ঢাকা ০৬:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo জাটকা সংরক্ষণে ৭–১৩ এপ্রিল বিশেষ সপ্তাহ, ১৫ এপ্রিল থেকে ৫৮ দিনের মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা Logo ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহ, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাইকমিশনারের বৈঠক Logo হামের উপসর্গে একদিনে ১০ মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৫৪ Logo জ্বালানিসংকটের প্রভাবে জাহাজ ভাড়া বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ Logo কিশোরগঞ্জে তুলার গুদামে অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস Logo সংবিধান নিয়ে খালেদা জিয়ার বক্তব্য ছিল রূপক—সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo বাইব্যাক শর্তে নিকো পাজকে ফেরাতে চায় রিয়াল মাদ্রিদ Logo সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরের সার্ভার রুমে আগুন, ইমিগ্রেশন সেবা বন্ধ Logo তদন্ত কমিটির ডাকে সাড়া না দেওয়ার ব্যাখ্যা দিলেন আসিফ মাহমুদ Logo ভারতীয় সীমান্তে বাংলাদেশি যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ পড়ে থাকার অভিযোগ

মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডাদেশ

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

ছবি সংগৃহীত

২০২৪ সালের জুলাই মাসে দেশজুড়ে গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সোমবার (১৭ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। মামলার দ্বিতীয় অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং প্রথম অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

রায়ে ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেছে যে, শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এছাড়াও আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধেও অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে। চৌধুরী মামুন রাজসাক্ষী হিসেবে সত্য উদঘাটনে সহায়তা করায় তার সর্বোচ্চ শাস্তি কমানো হবে।

রায় ঘোষণার আগে দুপুর ১২টার পর ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায়ের সংক্ষিপ্ত অংশ পাঠ করেন আদালত। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠিত হয়। পুনর্গঠনের পর প্রথম বিবিধ মামলা হিসেবে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এ মামলার বিচার শুরু হয়। ১৭ অক্টোবর ২০২৪ মামলার বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় এবং সেদিনই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

প্রাথমিকভাবে একমাত্র আসামি হলেও পরে ১৬ মার্চ ২০২৫ এ চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকেও মামলার আওতায় আনা হয়। তদন্ত শেষে প্রসিকিউশন মোট পাঁচটি অভিযোগ আনে, যা ৮ হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। ১ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ আদালতে দাখিল করা হয় এবং ১০ জুলাই অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়।

মামলার এক পর্যায়ে চৌধুরী মামুন দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হতে আবেদন করেন, যা আদালত মঞ্জুর করে। চূড়ান্ত যুক্তিতর্কে অ্যাটর্নি জেনারেল ও প্রধান প্রসিকিউটর শেখ হাসিনাসহ আসাদুজ্জামান খানের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন, অন্যদিকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী তাদের খালাস চান। আদালত ১৩ নভেম্বর রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করে।

অভিযোগসমূহের সারাংশ:

১. প্রথম অভিযোগ: ১৪ জুলাই সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার ‘রাজাকারের বাচ্চা’ মন্তব্যের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলায় প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিহত ও ২৫ হাজার আহত হয়।

২. দ্বিতীয় অভিযোগ: শেখ হাসিনা প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেন, যা তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপির মাধ্যমে কার্যকর করা হয়। এতে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

৩. তৃতীয় অভিযোগ: রংপুরে আবু সাঈদ নামে এক ছাত্রকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

৪. চতুর্থ অভিযোগ: ঢাকার চানখাঁরপুল এলাকায় ছয়জন আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

৫. পঞ্চম অভিযোগ: আশুলিয়ায় ছয়জনকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৩:১১:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫
৬৫ বার পড়া হয়েছে

মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডাদেশ

আপডেট সময় ০৩:১১:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫

২০২৪ সালের জুলাই মাসে দেশজুড়ে গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সোমবার (১৭ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। মামলার দ্বিতীয় অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং প্রথম অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

রায়ে ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেছে যে, শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এছাড়াও আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধেও অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে। চৌধুরী মামুন রাজসাক্ষী হিসেবে সত্য উদঘাটনে সহায়তা করায় তার সর্বোচ্চ শাস্তি কমানো হবে।

রায় ঘোষণার আগে দুপুর ১২টার পর ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায়ের সংক্ষিপ্ত অংশ পাঠ করেন আদালত। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠিত হয়। পুনর্গঠনের পর প্রথম বিবিধ মামলা হিসেবে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এ মামলার বিচার শুরু হয়। ১৭ অক্টোবর ২০২৪ মামলার বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় এবং সেদিনই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

প্রাথমিকভাবে একমাত্র আসামি হলেও পরে ১৬ মার্চ ২০২৫ এ চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকেও মামলার আওতায় আনা হয়। তদন্ত শেষে প্রসিকিউশন মোট পাঁচটি অভিযোগ আনে, যা ৮ হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। ১ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ আদালতে দাখিল করা হয় এবং ১০ জুলাই অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়।

মামলার এক পর্যায়ে চৌধুরী মামুন দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হতে আবেদন করেন, যা আদালত মঞ্জুর করে। চূড়ান্ত যুক্তিতর্কে অ্যাটর্নি জেনারেল ও প্রধান প্রসিকিউটর শেখ হাসিনাসহ আসাদুজ্জামান খানের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন, অন্যদিকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী তাদের খালাস চান। আদালত ১৩ নভেম্বর রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করে।

অভিযোগসমূহের সারাংশ:

১. প্রথম অভিযোগ: ১৪ জুলাই সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার ‘রাজাকারের বাচ্চা’ মন্তব্যের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলায় প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিহত ও ২৫ হাজার আহত হয়।

২. দ্বিতীয় অভিযোগ: শেখ হাসিনা প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেন, যা তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপির মাধ্যমে কার্যকর করা হয়। এতে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

৩. তৃতীয় অভিযোগ: রংপুরে আবু সাঈদ নামে এক ছাত্রকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

৪. চতুর্থ অভিযোগ: ঢাকার চানখাঁরপুল এলাকায় ছয়জন আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

৫. পঞ্চম অভিযোগ: আশুলিয়ায় ছয়জনকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।