স্বপ্নের মঞ্চে বাংলাদেশের মেয়েরা, চীনের বিপক্ষে লড়াইয়ে ইতিবাচক বার্তা
যে স্বপ্ন এতদিন শুধু পুরুষদের অর্জনের গল্পে সীমাবদ্ধ ছিল, সেটিই এবার বাস্তবে রূপ দিল বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল। প্রথমবারের মতো নারী এশিয়ান কাপে অংশ নিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। অভিষেক ম্যাচেই তাদের প্রতিপক্ষ ছিল টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ও নয়বারের শিরোপাজয়ী চীন। ফলাফল ২-০ ব্যবধানে হার হলেও মাঠের পারফরম্যান্সে সাহসী বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টার্ন সিডনির কমব্যাংক স্টেডিয়ামে শক্তিশালী চীনের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। ম্যাচ শুরুর আগে একাদশে চমক দেন হেড কোচ পিটার বাটলার। নিয়মিত গোলরক্ষক রুপ্না চাকমাকে বেঞ্চে রেখে সুযোগ দেওয়া হয় মিলি আক্তারকে। পাশাপাশি শুরুর একাদশে ছিলেন না তহুরা খাতুনও।
শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে দেখা যায় বাংলাদেশের মেয়েদের। ১৪ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ঋতুপর্ণার নেওয়া জোরালো শট দর্শকদের নজর কাড়ে। এরপর ২২ মিনিটে চীন বল জালে জড়ালেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) সিদ্ধান্তে সেটি বাতিল হয়।
প্রথমার্ধের শেষদিকে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। ৪৪ মিনিটে দূরপাল্লার শটে চীনের ওয়াং শুয়াং দলকে এগিয়ে নেন। অল্প সময়ের ব্যবধানে রক্ষণভাগের ভুলে আরেকটি গোল হজম করে বাংলাদেশ, ফলে বিরতিতে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে তারা।
দ্বিতীয়ার্ধে চীন ধারাবাহিক আক্রমণ চালালেও গোলরক্ষক মিলি আক্তার দৃঢ়তায় একাধিক আক্রমণ প্রতিহত করেন। মাঝমাঠে মনিকার নিয়ন্ত্রণও ছিল চোখে পড়ার মতো। ম্যাচের ৮৬ মিনিটে নাকে চোট পাওয়া হালিমার বদলি হিসেবে সুইডেনপ্রবাসী আনিকা সিদ্দিকী অভিষেক করেন জাতীয় দলের জার্সিতে।
পুরো ৯০ মিনিটে দ্বিতীয়ার্ধে আর কোনো গোল হজম করেনি বাংলাদেশ। ফিফা র্যাংকিংয়ে ১৭ নম্বরে থাকা চীনের বিপক্ষে ১১২ নম্বরে থাকা আফঈদা-ঋতুপর্ণাদের এই লড়াই প্রমাণ করে, ব্যবধান শুধু কাগজে-কলমে। ২-০ ব্যবধানে হারলেও দলের লড়াকু মানসিকতা ভবিষ্যতের জন্য আশাবাদ জাগাচ্ছে।

























