ঢাকা ০৫:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প Logo প্রাথমিক শিক্ষকদের নিয়োগ ও বদলিতে জেলা পর্যায়ে নতুন উদ্যোগ Logo দেশ গড়ার যেকোনো পরিকল্পনায় প্রতিবন্ধীদের অংশগ্রহণ জরুরি: জায়মা রহমান Logo শবে বরাতে ঢাকায় আতশবাজি ও পটকা নিষিদ্ধ, জারি ডিএমপির কড়াকড়ি Logo কারাবন্দিদের জন্য প্রথমবার ডাকযোগে ভোটগ্রহণ শুরু, চলবে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত Logo ৫ ঘণ্টার ব্যবধানে আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম, ২২ ক্যারেটের ভরি ছাড়াল ২ লাখ ৬২ হাজার টাকা Logo র‌্যাবের নাম বদল, নতুন নাম ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ Logo বুড়িগঙ্গার পানি খেয়ে মাদকবর্জিত রাখার অঙ্গীকার নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর, ঢাকা-৮ Logo শেরপুরে জামায়াত নেতা হত্যাকাণ্ড: স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আটক Logo নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা: মাঠে দেড় লাখের বেশি পুলিশ, ঝুঁকিপূর্ণ আসনে বাড়তি সতর্কতা

দাদিকে কাছে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

ছবি সংগৃহীত

দাদিকে কাছে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

প্রায় সাড়ে সাত বছর পর ব্যারিস্টার জাইমা রহমান তার দাদি ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে একান্ত সান্নিধ্যে পাওয়ায় খুবই খুশি।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার নাতনী এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একমাত্র কন্যা জাইমা রহমান দাদির পাশাপাশি চাচি শর্মিলা রহমান সিঁথি, দুই চাচাতো বোন জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমানকে কাছে পেয়ে উপভোগ করছেন পরিপূর্ণ এক পারিবারিক জীবন।


জাইমা রহমান তার দাদির বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সবশেষ পারিবারিক পরিবেশের আমেজ উপভোগ করেন ২০১৭ সালে।


বেগম খালেদা জিয়া ২০১৭ সালের জুলাই মাসে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য লন্ডনে গিয়ে তার বড় ছেলে তারেক রহমানের বাসভবনে অবস্থান করেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে এক/এগারো পরবর্তী সময়ে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৭ মার্চ রাতে ঢাকা সেনানিবাসের মইনুল রোডের বাসভবন থেকে যৌথ বাহিনী গ্রেফতার করে।

তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে (রিমান্ড) নেয়া হয়। সে সময় প্রায় ১৮ মাস তাকে কারাগারে থাকতে হয়েছে।

এ সময়ের মধ্যে তারেক রহমানকে ১৩ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এসব মামলায় ধাপে ধাপে তাকে জামিনও দেয়া হয়।

পরবর্তীতে, তিনি ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্তি পান। মুক্তি পাওয়ার ৮ দিন পর একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর তারেক রহমান লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। সেই থেকে তিনি পরিবার নিয়ে লন্ডনে অবস্থান করছেন।

তিনি সেখানে থেকেই বর্তমানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বেগম খালেদা জিয়া কারান্তরীণ হওয়ার পর ২০১৮ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে লন্ডনে বসেই বিএনপিকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসাজনিত কারণে বড় ছেলের প্রবাস জীবন, অপরদিকে আওয়ামী সরকারের একগুঁয়েমি রাজনীতির পরিপ্রেক্ষিতে দেশ ছেড়ে মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে ২০১৫ সালে ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর অকাল-মৃত্যুর শোক বেগম খালেদা জিয়াকে মানসিকভাবে কাতর ও শারীরিকভাবে অসুস্থ করে তুলে।

পরবর্তীতে, ভিত্তিহীন ও মিথ্যা মামলায় দীর্ঘদিন কারাগারে থাকায় সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। সে সময় পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে বিদেশে চিকিৎসার জন্য বারবার আবেদন করা সত্ত্বেও বেগম জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসা করানোর অনুমতি দেয়া হয়নি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং একই দিনে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার দেশ থেকে পলায়নের পরিপ্রেক্ষিতে ওই দিনই (৫ আগস্ট) নির্বাহী আদেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পান।


তখন থেকেই তার বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণের বিষয়ে প্রক্রিয়া শুরু হয়। অবশেষে এ বছরের ৭ জানুয়ারি রাতে তিনি চিকিৎসার উদ্দেশে কাতারের আমিরের দেয়া বিশেষ একটি এয়ারঅ্যাম্বুলেন্সে লন্ডনের পথে যাত্রা করেন।
 
কাতারের দোহায় যাত্রাবিরতি শেষে পরের দিন ৮ জানুয়ারি তিনি ইংল্যান্ডের রাজধানী লন্ডনের হিথ্রো আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছেন। সেখানেই সাড়ে সাত বছর পর ‘মা ও ছেলের’ মধ্যে আনন্দ-অশ্রুর মধ্য দিয়ে ঘটে মহামিলন। পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান ও নাতনী ব্যারিস্টার জাইমা রহমান ‘মা-ছেলের’ আনন্দঘন এই মুহূর্ত প্রত্যক্ষ করেন।

বেগম খালেদা জিয়াকে বিমান বন্দর থেকে সরাসরি মধ্য-পশ্চিম লন্ডনের ‘দ্যা লন্ডন ক্লিনিকে’ নেয়া হয়। সেখানে লিভার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. জন প্যাট্রিক কেনেডির তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলে। যুক্তরাজ্যের আধুনিক ‘চিকিৎসা-ব্যবস্থা সম্বলিত’ অন্যতম এবং একইসঙ্গে ঐতিহাসিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ‘দ্যা লন্ডন ক্লিনিকে’ ১৭ দিন চিকিৎসা গ্রহণ শেষে চিকিৎসকদের পরামর্শে  হাসপাতাল ছেড়ে বেগম খালেদা জিয়া শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে বড় ছেলে তারেক রহমানের বাসভবনে উঠেন।

দীর্ঘ সময় পর দাদিকে কাছে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা জাইমা জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

তিনি সে স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, ‘চিকিৎসা শেষ করে দাদুকে নিয়ে আমরা এখন বাসায়। সবাই দাদুর জন্য দোয়া করবেন যেন তিনি দ্রুত সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন। আপনাদের দোয়া আমাদের জন্য খুবই মূল্যবান।’
 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১০:৩৫:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৫
১১৭ বার পড়া হয়েছে

দাদিকে কাছে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান

আপডেট সময় ১০:৩৫:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৫

দাদিকে কাছে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

প্রায় সাড়ে সাত বছর পর ব্যারিস্টার জাইমা রহমান তার দাদি ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে একান্ত সান্নিধ্যে পাওয়ায় খুবই খুশি।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার নাতনী এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একমাত্র কন্যা জাইমা রহমান দাদির পাশাপাশি চাচি শর্মিলা রহমান সিঁথি, দুই চাচাতো বোন জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমানকে কাছে পেয়ে উপভোগ করছেন পরিপূর্ণ এক পারিবারিক জীবন।


জাইমা রহমান তার দাদির বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সবশেষ পারিবারিক পরিবেশের আমেজ উপভোগ করেন ২০১৭ সালে।


বেগম খালেদা জিয়া ২০১৭ সালের জুলাই মাসে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য লন্ডনে গিয়ে তার বড় ছেলে তারেক রহমানের বাসভবনে অবস্থান করেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে এক/এগারো পরবর্তী সময়ে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৭ মার্চ রাতে ঢাকা সেনানিবাসের মইনুল রোডের বাসভবন থেকে যৌথ বাহিনী গ্রেফতার করে।

তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে (রিমান্ড) নেয়া হয়। সে সময় প্রায় ১৮ মাস তাকে কারাগারে থাকতে হয়েছে।

এ সময়ের মধ্যে তারেক রহমানকে ১৩ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এসব মামলায় ধাপে ধাপে তাকে জামিনও দেয়া হয়।

পরবর্তীতে, তিনি ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্তি পান। মুক্তি পাওয়ার ৮ দিন পর একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর তারেক রহমান লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। সেই থেকে তিনি পরিবার নিয়ে লন্ডনে অবস্থান করছেন।

তিনি সেখানে থেকেই বর্তমানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বেগম খালেদা জিয়া কারান্তরীণ হওয়ার পর ২০১৮ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে লন্ডনে বসেই বিএনপিকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসাজনিত কারণে বড় ছেলের প্রবাস জীবন, অপরদিকে আওয়ামী সরকারের একগুঁয়েমি রাজনীতির পরিপ্রেক্ষিতে দেশ ছেড়ে মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে ২০১৫ সালে ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর অকাল-মৃত্যুর শোক বেগম খালেদা জিয়াকে মানসিকভাবে কাতর ও শারীরিকভাবে অসুস্থ করে তুলে।

পরবর্তীতে, ভিত্তিহীন ও মিথ্যা মামলায় দীর্ঘদিন কারাগারে থাকায় সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। সে সময় পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে বিদেশে চিকিৎসার জন্য বারবার আবেদন করা সত্ত্বেও বেগম জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসা করানোর অনুমতি দেয়া হয়নি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং একই দিনে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার দেশ থেকে পলায়নের পরিপ্রেক্ষিতে ওই দিনই (৫ আগস্ট) নির্বাহী আদেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পান।


তখন থেকেই তার বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণের বিষয়ে প্রক্রিয়া শুরু হয়। অবশেষে এ বছরের ৭ জানুয়ারি রাতে তিনি চিকিৎসার উদ্দেশে কাতারের আমিরের দেয়া বিশেষ একটি এয়ারঅ্যাম্বুলেন্সে লন্ডনের পথে যাত্রা করেন।
 
কাতারের দোহায় যাত্রাবিরতি শেষে পরের দিন ৮ জানুয়ারি তিনি ইংল্যান্ডের রাজধানী লন্ডনের হিথ্রো আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছেন। সেখানেই সাড়ে সাত বছর পর ‘মা ও ছেলের’ মধ্যে আনন্দ-অশ্রুর মধ্য দিয়ে ঘটে মহামিলন। পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান ও নাতনী ব্যারিস্টার জাইমা রহমান ‘মা-ছেলের’ আনন্দঘন এই মুহূর্ত প্রত্যক্ষ করেন।

বেগম খালেদা জিয়াকে বিমান বন্দর থেকে সরাসরি মধ্য-পশ্চিম লন্ডনের ‘দ্যা লন্ডন ক্লিনিকে’ নেয়া হয়। সেখানে লিভার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. জন প্যাট্রিক কেনেডির তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলে। যুক্তরাজ্যের আধুনিক ‘চিকিৎসা-ব্যবস্থা সম্বলিত’ অন্যতম এবং একইসঙ্গে ঐতিহাসিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ‘দ্যা লন্ডন ক্লিনিকে’ ১৭ দিন চিকিৎসা গ্রহণ শেষে চিকিৎসকদের পরামর্শে  হাসপাতাল ছেড়ে বেগম খালেদা জিয়া শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে বড় ছেলে তারেক রহমানের বাসভবনে উঠেন।

দীর্ঘ সময় পর দাদিকে কাছে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা জাইমা জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

তিনি সে স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, ‘চিকিৎসা শেষ করে দাদুকে নিয়ে আমরা এখন বাসায়। সবাই দাদুর জন্য দোয়া করবেন যেন তিনি দ্রুত সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন। আপনাদের দোয়া আমাদের জন্য খুবই মূল্যবান।’