ঢাকা ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo চাঁদ না দেখায় সৌদি আরবে ঈদ শুক্রবার Logo গার্দিওলার মতে সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ লিভারপুল, রিয়াল নয় Logo তেলের দাম অপরিবর্তিত, সংকট মোকাবিলায় সরকারের কার্যকারিতা প্রশংসিত: মির্জা ফখরুল Logo ঈদের দিন যমুনায় সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী Logo শাওয়ালের চাঁদ দেখা নিয়ে বৃহস্পতিবার বৈঠক করবে জাতীয় কমিটি Logo সংসদের প্রথম অধিবেশনেই শব্দযন্ত্রে বিপত্তি, হেডফোন নিয়ে বিতর্ক Logo ঈদযাত্রায় লঞ্চে যাত্রীর চাপ, ঘাটে নেমে চরম ভোগান্তি Logo উত্তরার শপিং কমপ্লেক্সে ভাঙচুর মামলায় ১১ জনের দুই দিনের রিমান্ড Logo রাত ১টার মধ্যে কয়েকটি অঞ্চলে ঝড়ের সম্ভাবনা, নদীবন্দরে সতর্কসংকেত Logo ঈদযাত্রায় নৌপথে অতিরিক্ত ভাড়ার অভিযোগ নেই: প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান

পদত্যাগের ঢেউয়ে অস্থির এনসিপি, নতুন জোট ঘিরে প্রত্যাশাও রয়েছে

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

ছবি সংগৃহীত

জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমন্বয়ে ১২ দলীয় জোট গঠনের পর এনসিপির ভেতরে শুরু হয়েছে পদত্যাগের প্রবণতা। একাধিক নেতা দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন, যাদের কেউ কেউ জামায়াতের সঙ্গে জোটকে সিদ্ধান্তের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন। তাদের মতে, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গড়ার যে সংগ্রাম, সেখানে এনসিপির অবস্থান আর স্পষ্ট নেই—এই উপলব্ধি থেকেই তারা সরে দাঁড়িয়েছেন। তবে দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার জানিয়েছেন, কিছু অস্থিরতা থাকলেও অধিকাংশ নেতা-কর্মী জোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের উদ্যোগে আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি। দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন নাহিদ ইসলাম, সঙ্গে রয়েছেন জুলাই আন্দোলনের পরিচিত বহু মুখ। নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ১০ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১২৫ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে এনসিপি। দলটির দাবি ছিল, ধাপে ধাপে ৩০০ আসনেই এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে এবি পার্টি ও রাষ্ট্রসংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে জোট করে এনসিপি। এরপর দুই সপ্তাহের ব্যবধানে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোট গড়ে দলটি নতুন করে আলোচনায় আসে। এই সিদ্ধান্তের পরই দলের ভেতরে মতভেদ প্রকাশ পায়। অন্তত ৩০ জন নেতা সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। কিন্তু জোটের বিষয়ে অবস্থান অপরিবর্তিত থাকায় শুরু হয় পদত্যাগ। কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি ও তৃণমূল পর্যায় থেকে দেড় ডজনের বেশি নেতা দল ছাড়েন।

পদত্যাগকারী নেতাদের মধ্যে কেউ কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আবার কেউ রাজনীতি থেকে সাময়িকভাবে সরে দাঁড়িয়েছেন। দল ছাড়াদের একটি অংশের অভিযোগ, আসন্ন নির্বাচনে এনসিপি পুরোনো রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে এমন আপসে গেছে, যা তাদের কাছে আত্মমর্যাদাবিরোধী।

তবে নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতিকে বড় সংকট হিসেবে দেখছে না এনসিপি নেতৃত্ব। কেন্দ্রীয় নেতাদের ভাষ্য, দলটি গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিশ্বাসী। সারোয়ার তুষার জানান, পদত্যাগের ফলে যেসব শূন্যতা তৈরি হয়েছে, সেগুলো দ্রুত পূরণ করা হবে এবং সেই প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই চলমান। একই সঙ্গে তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন, দলের অধিকাংশ সদস্যই ১২ দলীয় জোটের পক্ষে রয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১২:১৯:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬
৮০ বার পড়া হয়েছে

পদত্যাগের ঢেউয়ে অস্থির এনসিপি, নতুন জোট ঘিরে প্রত্যাশাও রয়েছে

আপডেট সময় ১২:১৯:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমন্বয়ে ১২ দলীয় জোট গঠনের পর এনসিপির ভেতরে শুরু হয়েছে পদত্যাগের প্রবণতা। একাধিক নেতা দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন, যাদের কেউ কেউ জামায়াতের সঙ্গে জোটকে সিদ্ধান্তের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন। তাদের মতে, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গড়ার যে সংগ্রাম, সেখানে এনসিপির অবস্থান আর স্পষ্ট নেই—এই উপলব্ধি থেকেই তারা সরে দাঁড়িয়েছেন। তবে দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার জানিয়েছেন, কিছু অস্থিরতা থাকলেও অধিকাংশ নেতা-কর্মী জোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের উদ্যোগে আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি। দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন নাহিদ ইসলাম, সঙ্গে রয়েছেন জুলাই আন্দোলনের পরিচিত বহু মুখ। নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ১০ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১২৫ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে এনসিপি। দলটির দাবি ছিল, ধাপে ধাপে ৩০০ আসনেই এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে এবি পার্টি ও রাষ্ট্রসংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে জোট করে এনসিপি। এরপর দুই সপ্তাহের ব্যবধানে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোট গড়ে দলটি নতুন করে আলোচনায় আসে। এই সিদ্ধান্তের পরই দলের ভেতরে মতভেদ প্রকাশ পায়। অন্তত ৩০ জন নেতা সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। কিন্তু জোটের বিষয়ে অবস্থান অপরিবর্তিত থাকায় শুরু হয় পদত্যাগ। কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি ও তৃণমূল পর্যায় থেকে দেড় ডজনের বেশি নেতা দল ছাড়েন।

পদত্যাগকারী নেতাদের মধ্যে কেউ কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আবার কেউ রাজনীতি থেকে সাময়িকভাবে সরে দাঁড়িয়েছেন। দল ছাড়াদের একটি অংশের অভিযোগ, আসন্ন নির্বাচনে এনসিপি পুরোনো রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে এমন আপসে গেছে, যা তাদের কাছে আত্মমর্যাদাবিরোধী।

তবে নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতিকে বড় সংকট হিসেবে দেখছে না এনসিপি নেতৃত্ব। কেন্দ্রীয় নেতাদের ভাষ্য, দলটি গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিশ্বাসী। সারোয়ার তুষার জানান, পদত্যাগের ফলে যেসব শূন্যতা তৈরি হয়েছে, সেগুলো দ্রুত পূরণ করা হবে এবং সেই প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই চলমান। একই সঙ্গে তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন, দলের অধিকাংশ সদস্যই ১২ দলীয় জোটের পক্ষে রয়েছেন।