ঢাকা ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo ২২ বছর পর আফকন সেমিফাইনালে মরক্কো, ক্যামেরুনকে হারিয়ে শেষ চারে Logo ইসিতে আপিল শুনানির প্রথম দিনে ৫২ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা Logo সীমানা সংক্রান্ত আপিল বিভাগের আদেশে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের ভোট স্থগিত Logo বিচ্ছেদের বিষয়টি সত্য বলে স্বীকার করলেন তাহসান Logo তামিমকে নিয়ে ওই মন্তব্য করা ঠিক হয়নি—ইফতেখার মিঠু Logo গুলশানে তারেক রহমানের সঙ্গে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের বৈঠক Logo যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক শৃঙ্খলা ভেঙে দিচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর সমালোচনায় জার্মান প্রেসিডেন্ট Logo বিএনপি সরকার হলে খেলোয়াড়দের জন্য ভাতা ও পেনশন চালুর প্রতিশ্রুতি দিলেন দুলু Logo ঢাকা-৯ আসনে তাসনিম জারার মনোনয়ন বৈধতা পেল ইসির আপিলে Logo ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: ইসিতে আপিল শুনানি চলছে

বলিউডে নক্ষত্রপতন: না ফেরার দেশে ‘হি-ম্যান’ ধর্মেন্দ্র

নিজস্ব সংবাদ :

ছবি সংগৃহীত

বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্র আর নেই। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। সম্প্রতি চিকিৎসার অগ্রগতি দেখে পরিবার জানায়, তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। কিন্তু হঠাৎই ২৪ নভেম্বর, সোমবার সকালে এলো মৃত্যুসংবাদ। ৮৯ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন ইন্ডাস্ট্রির এই আইকন। শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন হেমা মালিনী, এষা দেওল, সানি দেওল, অমিতাভ বচ্চন, অভিষেক বচ্চন প্রমুখ। কর্ণ জোহরও শোক জানিয়েছেন।

১৯৬০ সালে ‘দিল ভি তেরা হাম ভি তেরে’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় পা রাখেন ধর্মেন্দ্র। পরবর্তী ছয় দশক ধরে তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রকে উপহার দিয়েছেন বহু স্মরণীয় মুহূর্ত। ‘শোলে’, ‘ইয়াদোঁ কি বারাত’, ‘ফুল অউর পাত্থর’, ‘রাম বলরাম’, ‘চুপকে চুপকে’ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কহানি’—প্রতিটি সিনেমায় তিনি ভক্তদের মুগ্ধ করেছেন। আগামী ডিসেম্বরে মুক্তি পেতে চলেছে তাঁর অভিনীত শেষ সিনেমা ‘ইক্কিস’।

ব্যক্তিজীবনেও ছিল বহু অধ্যায়। মাত্র ১৯ বছর বয়সে তিনি প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌরকে বিয়ে করেন। তাঁদের চার সন্তান—সানি, ববি, অজিতা ও বিজেতা। পরে ১৯৮০ সালে ‘ড্রিমগার্ল’ হেমা মালিনীকে বিয়ে করেন ধর্মেন্দ্র। এষা ও অহনা তাঁদের দুই কন্যা।

ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে পাঁচ বছরে প্রায় ২০টি ছবিতে অভিনয় করলেও বড় সাফল্য আসে ১৯৬৬ সালে ‘ফুল অউর পাত্থর’ দিয়ে। এরপর ‘সত্যকাম’, ‘শোলে’, ‘আঁখে’, ‘কর্তব্য’সহ অসংখ্য ছবিতে অভিনয় করে তিনি বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় নায়কে পরিণত হন। তাঁর মাচো লুক, অ্যাকশন দৃশ্য এবং ক্যারিশমা তাঁকে ‘হি-ম্যান অফ বলিউড’ উপাধি এনে দেয়। অধিকাংশ স্টান্ট তিনি নিজের হাতেই করতেন। ২০১২ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মভূষণ সম্মাননায় ভূষিত করে।

শুধু অভিনয় নয়, রাজনৈতিক অঙ্গনেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। বিজেপির প্রার্থী হিসেবে লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে ২০০৪–২০০৯ সাল পর্যন্ত বিকানের আসনের সাংসদ ছিলেন।

ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণে ভারতীয় চলচ্চিত্রজগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর অবদান ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে চিরদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৪:০৬:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
৫৩ বার পড়া হয়েছে

বলিউডে নক্ষত্রপতন: না ফেরার দেশে ‘হি-ম্যান’ ধর্মেন্দ্র

আপডেট সময় ০৪:০৬:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫

বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্র আর নেই। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। সম্প্রতি চিকিৎসার অগ্রগতি দেখে পরিবার জানায়, তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। কিন্তু হঠাৎই ২৪ নভেম্বর, সোমবার সকালে এলো মৃত্যুসংবাদ। ৮৯ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন ইন্ডাস্ট্রির এই আইকন। শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন হেমা মালিনী, এষা দেওল, সানি দেওল, অমিতাভ বচ্চন, অভিষেক বচ্চন প্রমুখ। কর্ণ জোহরও শোক জানিয়েছেন।

১৯৬০ সালে ‘দিল ভি তেরা হাম ভি তেরে’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় পা রাখেন ধর্মেন্দ্র। পরবর্তী ছয় দশক ধরে তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রকে উপহার দিয়েছেন বহু স্মরণীয় মুহূর্ত। ‘শোলে’, ‘ইয়াদোঁ কি বারাত’, ‘ফুল অউর পাত্থর’, ‘রাম বলরাম’, ‘চুপকে চুপকে’ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কহানি’—প্রতিটি সিনেমায় তিনি ভক্তদের মুগ্ধ করেছেন। আগামী ডিসেম্বরে মুক্তি পেতে চলেছে তাঁর অভিনীত শেষ সিনেমা ‘ইক্কিস’।

ব্যক্তিজীবনেও ছিল বহু অধ্যায়। মাত্র ১৯ বছর বয়সে তিনি প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌরকে বিয়ে করেন। তাঁদের চার সন্তান—সানি, ববি, অজিতা ও বিজেতা। পরে ১৯৮০ সালে ‘ড্রিমগার্ল’ হেমা মালিনীকে বিয়ে করেন ধর্মেন্দ্র। এষা ও অহনা তাঁদের দুই কন্যা।

ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে পাঁচ বছরে প্রায় ২০টি ছবিতে অভিনয় করলেও বড় সাফল্য আসে ১৯৬৬ সালে ‘ফুল অউর পাত্থর’ দিয়ে। এরপর ‘সত্যকাম’, ‘শোলে’, ‘আঁখে’, ‘কর্তব্য’সহ অসংখ্য ছবিতে অভিনয় করে তিনি বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় নায়কে পরিণত হন। তাঁর মাচো লুক, অ্যাকশন দৃশ্য এবং ক্যারিশমা তাঁকে ‘হি-ম্যান অফ বলিউড’ উপাধি এনে দেয়। অধিকাংশ স্টান্ট তিনি নিজের হাতেই করতেন। ২০১২ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মভূষণ সম্মাননায় ভূষিত করে।

শুধু অভিনয় নয়, রাজনৈতিক অঙ্গনেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। বিজেপির প্রার্থী হিসেবে লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে ২০০৪–২০০৯ সাল পর্যন্ত বিকানের আসনের সাংসদ ছিলেন।

ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণে ভারতীয় চলচ্চিত্রজগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর অবদান ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে চিরদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।