিতে নামলে কুমিরটি সেটিকে ধরে নেয়। কিছু সময় পর কুকুরটির মরদেহ ভেসে উঠলে তা মাটিচাপা দেওয়া হয়।

 

ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, কুকুরটি পানির ধারে অবস্থান করছিল। একপর্যায়ে গভীর দিকে গেলে কুমিরটি এগিয়ে এসে তাকে আক্রমণ করে।

 

স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় সেখানে ভিড় ছিল এবং কুকুরটি কয়েকজনকে আক্রমণ করেছিল। এমনকি এক শিশুকেও কামড়ানোর অভিযোগ রয়েছে।

 

মাজারের খাদেমরা জানিয়েছেন, কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের সামনে দেওয়া হয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ নেই। ভুল তথ্য ছড়ানোর কারণে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

 

এদিকে জেলা প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

 

উল্লেখ্য, এই দিঘিতে বর্তমানে একটি মাত্র কুমির রয়েছে, যা ২০০৫ সালে আনা কয়েকটি কুমিরের মধ্যে একমাত্র জীবিত।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৬:৩০:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
৬ বার পড়া হয়েছে

কুমিরের আক্রমণে নিহত কুকুরের ময়নাতদন্ত, তদন্ত চলমান

আপডেট সময় ০৬:৩০:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারের দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে একটি কুকুর মারা যাওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি ও তদন্ত কমিটি গঠনের পর এবার মৃত কুকুরটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

 

শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে মাজার এলাকায় এই ময়নাতদন্ত করা হয়। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাহেব আলী জানান, কুকুরটির মাথা পরীক্ষার জন্য ঢাকার সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর জানা যাবে কুকুরটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল কিনা।

 

ঘটনাটি ঘটে গত ৮ এপ্রিল বিকেলে, যখন ‘ধলা পাহাড়’ নামে পরিচিত একটি কুমির দিঘির ঘাট থেকে কুকুরটিকে পানির নিচে টেনে নেয়। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নানা ধরনের মন্তব্য ও বিতর্ক শুরু হয়। কেউ দাবি করেন কুকুরটিকে বেঁধে কুমিরের সামনে দেওয়া হয়েছে, আবার কেউ বলেন মাজার কর্তৃপক্ষ কুমিরকে খাবার হিসেবে কুকুর দেয়।

 

তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কুকুরটি আগে থেকেই অসুস্থ ছিল এবং কয়েকজনকে কামড় দেওয়ার পর নিজেই পানির দিকে চলে যায়। পরে পানিতে নামলে কুমিরটি সেটিকে ধরে নেয়। কিছু সময় পর কুকুরটির মরদেহ ভেসে উঠলে তা মাটিচাপা দেওয়া হয়।

 

ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, কুকুরটি পানির ধারে অবস্থান করছিল। একপর্যায়ে গভীর দিকে গেলে কুমিরটি এগিয়ে এসে তাকে আক্রমণ করে।

 

স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় সেখানে ভিড় ছিল এবং কুকুরটি কয়েকজনকে আক্রমণ করেছিল। এমনকি এক শিশুকেও কামড়ানোর অভিযোগ রয়েছে।

 

মাজারের খাদেমরা জানিয়েছেন, কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের সামনে দেওয়া হয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ নেই। ভুল তথ্য ছড়ানোর কারণে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

 

এদিকে জেলা প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

 

উল্লেখ্য, এই দিঘিতে বর্তমানে একটি মাত্র কুমির রয়েছে, যা ২০০৫ সালে আনা কয়েকটি কুমিরের মধ্যে একমাত্র জীবিত।