১৩তম সংসদ নির্বাচনে ১০ আসনে থাকছে না বিএনপির ‘ধানের শীষ’
দ্বারপ্রান্তে জাতীয় নির্বাচন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ভোটগ্রহণ। নির্বাচনের আগে একাধিক আইনি জটিলতায় কুমিল্লার দুটি আসনে বিএনপির প্রার্থীরা চূড়ান্তভাবে বাদ পড়ায় ওই আসনগুলোতে দলটির প্রতীক ‘ধানের শীষ’ ব্যালটে থাকছে না। এর ফলে কুমিল্লা-৪ ও কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থী অংশ নিতে পারছেন না। সারাদেশে এ ধরনের আসনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মোট ১০টি।
কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসানের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ তোলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও একই আসনের প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন (ইসি) তার মনোনয়ন বাতিল করে। এ সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করলেও ২১ জানুয়ারি তা সরাসরি খারিজ হয়। পরবর্তীতে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করা হলেও সেখান থেকেও কোনো ইতিবাচক রায় আসেনি।
অন্যদিকে কুমিল্লা-১০ আসনে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে বিএনপির প্রার্থী আবদুল গফুর ভূঁইয়ার মনোনয়ন বাতিল করে ইসি। এ বিষয়ে হাইকোর্টে করা রিট ২২ জানুয়ারি খারিজ হয়। পরে আপিল বিভাগে আবেদন করলেও সেখান থেকেও তিনি প্রার্থিতা ফিরে পাননি।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ উভয় আবেদনই খারিজ করে দেওয়ায় আসন্ন নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণের পথ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে নির্বাচনী সমঝোতার অংশ হিসেবে বিএনপি তাদের মিত্র দলগুলোকে ৮টি আসন ছেড়ে দিয়েছে। এর মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ পেয়েছে ৪টি আসন। বাকি চারটি আসনে প্রার্থী দিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও গণ অধিকার পরিষদ—প্রতিটি দল একটি করে আসনে নির্বাচন করছে।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থীরা ‘খেজুরগাছ’ প্রতীক নিয়ে বিভিন্ন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সিলেট-৫ আসনে দলের সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ উবায়দুল্লাহ ফারুক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, নীলফামারী-১ আসনে মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি মনির হোসেন কাসেমী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
এ ছাড়া গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে ‘মাথাল’ প্রতীকে, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ঢাকা-১২ আসনে ‘কোদাল’ প্রতীকে, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর পটুয়াখালী-৩ আসনে ‘ট্রাক’ প্রতীকে এবং বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ ভোলা-১ আসনে ‘গরুর গাড়ি’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সব মিলিয়ে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ১০টি আসনে বিএনপির প্রতীক ‘ধানের শীষ’ দেখা যাবে না।






















