ঢাকা ০২:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo নেপালকে ৯ উইকেটে হারিয়ে টানা তৃতীয় জয়ে সুপার এইটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ Logo বাড্ডায় নাহিদ ইসলামের বাসায় তারেক রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৫৯.৪৪%: শীর্ষে বিএনপি, ১০ দলের ভোট শূন্য Logo যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ইয়েমেনি শরণার্থীদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ, সময় ৬০ দিন Logo বিএনপির নির্বাচনী জয়ে তারেক রহমানকে বাংলাদেশ খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশনের অভিনন্দন Logo ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ভোটের হার ও শপথসূচি জানাল নির্বাচন কমিশন Logo থাইল্যান্ড ও ফিলিপিন্সের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ ছাড়াই এশিয়ান কাপে যাচ্ছে বাংলাদেশ Logo হাইকোর্ট নির্দেশ দিলেন পুরো রমজান মাস স্কুল বন্ধ রাখার Logo রমজানকে সামনে রেখে দেশ-বিদেশের মুসলিমদের শুভেচ্ছা প্রধান উপদেষ্টার Logo জুলাই গণহত্যা মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পাঁচজনের রায় ৪ মার্চ

রেকর্ড ভাঙা গাড়ি আমদানি, হঠাৎ এত গাড়ি কিনছে কারা?

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

ছবি সংগৃহীত

গত ছয় মাসে চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমস দিয়ে ৭ হাজারের বেশি গাড়ি খালাস হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। এই সময়ে ৬ হাজার ৬৫১টি গাড়ি ছাড়ের বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা, যা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, নির্বাচনের আগমুহূর্তে চাহিদা বাড়ায় গাড়ি আমদানি ও ডেলিভারি—দুটোই দ্রুত বেড়েছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের কার শেড গেটে সারিবদ্ধ গাড়ির দৃশ্য নিয়মিত দেখা যাচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০টি গাড়ি ডেলিভারি নিচ্ছেন আমদানিকারকরা।

বন্দর সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের শুরুতে জুলাই মাসে মাত্র ৪৩৯টি গাড়ি আমদানি হলেও আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৫০৫টিতে। ডিসেম্বর মাসে আমদানি হয়েছে আরও ১ হাজার ৫৮টি গাড়ি। ছয় মাসে মোট ১৬টি রো-রো জাহাজে করে ৮৪১টি নতুন ও ৬ হাজার ২২৫টি রিকন্ডিশন গাড়ি দেশে এসেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক ওমর ফারুক জানান, বর্তমানে বন্দরে গাড়ির অবস্থানকাল কমে এসেছে। এখন বন্দরে থাকা মোট গাড়ির সংখ্যা ৪৭১টি, যার বেশিরভাগই ৩০ দিনের কম সময় ধরে রয়েছে। দ্রুত নিলাম কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় আমদানিকারকরা আর ডিউটি কমার আশায় গাড়ি ফেলে রাখতে পারছেন না, ফলে দ্রুত ডেলিভারি নিচ্ছেন।

নিয়ম অনুযায়ী, ৩০ দিনের মধ্যে ছাড় না নিলে গাড়ি নিলামের জন্য কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে নিলামযোগ্য একেবারে নতুন গাড়ির সংখ্যা ১০৩টি।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে গাড়ি ডেলিভারিও হয়েছে রেকর্ড পরিমাণে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এবার ১ হাজার ৩৪টি গাড়ি বেশি ছাড় হয়েছে এবং রাজস্ব আদায় বেড়েছে ১২৪ কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন বলেন, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সূচকের উন্নতির ফলে গাড়ি আমদানির প্রবণতা বেড়েছে। পাশাপাশি বিত্তবানদের মধ্যে বিলাসী পণ্যের চাহিদাও বাড়ছে।

বর্তমানে বন্দরের দুটি কার শেডে ১ হাজার ২৫০টি গাড়ি রাখার সক্ষমতা থাকলেও ডেলিভারির অপেক্ষায় রয়েছে মাত্র ৪৭১টি গাড়ি। কয়েক মাস আগেও এই সংখ্যা দেড় হাজার ছাড়িয়ে যেত। ব্যবসায়ীদের মতে, বাড়তি ট্যারিফ এড়াতেই এখন দ্রুত গাড়ি ছাড় করানো হচ্ছে।

বারভিডার সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান জানান, ট্যারিফ বৃদ্ধি পাওয়ায় ওয়ারফেন্ড ও গুদাম ভাড়া দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। এ কারণে আমদানির পরপরই গাড়ি ডেলিভারি নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ব্যক্তিগত শখের চেয়ে করপোরেট ক্রেতাদের গাড়ি কেনার হার বেশি।

জাপানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে বছরে ২০ হাজারের বেশি গাড়ি আমদানি হয়। তুলনামূলক কম ট্যারিফের কারণে এসব গাড়ির বড় একটি অংশ খালাস হয় মোংলা বন্দরের মাধ্যমে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০১:০৬:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
২৭ বার পড়া হয়েছে

রেকর্ড ভাঙা গাড়ি আমদানি, হঠাৎ এত গাড়ি কিনছে কারা?

আপডেট সময় ০১:০৬:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

গত ছয় মাসে চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমস দিয়ে ৭ হাজারের বেশি গাড়ি খালাস হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। এই সময়ে ৬ হাজার ৬৫১টি গাড়ি ছাড়ের বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা, যা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, নির্বাচনের আগমুহূর্তে চাহিদা বাড়ায় গাড়ি আমদানি ও ডেলিভারি—দুটোই দ্রুত বেড়েছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের কার শেড গেটে সারিবদ্ধ গাড়ির দৃশ্য নিয়মিত দেখা যাচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০টি গাড়ি ডেলিভারি নিচ্ছেন আমদানিকারকরা।

বন্দর সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের শুরুতে জুলাই মাসে মাত্র ৪৩৯টি গাড়ি আমদানি হলেও আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৫০৫টিতে। ডিসেম্বর মাসে আমদানি হয়েছে আরও ১ হাজার ৫৮টি গাড়ি। ছয় মাসে মোট ১৬টি রো-রো জাহাজে করে ৮৪১টি নতুন ও ৬ হাজার ২২৫টি রিকন্ডিশন গাড়ি দেশে এসেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক ওমর ফারুক জানান, বর্তমানে বন্দরে গাড়ির অবস্থানকাল কমে এসেছে। এখন বন্দরে থাকা মোট গাড়ির সংখ্যা ৪৭১টি, যার বেশিরভাগই ৩০ দিনের কম সময় ধরে রয়েছে। দ্রুত নিলাম কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় আমদানিকারকরা আর ডিউটি কমার আশায় গাড়ি ফেলে রাখতে পারছেন না, ফলে দ্রুত ডেলিভারি নিচ্ছেন।

নিয়ম অনুযায়ী, ৩০ দিনের মধ্যে ছাড় না নিলে গাড়ি নিলামের জন্য কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে নিলামযোগ্য একেবারে নতুন গাড়ির সংখ্যা ১০৩টি।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে গাড়ি ডেলিভারিও হয়েছে রেকর্ড পরিমাণে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এবার ১ হাজার ৩৪টি গাড়ি বেশি ছাড় হয়েছে এবং রাজস্ব আদায় বেড়েছে ১২৪ কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন বলেন, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সূচকের উন্নতির ফলে গাড়ি আমদানির প্রবণতা বেড়েছে। পাশাপাশি বিত্তবানদের মধ্যে বিলাসী পণ্যের চাহিদাও বাড়ছে।

বর্তমানে বন্দরের দুটি কার শেডে ১ হাজার ২৫০টি গাড়ি রাখার সক্ষমতা থাকলেও ডেলিভারির অপেক্ষায় রয়েছে মাত্র ৪৭১টি গাড়ি। কয়েক মাস আগেও এই সংখ্যা দেড় হাজার ছাড়িয়ে যেত। ব্যবসায়ীদের মতে, বাড়তি ট্যারিফ এড়াতেই এখন দ্রুত গাড়ি ছাড় করানো হচ্ছে।

বারভিডার সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান জানান, ট্যারিফ বৃদ্ধি পাওয়ায় ওয়ারফেন্ড ও গুদাম ভাড়া দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। এ কারণে আমদানির পরপরই গাড়ি ডেলিভারি নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ব্যক্তিগত শখের চেয়ে করপোরেট ক্রেতাদের গাড়ি কেনার হার বেশি।

জাপানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে বছরে ২০ হাজারের বেশি গাড়ি আমদানি হয়। তুলনামূলক কম ট্যারিফের কারণে এসব গাড়ির বড় একটি অংশ খালাস হয় মোংলা বন্দরের মাধ্যমে।