জুন-জুলাইয়ে আসতে পারে ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব, জোর লবিংয়ে পদপ্রত্যাশীরা
২০২৪ সালের মার্চে রাকিবুল ইসলামকে সভাপতি ও নাছির উদ্দিনকে সাধারণ সম্পাদক করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কমিটি গঠন করে বিএনপি। দুই বছরের জন্য গঠিত এই কমিটি ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখে। ওই আন্দোলনে ছাত্রদলের প্রায় দেড় শতাধিক নেতাকর্মী প্রাণ হারান বলে জানা যায়।
অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়েও রাজপথে সংগঠনটির শক্ত অবস্থান লক্ষ্য করা গেলেও ছাত্রসংসদ নির্বাচনে তারা প্রত্যাশিত ফল পায়নি। গত মাসে বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় এখন নতুন নেতৃত্ব গঠন নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। দলীয় সূত্র বলছে, আগামী জুন-জুলাইয়ের মধ্যে নতুন কমিটি আসতে পারে।
সম্প্রতি নয়াপল্টনে ছাত্রদলের শীর্ষ পাঁচ নেতার সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ প্রসঙ্গে সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন জানান, নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড নির্ধারণ করা হবে। কারা নেতৃত্বে আসবেন বা আসবেন না—সেসব বিষয় বিবেচনা করে যারা সুযোগ পাবেন না, তাদের অন্যভাবে সংগঠনে সম্পৃক্ত করা হতে পারে।
নতুন কমিটিতে জায়গা পেতে আগ্রহীদের তৎপরতাও বেড়েছে। বিশেষ করে ২০০৮-০৯ ও ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের প্রায় এক ডজন নেতা সক্রিয়ভাবে চেষ্টা চালাচ্ছেন। যদিও তাদের শিক্ষাজীবনের সময়সীমা বর্তমান প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের তুলনায় অনেক পুরোনো। এছাড়া ২০১০-১১ থেকে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের একদল নেতাও নেতৃত্বে আসতে আগ্রহী। এদের অনেকেই বর্তমানে আর নিয়মিত শিক্ষার্থী নন।
তবে বয়স ও অভিজ্ঞতার দিক বিবেচনায় এদের মধ্য থেকেই নেতৃত্ব আসার সম্ভাবনা নিয়ে বিএনপির ভেতরে আলোচনা রয়েছে। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃত্ব নিয়মিত শিক্ষার্থীদের হাতে দেওয়ার চিন্তাভাবনাও রয়েছে। যদিও এখনো সাবেক ছাত্রনেতাদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক মতামত নেননি তারেক রহমান। তবে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সাংগঠনিক গতিশীলতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, যোগ্য ও দক্ষ ব্যক্তিদের নেতৃত্বে আনা হবে এবং এর জন্য একটি নির্দিষ্ট বয়সসীমা নির্ধারণ করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৬-১৭ বছর স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশ না থাকায় কিছু অসঙ্গতি তৈরি হয়েছে, যা ধীরে ধীরে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
অন্যদিকে দলের ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হওয়ার মতো একাধিক যোগ্য প্রার্থী রয়েছে। তবে বয়স, সময়, পরিস্থিতি এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা বিবেচনায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি পুরোনো ও নতুন নেতৃত্বের সমন্বয়ে একটি গতিশীল কমিটি গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দলীয় নেতাদের মতে, নতুন নেতৃত্ব যেই আসুক না কেন, তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সংগঠনের অবস্থান শক্তিশালী করা এবং ইতিবাচক ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করা।






















