ঢাকা ১২:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যাচ্ছেন তারেক রহমান Logo স্বাধীনতার ইতিহাস স্মরণ রেখে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo একাত্তরের ইতিহাস আলাদা থাকবে, স্বাধীনতার ঘোষণায় জিয়ার ভূমিকার কথা স্মরণ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo স্বাধীনতা দিবসে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo আজ শুরু হচ্ছে পিএসএলের ১১তম আসর, উদ্বোধনী ম্যাচেই মুখোমুখি দুই শক্তিশালী দল Logo দৌলতদিয়া ঘাটে বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় তদন্তে ৬ সদস্যের কমিটি Logo মার্কিন প্রস্তাবে সাড়া না দিলে বড় হামলার হুঁশিয়ারি, নিজেদের শর্তে অনড় ইরান Logo নেইমার ছাড়া বিশ্বকাপ ভাবাই যায় না, মন্তব্য এমবাপ্পের Logo চট্টলা এক্সপ্রেসে আগুন, দ্রুত নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস Logo পদ্মায় বাসডুবি: উদ্ধার হলো ২৫ জনের মরদেহ, তদন্তে কমিটি

হাতিয়ায় গৃহবধূ ধর্ষণের অভিযোগ: রহস্য, পাল্টা অভিযোগ ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মারধরের ঘটনায় আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ওই নারী নিজেকে ধর্ষণের শিকার বলে দাবি করেন।

 

হাতিয়া উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের নলেরচর আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার বাসিন্দা তিন সন্তানের এই জননী প্রথমে মারধরের চিকিৎসা নিতে শনিবার দুপুরে নোয়াখালীর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে যান। পরে চিকিৎসকের কাছে তিনি ধর্ষণের অভিযোগ উত্থাপন করলে জরুরি বিভাগ থেকে তাকে গাইনী ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

 

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, শুরুতে ভুক্তভোগী কেবল মারধরের কথা বলেছেন। পরে ধর্ষণের অভিযোগ করায় প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তাকে গাইনী বিভাগে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত মতামত দেওয়া হবে।

 

ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে তিন ব্যক্তি তার ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় তার স্বামীকে বেঁধে রাখা হয় এবং তাদের মধ্যে একজন তাকে ধর্ষণ করে। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনে শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দেওয়ার কারণেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, স্বামীসহ তিনি রান্নাঘরে আশ্রয় নিলে সেখানে স্বামীকে রেখে একজন তাকে অন্য জায়গায় নিয়ে নির্যাতন করে, আরেকজন দরজায় পাহারা দেয়।

 

তবে স্থানীয় প্রতিবেশীরা এমন কোনো ঘটনার কথা জানেন না বলে জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, ঘটনার সময় তারা কাউকে ওই বাড়িতে আসতে দেখেননি এবং কোনো ধরনের গোলমালও তাদের নজরে আসেনি।

 

এদিকে অভিযুক্ত হিসেবে নাম আসা রহমান ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তিনি নিজেই হামলার শিকার। তার বক্তব্য, এসব অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তাকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। তিনি আরও বলেন, এনসিপিতে যোগ দেওয়ার জন্য তাকে মোটা অঙ্কের অর্থের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

 

ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১১ দলীয় জোট থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ হাতিয়ায় হামলা, নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগ তুলে সেনা অভিযানের দাবি জানান। তার মতে, চানন্দী ইউনিয়নে একাধিক ধর্ষণের তথ্য পাওয়া গেছে এবং প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় দ্রুত সেনাবাহিনী মোতায়েন করে অস্ত্র উদ্ধার করা প্রয়োজন।

 

অন্যদিকে উপজেলা বিএনপি নেতারা এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা বলে দাবি করেছেন। হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলা উদ্দুর বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন এবং অতীতের নির্বাচনেও তিনি ধানের শীষের পক্ষে ছিলেন না।

 

হাতিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। হাতিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নুরুল আনোয়ার বলেন, বিষয়টি অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করা হতে পারে এবং ঘটনাকে বড় করে দেখানোর চেষ্টা চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১১:১৬:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
৩৫ বার পড়া হয়েছে

হাতিয়ায় গৃহবধূ ধর্ষণের অভিযোগ: রহস্য, পাল্টা অভিযোগ ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন

আপডেট সময় ১১:১৬:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মারধরের ঘটনায় আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ওই নারী নিজেকে ধর্ষণের শিকার বলে দাবি করেন।

 

হাতিয়া উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের নলেরচর আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার বাসিন্দা তিন সন্তানের এই জননী প্রথমে মারধরের চিকিৎসা নিতে শনিবার দুপুরে নোয়াখালীর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে যান। পরে চিকিৎসকের কাছে তিনি ধর্ষণের অভিযোগ উত্থাপন করলে জরুরি বিভাগ থেকে তাকে গাইনী ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

 

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, শুরুতে ভুক্তভোগী কেবল মারধরের কথা বলেছেন। পরে ধর্ষণের অভিযোগ করায় প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তাকে গাইনী বিভাগে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত মতামত দেওয়া হবে।

 

ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে তিন ব্যক্তি তার ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় তার স্বামীকে বেঁধে রাখা হয় এবং তাদের মধ্যে একজন তাকে ধর্ষণ করে। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনে শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দেওয়ার কারণেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, স্বামীসহ তিনি রান্নাঘরে আশ্রয় নিলে সেখানে স্বামীকে রেখে একজন তাকে অন্য জায়গায় নিয়ে নির্যাতন করে, আরেকজন দরজায় পাহারা দেয়।

 

তবে স্থানীয় প্রতিবেশীরা এমন কোনো ঘটনার কথা জানেন না বলে জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, ঘটনার সময় তারা কাউকে ওই বাড়িতে আসতে দেখেননি এবং কোনো ধরনের গোলমালও তাদের নজরে আসেনি।

 

এদিকে অভিযুক্ত হিসেবে নাম আসা রহমান ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তিনি নিজেই হামলার শিকার। তার বক্তব্য, এসব অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তাকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। তিনি আরও বলেন, এনসিপিতে যোগ দেওয়ার জন্য তাকে মোটা অঙ্কের অর্থের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

 

ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১১ দলীয় জোট থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ হাতিয়ায় হামলা, নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগ তুলে সেনা অভিযানের দাবি জানান। তার মতে, চানন্দী ইউনিয়নে একাধিক ধর্ষণের তথ্য পাওয়া গেছে এবং প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় দ্রুত সেনাবাহিনী মোতায়েন করে অস্ত্র উদ্ধার করা প্রয়োজন।

 

অন্যদিকে উপজেলা বিএনপি নেতারা এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা বলে দাবি করেছেন। হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলা উদ্দুর বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন এবং অতীতের নির্বাচনেও তিনি ধানের শীষের পক্ষে ছিলেন না।

 

হাতিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। হাতিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নুরুল আনোয়ার বলেন, বিষয়টি অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করা হতে পারে এবং ঘটনাকে বড় করে দেখানোর চেষ্টা চলছে।