ঢাকা ১০:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo বিশ্বে সবচেয়ে দুর্লভ রক্ত কোনটি? জানুন ‘গোল্ডেন ব্লাড’-এর রহস্য Logo বিশ্বজুড়ে নিষিদ্ধ আকাশসীমা: কেন উড়তে পারে না বিমান Logo খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় সিলেটে অসহায়দের মাঝে ছাত্রদলের খাবার বিতরণ Logo দুদকের তদন্তের মুখে ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান; শেখ হাসিনাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ Logo  তারেক রহমানের দেশে ফেরা প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান জানালেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা Logo  সিলেটে নিখোঁজ ছাতকের সৌরভ, খুঁজে পেতে সহযোগিতার আহ্বান Logo সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ ভবনে আগুন, অল্প সময়েই নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস Logo ইতালিতে পাঁচ লাখ কর্মী নেওয়ার উদ্যোগ: আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় কবে? Logo ঢাকায় রাশিয়ান রাষ্ট্রদূতের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা Logo খুলনা আদালত এলাকায় গুলিতে দুইজন নিহত: প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় যা উঠে এসেছে

সিলেটের সাদা পাথর লুট: তদন্ত ও ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টে রিট আবেদন

নিজস্ব সংবাদ :

 

সিলেটের সাদা পাথর এলাকায় পাথর লুটের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। রিটটি দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মীর একেএম নূরুন নবী। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) তিনি গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানান।

রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাদা পাথর লুটে জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিষ্ক্রিয়তার কারণ জানতে চেয়ে একটি রুল জারির অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এছাড়া, ঘটনার তদন্ত করে ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। রিটে স্বরাষ্ট্রসচিব, পরিবেশ সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি), কোম্পানীগঞ্জের ইউএনওসহ মোট ১০ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

এদিকে, বুধবার রাতে সিলেট জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় সাদা পাথর এলাকা রক্ষা ও লুট হওয়া পাথর পুনঃস্থাপনে পাঁচটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

সিদ্ধান্তগুলো হলো:
১. জাফলং ইসিএ ও সাদা পাথর এলাকায় ২৪ ঘণ্টা যৌথবাহিনী টহল দেবে।
২. গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জে যৌথবাহিনীর সহযোগিতায় স্থায়ী পুলিশ চেকপোস্ট থাকবে।
৩. অবৈধ ক্রাশিং মেশিনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও বন্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।
৪. পাথর চুরিতে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
৫. চুরি হওয়া পাথর উদ্ধার করে পূর্বের অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সরকারিভাবে কোয়ারিগুলো থেকে পাথর ও বালু উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনের গাফিলতি ও প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় পাথর লুটের ঘটনা বেড়েই চলেছে। এতে শুধু পরিবেশের ক্ষতি নয়, হুমকির মুখে পড়েছে সিলেটের পর্যটনশিল্পও।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের অভিযোগ, প্রশাসনের অসহযোগিতা ও প্রভাবশালী মহলের মদদে এই অপতৎপরতা অব্যাহত রয়েছে, যা এলাকাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সম্পদ রক্ষায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০১:৫৩:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫
১১১ বার পড়া হয়েছে

সিলেটের সাদা পাথর লুট: তদন্ত ও ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টে রিট আবেদন

আপডেট সময় ০১:৫৩:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫

 

সিলেটের সাদা পাথর এলাকায় পাথর লুটের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। রিটটি দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মীর একেএম নূরুন নবী। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) তিনি গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানান।

রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাদা পাথর লুটে জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিষ্ক্রিয়তার কারণ জানতে চেয়ে একটি রুল জারির অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এছাড়া, ঘটনার তদন্ত করে ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। রিটে স্বরাষ্ট্রসচিব, পরিবেশ সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি), কোম্পানীগঞ্জের ইউএনওসহ মোট ১০ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

এদিকে, বুধবার রাতে সিলেট জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় সাদা পাথর এলাকা রক্ষা ও লুট হওয়া পাথর পুনঃস্থাপনে পাঁচটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

সিদ্ধান্তগুলো হলো:
১. জাফলং ইসিএ ও সাদা পাথর এলাকায় ২৪ ঘণ্টা যৌথবাহিনী টহল দেবে।
২. গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জে যৌথবাহিনীর সহযোগিতায় স্থায়ী পুলিশ চেকপোস্ট থাকবে।
৩. অবৈধ ক্রাশিং মেশিনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও বন্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।
৪. পাথর চুরিতে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
৫. চুরি হওয়া পাথর উদ্ধার করে পূর্বের অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সরকারিভাবে কোয়ারিগুলো থেকে পাথর ও বালু উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনের গাফিলতি ও প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় পাথর লুটের ঘটনা বেড়েই চলেছে। এতে শুধু পরিবেশের ক্ষতি নয়, হুমকির মুখে পড়েছে সিলেটের পর্যটনশিল্পও।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের অভিযোগ, প্রশাসনের অসহযোগিতা ও প্রভাবশালী মহলের মদদে এই অপতৎপরতা অব্যাহত রয়েছে, যা এলাকাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সম্পদ রক্ষায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।