ঢাকা ০৫:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo মোস্তাফিজের হাঁটুর চোট নিয়ে আপডেট Logo হামলার ঠিক আগে কক্ষ ছাড়ায় অল্পের জন্য রক্ষা পান মোজতবা খামেনি Logo ঈদে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনের প্রাণহানি Logo জনকল্যাণে কাজ করে দৃষ্টান্ত গড়বে বিরোধীদল: জামায়াত আমির Logo আজ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৬তম জন্মবার্ষিকী Logo ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা সরকারের Logo ট্রাম্প চাইলে পারস্য উপসাগরে জাহাজ পাঠাতে পারেন : ইরানের কড়া বার্তা Logo আগামী বছর থেকে স্কুলে ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি আর থাকবে না Logo বাংলাদেশ-ভারতের অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা Logo হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ইস্যুতে চীনের সহায়তা চাইছেন ট্রাম্প

মোস্তাফিজ ইস্যুতে বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ শশী থারুর, বাংলাদেশকে পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনায় আপত্তি

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

ছবি সংগৃহীত

আইপিএল থেকে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার নির্দেশকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার সদস্য শশী থারুর। ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বিসিসিআইয়ের এই সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক ও নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেন।

থারুর স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশকে পাকিস্তানের সঙ্গে এক করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। তার মতে, বাংলাদেশ কখনো সীমান্ত দিয়ে সন্ত্রাসী পাঠায়নি এবং দুই দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্কও সম্পূর্ণ ভিন্ন। কূটনৈতিক দিক থেকেও বাংলাদেশের অবস্থান পাকিস্তানের মতো নয়। তাই রাজনৈতিক পরিস্থিতির অজুহাতে দুটি আলাদা দেশকে একইভাবে বিবেচনা করা ভুল।

মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে ‘অপ্রয়োজনীয় রাজনীতিকরণ’ আখ্যা দিয়ে থারুর বলেন, খেলাধুলা ও রাজনীতি এক জিনিস নয়। শুধুমাত্র ক্রিকেটের দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে এই সিদ্ধান্তের কোনো যুক্তি খুঁজে পাওয়া যায় না। বিসিসিআই নিজেই যে খেলোয়াড়দের তালিকা থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে দল গঠনের সুযোগ দিয়েছে, সেখানে মোস্তাফিজ থাকলে তাকে নেওয়ার কারণে কোনো দলের দোষ হতে পারে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরেক সাক্ষাৎকারে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আসলে কাকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে—একটি দেশ, একজন ব্যক্তি নাকি তার ধর্মকে? তার মতে, বিষয়টি আরও পরিষ্কার করা দরকার।

বর্তমানে বিসিসিআই ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ভারত-পাকিস্তানের রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট বন্ধ রয়েছে এবং পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা আইপিএলে খেলতে পারেন না। তবে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রেও এমন সিদ্ধান্ত আসায় হতাশা প্রকাশ করেন থারুর।

বিসিসিআইয়ের নির্দেশনা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তিনি আরও প্রশ্ন করেন, নিলামে যদি বাংলাদেশের হিন্দু ক্রিকেটার লিটন দাস বা সৌম্য সরকার নির্বাচিত হতেন, সেক্ষেত্রেও কি তাদের আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া হতো?

থারুর বলেন, তার নৈতিক দিক থেকেও এই ঘটনায় আপত্তি রয়েছে। কেন খেলাধুলা, বিশেষ করে ক্রিকেটকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষোভ ও রাজনৈতিক চাপ বহন করতে হবে—এ প্রশ্ন তোলেন তিনি। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বহুস্তরবিশিষ্ট হলেও সব চাপ এসে পড়ে ক্রিকেটের ওপর। অথচ মোস্তাফিজ কখনো ঘৃণামূলক বক্তব্য দেননি কিংবা ভারতের বিরুদ্ধে বা বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘুদের বিষয়ে কোনো বিরূপ মন্তব্য করেননি। তিনি একজন পেশাদার ক্রীড়াবিদ, তাকে রাজনৈতিক বিতর্কে টেনে আনা অন্যায় বলেও মন্তব্য করেন থারুর।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০১:৩৩:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬
৯৯ বার পড়া হয়েছে

মোস্তাফিজ ইস্যুতে বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ শশী থারুর, বাংলাদেশকে পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনায় আপত্তি

আপডেট সময় ০১:৩৩:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

আইপিএল থেকে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার নির্দেশকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার সদস্য শশী থারুর। ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বিসিসিআইয়ের এই সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক ও নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেন।

থারুর স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশকে পাকিস্তানের সঙ্গে এক করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। তার মতে, বাংলাদেশ কখনো সীমান্ত দিয়ে সন্ত্রাসী পাঠায়নি এবং দুই দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্কও সম্পূর্ণ ভিন্ন। কূটনৈতিক দিক থেকেও বাংলাদেশের অবস্থান পাকিস্তানের মতো নয়। তাই রাজনৈতিক পরিস্থিতির অজুহাতে দুটি আলাদা দেশকে একইভাবে বিবেচনা করা ভুল।

মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে ‘অপ্রয়োজনীয় রাজনীতিকরণ’ আখ্যা দিয়ে থারুর বলেন, খেলাধুলা ও রাজনীতি এক জিনিস নয়। শুধুমাত্র ক্রিকেটের দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে এই সিদ্ধান্তের কোনো যুক্তি খুঁজে পাওয়া যায় না। বিসিসিআই নিজেই যে খেলোয়াড়দের তালিকা থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে দল গঠনের সুযোগ দিয়েছে, সেখানে মোস্তাফিজ থাকলে তাকে নেওয়ার কারণে কোনো দলের দোষ হতে পারে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরেক সাক্ষাৎকারে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আসলে কাকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে—একটি দেশ, একজন ব্যক্তি নাকি তার ধর্মকে? তার মতে, বিষয়টি আরও পরিষ্কার করা দরকার।

বর্তমানে বিসিসিআই ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ভারত-পাকিস্তানের রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট বন্ধ রয়েছে এবং পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা আইপিএলে খেলতে পারেন না। তবে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রেও এমন সিদ্ধান্ত আসায় হতাশা প্রকাশ করেন থারুর।

বিসিসিআইয়ের নির্দেশনা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তিনি আরও প্রশ্ন করেন, নিলামে যদি বাংলাদেশের হিন্দু ক্রিকেটার লিটন দাস বা সৌম্য সরকার নির্বাচিত হতেন, সেক্ষেত্রেও কি তাদের আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া হতো?

থারুর বলেন, তার নৈতিক দিক থেকেও এই ঘটনায় আপত্তি রয়েছে। কেন খেলাধুলা, বিশেষ করে ক্রিকেটকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষোভ ও রাজনৈতিক চাপ বহন করতে হবে—এ প্রশ্ন তোলেন তিনি। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বহুস্তরবিশিষ্ট হলেও সব চাপ এসে পড়ে ক্রিকেটের ওপর। অথচ মোস্তাফিজ কখনো ঘৃণামূলক বক্তব্য দেননি কিংবা ভারতের বিরুদ্ধে বা বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘুদের বিষয়ে কোনো বিরূপ মন্তব্য করেননি। তিনি একজন পেশাদার ক্রীড়াবিদ, তাকে রাজনৈতিক বিতর্কে টেনে আনা অন্যায় বলেও মন্তব্য করেন থারুর।