ঢাকা ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo অপহরণের খবর পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর তৎপরতা, এক ঘণ্টার মধ্যেই স্কুলছাত্র উদ্ধার Logo দেড় বছর পর ফের শুরু আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা আন্তর্জাতিক বাস চলাচল Logo বাংলাদেশ পুলিশের নতুন আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন আলী হোসেন ফকির Logo চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রাণ গেল দুজনের, দগ্ধ আরও সাত Logo  জনগণের শক্তিকেই মূল ভরসা করে বিএনপি, প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস নেই: মঈন খান Logo রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিয়োগ অনিয়ম তদন্তে হাইকোর্টের নির্দেশ Logo গরমের ঈদে আরামদায়ক পাঞ্জাবির চাহিদা, বাজারে রং-নকশায় নতুনত্ব Logo এনসিপি গঠন করল স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি Logo ভিনিসিউসকে বর্ণবাদী মন্তব্যের অভিযোগে বেনফিকার আর্জেন্টাইন ফুটবলার নিষিদ্ধ Logo ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর ১১২ নির্বাচন কর্মকর্তার বদলি

সিলেটের সাদা পাথর লুট: তদন্ত ও ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টে রিট আবেদন

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

 

সিলেটের সাদা পাথর এলাকায় পাথর লুটের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। রিটটি দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মীর একেএম নূরুন নবী। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) তিনি গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানান।

রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাদা পাথর লুটে জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিষ্ক্রিয়তার কারণ জানতে চেয়ে একটি রুল জারির অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এছাড়া, ঘটনার তদন্ত করে ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। রিটে স্বরাষ্ট্রসচিব, পরিবেশ সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি), কোম্পানীগঞ্জের ইউএনওসহ মোট ১০ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

এদিকে, বুধবার রাতে সিলেট জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় সাদা পাথর এলাকা রক্ষা ও লুট হওয়া পাথর পুনঃস্থাপনে পাঁচটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

সিদ্ধান্তগুলো হলো:
১. জাফলং ইসিএ ও সাদা পাথর এলাকায় ২৪ ঘণ্টা যৌথবাহিনী টহল দেবে।
২. গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জে যৌথবাহিনীর সহযোগিতায় স্থায়ী পুলিশ চেকপোস্ট থাকবে।
৩. অবৈধ ক্রাশিং মেশিনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও বন্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।
৪. পাথর চুরিতে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
৫. চুরি হওয়া পাথর উদ্ধার করে পূর্বের অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সরকারিভাবে কোয়ারিগুলো থেকে পাথর ও বালু উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনের গাফিলতি ও প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় পাথর লুটের ঘটনা বেড়েই চলেছে। এতে শুধু পরিবেশের ক্ষতি নয়, হুমকির মুখে পড়েছে সিলেটের পর্যটনশিল্পও।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের অভিযোগ, প্রশাসনের অসহযোগিতা ও প্রভাবশালী মহলের মদদে এই অপতৎপরতা অব্যাহত রয়েছে, যা এলাকাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সম্পদ রক্ষায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০১:৫৩:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫
১৬২ বার পড়া হয়েছে

সিলেটের সাদা পাথর লুট: তদন্ত ও ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টে রিট আবেদন

আপডেট সময় ০১:৫৩:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫

 

সিলেটের সাদা পাথর এলাকায় পাথর লুটের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। রিটটি দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মীর একেএম নূরুন নবী। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) তিনি গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানান।

রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাদা পাথর লুটে জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিষ্ক্রিয়তার কারণ জানতে চেয়ে একটি রুল জারির অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এছাড়া, ঘটনার তদন্ত করে ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। রিটে স্বরাষ্ট্রসচিব, পরিবেশ সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি), কোম্পানীগঞ্জের ইউএনওসহ মোট ১০ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

এদিকে, বুধবার রাতে সিলেট জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় সাদা পাথর এলাকা রক্ষা ও লুট হওয়া পাথর পুনঃস্থাপনে পাঁচটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

সিদ্ধান্তগুলো হলো:
১. জাফলং ইসিএ ও সাদা পাথর এলাকায় ২৪ ঘণ্টা যৌথবাহিনী টহল দেবে।
২. গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জে যৌথবাহিনীর সহযোগিতায় স্থায়ী পুলিশ চেকপোস্ট থাকবে।
৩. অবৈধ ক্রাশিং মেশিনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও বন্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।
৪. পাথর চুরিতে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
৫. চুরি হওয়া পাথর উদ্ধার করে পূর্বের অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সরকারিভাবে কোয়ারিগুলো থেকে পাথর ও বালু উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনের গাফিলতি ও প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় পাথর লুটের ঘটনা বেড়েই চলেছে। এতে শুধু পরিবেশের ক্ষতি নয়, হুমকির মুখে পড়েছে সিলেটের পর্যটনশিল্পও।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের অভিযোগ, প্রশাসনের অসহযোগিতা ও প্রভাবশালী মহলের মদদে এই অপতৎপরতা অব্যাহত রয়েছে, যা এলাকাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সম্পদ রক্ষায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।