সংসদের প্রথম অধিবেশনেই শব্দযন্ত্রে বিপত্তি, হেডফোন নিয়ে বিতর্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শুরুতেই শব্দব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দেয়, যার কারণে অধিবেশন শুরুতে বিলম্ব ঘটে। একই সঙ্গে ব্যবহৃত হেডফোন নিয়েও আপত্তি ওঠে সংসদ সদস্যদের মধ্যে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্যবহৃত হেডফোনগুলো দামি ও উন্নতমানের হলেও সেগুলো মূলত গান শোনার জন্য তৈরি, কনফারেন্স ব্যবহারের জন্য নয়।
প্রকল্পের পরামর্শক আগে থেকেই হালকা ও কনফারেন্স উপযোগী হেডফোন ব্যবহারের সুপারিশ করেছিলেন, যা আগে সংসদে ব্যবহৃতও হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান ব্যবস্থায় দুই দিনের অধিবেশনেই এমপিরা অস্বস্তির মুখে পড়েছেন এবং দ্রুত হেডফোন পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন। এ পরিবর্তনে প্রায় অর্ধকোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে। উল্লেখ্য, মাত্র ছয় মাস আগে প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে সংসদের শব্দব্যবস্থা সংস্কার করা হয়েছিল।
জাতীয় সংসদের কারিগরি বিষয় তদারকি করে গণপূর্ত বিভাগ, যারা শুরুতে এ প্রকল্পের জন্য ২৩ কোটি টাকার প্রস্তাব দিয়েছিল। পরে বিদেশি বিশেষজ্ঞ লারস ভিডেক্যামকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি পুরো সিস্টেম পরিবর্তনের বদলে শুধু নষ্ট বা হারিয়ে যাওয়া যন্ত্রাংশ পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পরামর্শ দেন।
পরবর্তীতে ৩ কোটি ৮১ লাখ টাকার প্রস্তাবে কাজটি পায় আমানত এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৫৩ লাখ ৫০ হাজার টাকায় ৪২৮টি হেডফোন সরবরাহ করে, প্রতিটির দাম প্রায় সাড়ে ১২ হাজার টাকা। গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহবুবুল হক চৌধুরী জানান, বিদেশি বিশেষজ্ঞের মতামতের ভিত্তিতেই বিশ্বখ্যাত শুরে ব্র্যান্ডের হেডফোন সংযোজন করা হয়েছে, যা উচ্চমানের পণ্য।
তবে পরামর্শক লারস ভিডেক্যাম ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট এই ব্র্যান্ডের হেডফোন কেনার পরামর্শ তিনি দেননি; বরং হালকা ও কনফারেন্স উপযোগী কিছু মডেলের সুপারিশ করেছিলেন।
এদিকে, কাজটি আমানত এন্টারপ্রাইজকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, কারণ দরপত্রে অংশ নেওয়া অন্য কিছু প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির মালিক রিফাত রহমান বলেন, তারা কাজের মান নিশ্চিত করতে বিদেশি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করেছিলেন এবং তাদের পরামর্শেই শুরে পণ্য ব্যবহার করা হয়েছে।
গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলীরা দাবি করেন, সংস্কারের পর ৫ থেকে ৬ মাস ধরে সাউন্ড সিস্টেম পরীক্ষা করা হয়েছে এবং তখন কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি। বরং ব্যয় কমিয়ে রাষ্ট্রের অর্থ সাশ্রয় করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন জানান, হেডফোনগুলো অনুমোদিত এজেন্টের মাধ্যমে কেনা হয়েছে এবং সব নথিপত্র সংরক্ষিত আছে।
অন্যদিকে, দীর্ঘ চার দশকের অভিজ্ঞ প্রকৌশলী জাহিদুর রহিম জোয়ার্দার মনে করেন, এখানে মূল সমস্যা হয়েছে অভিজ্ঞতার ঘাটতির কারণে। তিনি বলেন, কনফারেন্সের জন্য উপযোগী হেডফোন না কিনে মিউজিকের হেডফোন কেনা হয়েছে, যা এই সমস্যার মূল কারণ। তার মতে, হেডফোন পরিবর্তন করা হলে সমস্যার সমাধান সম্ভব।
এ বিষয়ে সংসদ সচিবালয়ে ইতোমধ্যে বৈঠক হয়েছে। তবে সচিব কানিজ মওলা জানিয়েছেন, কবে নাগাদ নতুন হেডফোন আনা হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।






















