ঢাকা ০১:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শুভেচ্ছা বার্তা ও উপহার পৌঁছাল তারেক রহমানের কার্যালয়ে Logo বিদায় মুহূর্তে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য Logo মন্ত্রিপরিষদ সচিবের অতিরিক্ত দায়িত্ব পেলেন এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া Logo নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ সোমবার অনুষ্ঠিত হবে Logo রাজশাহী–৩ আসনে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থীর সৌজন্য সাক্ষাৎ পরাজিত জামায়াত প্রার্থীর বাসায় Logo ৩০ আসনে ফল পাল্টানোর অভিযোগ, পুনর্গণনা ও শপথ স্থগিত চায় জামায়াত Logo শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানাল ইতালিয়ান দূতাবাস Logo গণতন্ত্র রক্ষায় সরকার ও বিরোধী দলের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করলেন তারেক রহমান Logo মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের শপথ ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান Logo নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে এনসিপি’র সাফল্যকে প্রধান উপদেষ্টা অসাধারণ অর্জন হিসেবে বর্ণনা করেছেন

নেতানিয়াহু কী গ্রেফতার হবেন?

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

ছবি সংগৃহীত

নেতানিয়াহু কী গ্রেফতার হবেন?

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্তের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর অনেকের প্রশ্ন তারা গ্রেফতার হবেন কি না। কিংবা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) পরোয়ানা কীভাবে কার্যকর হবে। হামাসের সামরিক কমান্ডার মোহাম্মদ দেইফের বিরুদ্ধেও পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। যদিও ইসরাইলের দাবি, গত জুলাই মাসে দেইফ মারা গেছেন।

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলের আগ্রাসন চলার মধ্যে এই প্রথম বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক আদালত নেতানিয়াহু বা কোনো ইসরাইলি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করলেন।

নেতানিয়াহু ও গ্যালান্তের বিরুদ্ধে জারি করা পরোয়ানা নিয়ে আইসিসি বলছে, ‘ক্ষুধাকে ব্যবহার করে যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের জন্য এই দুইজনকে দায়ী করার যৌক্তিক ভিত্তি রয়েছে।’
আইসিসি আরও বলেছে, দুইজনের প্রত্যেকের অন্যদের সাথে মিলে যৌথভাবে সহ-অপরাধী হিসেবে নিম্নলিখিত অপরাধের জন্য ফৌজদারি দায়বদ্ধতা রয়েছে: যুদ্ধের পদ্ধতি হিসেবে ক্ষুধার ব্যবহার এবং হত্যা, নিপীড়ন এবং অন্যান্য অমানবিক কাজের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন।’
তবে আইসিসির হাতে বিচারিক ক্ষমতা থাকলেও কোনো অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারে না। আইসিসির নিজস্ব কোনো পুলিশ বাহিনী নেই। আইসিসি যা করতে পারে তা হলো, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বিভিন্ন দেশের সহায়তায় গ্রেফতার করা এবং গ্রেফতারের পরে তাকে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে তার কার্যালয়ে বিচারের জন্য হাজির
এই আদালত প্রতিষ্ঠার জন্য মোট ১২৪টি দেশ ‘রোম স্ট্যাটিউট’ নামে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এর মধ্যে ৩৩টি আফ্রিকান, ১৯টি এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয়, ১৯টি পূর্ব-ইউরোপীয়, ২৮টি ল্যাটিন আমেরিকান এবং ক্যারিবীয় এবং ২৫টি পশ্চিম ইউরোপীয় ও অন্যান্য রাষ্ট্র রয়েছে। তবে এটিকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয়নি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন এবং ইসরাইল।
ইসরাইল আইসিসির সদস্য দেশ না হওয়ায় এর ওপর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কোনো এখতিয়ার নেই বলে দাবি করে দেশটি।
তবে বৃহস্পতিবার গ্রেফতারি পরোয়ানা ঘোষণা করার সময় আইসিসি জানায়, এর সদস্য রাষ্ট্র ‘ফিলিস্তিনের আঞ্চলিক বিচারিক এখতিয়ারের ভিত্তিতে’ ইসরাইলের ওপর বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে।
 
যদিও কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া আইসিসি সাধারণত অনুপস্থিত আসামিদের বিচার করে না। যার অর্থ দাঁড়ায়, সম্ভবত নেতানিয়াহু এবং গ্যালান্ত আইসিসির কোনো সদস্য রাষ্ট্রে ভ্রমণ করা বা গ্রেফতার না হওয়া কিংবা দু’জনকে হেগে না আনা পর্যন্ত তাদের বিচারের মুখোমুখি হবার সম্ভাবনা নেই।
 
ফলে পরোয়ানা জারি হলেও নেতানিয়াহু কিংবা গ্যালান্তকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতারের মুখোমুখি হতে হবে না। তবে এরপর থেকে তাদের জন্য যেকোনো দেশে ভ্রমণ করা জটিল হবে, একইসঙ্গে এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইসরাইলকে আরও বিচ্ছিন্ন করার হুমকি তৈরি হলো।
 
সূত্র: বিবিসি বাংলা

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৭:৫১:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০২৪
১৪২ বার পড়া হয়েছে

নেতানিয়াহু কী গ্রেফতার হবেন?

আপডেট সময় ০৭:৫১:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০২৪

নেতানিয়াহু কী গ্রেফতার হবেন?

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্তের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর অনেকের প্রশ্ন তারা গ্রেফতার হবেন কি না। কিংবা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) পরোয়ানা কীভাবে কার্যকর হবে। হামাসের সামরিক কমান্ডার মোহাম্মদ দেইফের বিরুদ্ধেও পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। যদিও ইসরাইলের দাবি, গত জুলাই মাসে দেইফ মারা গেছেন।

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলের আগ্রাসন চলার মধ্যে এই প্রথম বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক আদালত নেতানিয়াহু বা কোনো ইসরাইলি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করলেন।

নেতানিয়াহু ও গ্যালান্তের বিরুদ্ধে জারি করা পরোয়ানা নিয়ে আইসিসি বলছে, ‘ক্ষুধাকে ব্যবহার করে যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের জন্য এই দুইজনকে দায়ী করার যৌক্তিক ভিত্তি রয়েছে।’
আইসিসি আরও বলেছে, দুইজনের প্রত্যেকের অন্যদের সাথে মিলে যৌথভাবে সহ-অপরাধী হিসেবে নিম্নলিখিত অপরাধের জন্য ফৌজদারি দায়বদ্ধতা রয়েছে: যুদ্ধের পদ্ধতি হিসেবে ক্ষুধার ব্যবহার এবং হত্যা, নিপীড়ন এবং অন্যান্য অমানবিক কাজের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন।’
তবে আইসিসির হাতে বিচারিক ক্ষমতা থাকলেও কোনো অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারে না। আইসিসির নিজস্ব কোনো পুলিশ বাহিনী নেই। আইসিসি যা করতে পারে তা হলো, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বিভিন্ন দেশের সহায়তায় গ্রেফতার করা এবং গ্রেফতারের পরে তাকে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে তার কার্যালয়ে বিচারের জন্য হাজির
এই আদালত প্রতিষ্ঠার জন্য মোট ১২৪টি দেশ ‘রোম স্ট্যাটিউট’ নামে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এর মধ্যে ৩৩টি আফ্রিকান, ১৯টি এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয়, ১৯টি পূর্ব-ইউরোপীয়, ২৮টি ল্যাটিন আমেরিকান এবং ক্যারিবীয় এবং ২৫টি পশ্চিম ইউরোপীয় ও অন্যান্য রাষ্ট্র রয়েছে। তবে এটিকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয়নি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন এবং ইসরাইল।
ইসরাইল আইসিসির সদস্য দেশ না হওয়ায় এর ওপর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কোনো এখতিয়ার নেই বলে দাবি করে দেশটি।
তবে বৃহস্পতিবার গ্রেফতারি পরোয়ানা ঘোষণা করার সময় আইসিসি জানায়, এর সদস্য রাষ্ট্র ‘ফিলিস্তিনের আঞ্চলিক বিচারিক এখতিয়ারের ভিত্তিতে’ ইসরাইলের ওপর বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে।
 
যদিও কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া আইসিসি সাধারণত অনুপস্থিত আসামিদের বিচার করে না। যার অর্থ দাঁড়ায়, সম্ভবত নেতানিয়াহু এবং গ্যালান্ত আইসিসির কোনো সদস্য রাষ্ট্রে ভ্রমণ করা বা গ্রেফতার না হওয়া কিংবা দু’জনকে হেগে না আনা পর্যন্ত তাদের বিচারের মুখোমুখি হবার সম্ভাবনা নেই।
 
ফলে পরোয়ানা জারি হলেও নেতানিয়াহু কিংবা গ্যালান্তকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতারের মুখোমুখি হতে হবে না। তবে এরপর থেকে তাদের জন্য যেকোনো দেশে ভ্রমণ করা জটিল হবে, একইসঙ্গে এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইসরাইলকে আরও বিচ্ছিন্ন করার হুমকি তৈরি হলো।
 
সূত্র: বিবিসি বাংলা