ঢাকা ০১:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আবুল হাসানকে অব্যাহতি, ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ Logo ইডেন কলেজ ছাত্রলীগ নেত্রী তামান্না জেসমিন রিভার জামিন, হাইকোর্টের রুল জারি Logo জাটকা সংরক্ষণে ৭–১৩ এপ্রিল বিশেষ সপ্তাহ, ১৫ এপ্রিল থেকে ৫৮ দিনের মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা Logo ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহ, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাইকমিশনারের বৈঠক Logo হামের উপসর্গে একদিনে ১০ মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৫৪ Logo জ্বালানিসংকটের প্রভাবে জাহাজ ভাড়া বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ Logo কিশোরগঞ্জে তুলার গুদামে অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস Logo সংবিধান নিয়ে খালেদা জিয়ার বক্তব্য ছিল রূপক—সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo বাইব্যাক শর্তে নিকো পাজকে ফেরাতে চায় রিয়াল মাদ্রিদ Logo সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরের সার্ভার রুমে আগুন, ইমিগ্রেশন সেবা বন্ধ

মোস্তাফিজ ইস্যুতে বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ শশী থারুর, বাংলাদেশকে পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনায় আপত্তি

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

ছবি সংগৃহীত

আইপিএল থেকে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার নির্দেশকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার সদস্য শশী থারুর। ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বিসিসিআইয়ের এই সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক ও নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেন।

থারুর স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশকে পাকিস্তানের সঙ্গে এক করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। তার মতে, বাংলাদেশ কখনো সীমান্ত দিয়ে সন্ত্রাসী পাঠায়নি এবং দুই দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্কও সম্পূর্ণ ভিন্ন। কূটনৈতিক দিক থেকেও বাংলাদেশের অবস্থান পাকিস্তানের মতো নয়। তাই রাজনৈতিক পরিস্থিতির অজুহাতে দুটি আলাদা দেশকে একইভাবে বিবেচনা করা ভুল।

মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে ‘অপ্রয়োজনীয় রাজনীতিকরণ’ আখ্যা দিয়ে থারুর বলেন, খেলাধুলা ও রাজনীতি এক জিনিস নয়। শুধুমাত্র ক্রিকেটের দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে এই সিদ্ধান্তের কোনো যুক্তি খুঁজে পাওয়া যায় না। বিসিসিআই নিজেই যে খেলোয়াড়দের তালিকা থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে দল গঠনের সুযোগ দিয়েছে, সেখানে মোস্তাফিজ থাকলে তাকে নেওয়ার কারণে কোনো দলের দোষ হতে পারে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরেক সাক্ষাৎকারে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আসলে কাকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে—একটি দেশ, একজন ব্যক্তি নাকি তার ধর্মকে? তার মতে, বিষয়টি আরও পরিষ্কার করা দরকার।

বর্তমানে বিসিসিআই ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ভারত-পাকিস্তানের রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট বন্ধ রয়েছে এবং পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা আইপিএলে খেলতে পারেন না। তবে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রেও এমন সিদ্ধান্ত আসায় হতাশা প্রকাশ করেন থারুর।

বিসিসিআইয়ের নির্দেশনা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তিনি আরও প্রশ্ন করেন, নিলামে যদি বাংলাদেশের হিন্দু ক্রিকেটার লিটন দাস বা সৌম্য সরকার নির্বাচিত হতেন, সেক্ষেত্রেও কি তাদের আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া হতো?

থারুর বলেন, তার নৈতিক দিক থেকেও এই ঘটনায় আপত্তি রয়েছে। কেন খেলাধুলা, বিশেষ করে ক্রিকেটকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষোভ ও রাজনৈতিক চাপ বহন করতে হবে—এ প্রশ্ন তোলেন তিনি। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বহুস্তরবিশিষ্ট হলেও সব চাপ এসে পড়ে ক্রিকেটের ওপর। অথচ মোস্তাফিজ কখনো ঘৃণামূলক বক্তব্য দেননি কিংবা ভারতের বিরুদ্ধে বা বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘুদের বিষয়ে কোনো বিরূপ মন্তব্য করেননি। তিনি একজন পেশাদার ক্রীড়াবিদ, তাকে রাজনৈতিক বিতর্কে টেনে আনা অন্যায় বলেও মন্তব্য করেন থারুর।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০১:৩৩:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬
১৩৬ বার পড়া হয়েছে

মোস্তাফিজ ইস্যুতে বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ শশী থারুর, বাংলাদেশকে পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনায় আপত্তি

আপডেট সময় ০১:৩৩:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

আইপিএল থেকে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার নির্দেশকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার সদস্য শশী থারুর। ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বিসিসিআইয়ের এই সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক ও নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেন।

থারুর স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশকে পাকিস্তানের সঙ্গে এক করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। তার মতে, বাংলাদেশ কখনো সীমান্ত দিয়ে সন্ত্রাসী পাঠায়নি এবং দুই দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্কও সম্পূর্ণ ভিন্ন। কূটনৈতিক দিক থেকেও বাংলাদেশের অবস্থান পাকিস্তানের মতো নয়। তাই রাজনৈতিক পরিস্থিতির অজুহাতে দুটি আলাদা দেশকে একইভাবে বিবেচনা করা ভুল।

মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে ‘অপ্রয়োজনীয় রাজনীতিকরণ’ আখ্যা দিয়ে থারুর বলেন, খেলাধুলা ও রাজনীতি এক জিনিস নয়। শুধুমাত্র ক্রিকেটের দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে এই সিদ্ধান্তের কোনো যুক্তি খুঁজে পাওয়া যায় না। বিসিসিআই নিজেই যে খেলোয়াড়দের তালিকা থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে দল গঠনের সুযোগ দিয়েছে, সেখানে মোস্তাফিজ থাকলে তাকে নেওয়ার কারণে কোনো দলের দোষ হতে পারে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরেক সাক্ষাৎকারে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আসলে কাকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে—একটি দেশ, একজন ব্যক্তি নাকি তার ধর্মকে? তার মতে, বিষয়টি আরও পরিষ্কার করা দরকার।

বর্তমানে বিসিসিআই ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ভারত-পাকিস্তানের রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট বন্ধ রয়েছে এবং পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা আইপিএলে খেলতে পারেন না। তবে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রেও এমন সিদ্ধান্ত আসায় হতাশা প্রকাশ করেন থারুর।

বিসিসিআইয়ের নির্দেশনা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তিনি আরও প্রশ্ন করেন, নিলামে যদি বাংলাদেশের হিন্দু ক্রিকেটার লিটন দাস বা সৌম্য সরকার নির্বাচিত হতেন, সেক্ষেত্রেও কি তাদের আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া হতো?

থারুর বলেন, তার নৈতিক দিক থেকেও এই ঘটনায় আপত্তি রয়েছে। কেন খেলাধুলা, বিশেষ করে ক্রিকেটকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষোভ ও রাজনৈতিক চাপ বহন করতে হবে—এ প্রশ্ন তোলেন তিনি। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বহুস্তরবিশিষ্ট হলেও সব চাপ এসে পড়ে ক্রিকেটের ওপর। অথচ মোস্তাফিজ কখনো ঘৃণামূলক বক্তব্য দেননি কিংবা ভারতের বিরুদ্ধে বা বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘুদের বিষয়ে কোনো বিরূপ মন্তব্য করেননি। তিনি একজন পেশাদার ক্রীড়াবিদ, তাকে রাজনৈতিক বিতর্কে টেনে আনা অন্যায় বলেও মন্তব্য করেন থারুর।