ঢাকা ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo ঢাবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, সংশ্লিষ্টতায় শিক্ষক আটক Logo বাবার অভিযোগ থেকে নিজেকে আলাদা করলেন পূজা চেরি Logo সাকিব-মাশরাফির প্ল্যাকার্ড নিয়ে মাঠে প্রবেশে আর থাকছে না বাধা Logo গুলির শব্দে নৈশভোজে আতঙ্ক, ট্রাম্প–মেলানিয়াসহ অতিথিদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয় Logo ৫২ দিনে ৪৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঋণ গ্রহণ নিয়ে সংসদে রুমিন ফারহানার কঠোর সমালোচনা Logo মেরামত শেষে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল পুনরায় চালু, স্বাভাবিক হচ্ছে গ্যাস সরবরাহ Logo রাজধানীতে অপরাধ দমনে ‘ব্লক রেইড’ অভিযান জোরালো Logo কারিকুলাম সংস্কার অপরিহার্য, শিক্ষার মান বাড়াতে জোর দিলেন শিক্ষামন্ত্রী Logo বক্তৃতার মাঝে হাস্যরস, ‘খিদা লাগছে’ বললেন প্রধানমন্ত্রী Logo সুইমিংপুলে অচেতন অবস্থায় মিলল অভিনেত্রী নাদিয়া, পরে মৃত্যু

পদত্যাগের ঢেউয়ে অস্থির এনসিপি, নতুন জোট ঘিরে প্রত্যাশাও রয়েছে

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

ছবি সংগৃহীত

জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমন্বয়ে ১২ দলীয় জোট গঠনের পর এনসিপির ভেতরে শুরু হয়েছে পদত্যাগের প্রবণতা। একাধিক নেতা দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন, যাদের কেউ কেউ জামায়াতের সঙ্গে জোটকে সিদ্ধান্তের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন। তাদের মতে, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গড়ার যে সংগ্রাম, সেখানে এনসিপির অবস্থান আর স্পষ্ট নেই—এই উপলব্ধি থেকেই তারা সরে দাঁড়িয়েছেন। তবে দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার জানিয়েছেন, কিছু অস্থিরতা থাকলেও অধিকাংশ নেতা-কর্মী জোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের উদ্যোগে আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি। দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন নাহিদ ইসলাম, সঙ্গে রয়েছেন জুলাই আন্দোলনের পরিচিত বহু মুখ। নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ১০ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১২৫ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে এনসিপি। দলটির দাবি ছিল, ধাপে ধাপে ৩০০ আসনেই এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে এবি পার্টি ও রাষ্ট্রসংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে জোট করে এনসিপি। এরপর দুই সপ্তাহের ব্যবধানে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোট গড়ে দলটি নতুন করে আলোচনায় আসে। এই সিদ্ধান্তের পরই দলের ভেতরে মতভেদ প্রকাশ পায়। অন্তত ৩০ জন নেতা সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। কিন্তু জোটের বিষয়ে অবস্থান অপরিবর্তিত থাকায় শুরু হয় পদত্যাগ। কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি ও তৃণমূল পর্যায় থেকে দেড় ডজনের বেশি নেতা দল ছাড়েন।

পদত্যাগকারী নেতাদের মধ্যে কেউ কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আবার কেউ রাজনীতি থেকে সাময়িকভাবে সরে দাঁড়িয়েছেন। দল ছাড়াদের একটি অংশের অভিযোগ, আসন্ন নির্বাচনে এনসিপি পুরোনো রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে এমন আপসে গেছে, যা তাদের কাছে আত্মমর্যাদাবিরোধী।

তবে নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতিকে বড় সংকট হিসেবে দেখছে না এনসিপি নেতৃত্ব। কেন্দ্রীয় নেতাদের ভাষ্য, দলটি গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিশ্বাসী। সারোয়ার তুষার জানান, পদত্যাগের ফলে যেসব শূন্যতা তৈরি হয়েছে, সেগুলো দ্রুত পূরণ করা হবে এবং সেই প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই চলমান। একই সঙ্গে তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন, দলের অধিকাংশ সদস্যই ১২ দলীয় জোটের পক্ষে রয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১২:১৯:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬
১৩৩ বার পড়া হয়েছে

পদত্যাগের ঢেউয়ে অস্থির এনসিপি, নতুন জোট ঘিরে প্রত্যাশাও রয়েছে

আপডেট সময় ১২:১৯:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমন্বয়ে ১২ দলীয় জোট গঠনের পর এনসিপির ভেতরে শুরু হয়েছে পদত্যাগের প্রবণতা। একাধিক নেতা দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন, যাদের কেউ কেউ জামায়াতের সঙ্গে জোটকে সিদ্ধান্তের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন। তাদের মতে, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গড়ার যে সংগ্রাম, সেখানে এনসিপির অবস্থান আর স্পষ্ট নেই—এই উপলব্ধি থেকেই তারা সরে দাঁড়িয়েছেন। তবে দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার জানিয়েছেন, কিছু অস্থিরতা থাকলেও অধিকাংশ নেতা-কর্মী জোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের উদ্যোগে আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি। দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন নাহিদ ইসলাম, সঙ্গে রয়েছেন জুলাই আন্দোলনের পরিচিত বহু মুখ। নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ১০ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১২৫ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে এনসিপি। দলটির দাবি ছিল, ধাপে ধাপে ৩০০ আসনেই এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে এবি পার্টি ও রাষ্ট্রসংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে জোট করে এনসিপি। এরপর দুই সপ্তাহের ব্যবধানে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোট গড়ে দলটি নতুন করে আলোচনায় আসে। এই সিদ্ধান্তের পরই দলের ভেতরে মতভেদ প্রকাশ পায়। অন্তত ৩০ জন নেতা সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। কিন্তু জোটের বিষয়ে অবস্থান অপরিবর্তিত থাকায় শুরু হয় পদত্যাগ। কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি ও তৃণমূল পর্যায় থেকে দেড় ডজনের বেশি নেতা দল ছাড়েন।

পদত্যাগকারী নেতাদের মধ্যে কেউ কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আবার কেউ রাজনীতি থেকে সাময়িকভাবে সরে দাঁড়িয়েছেন। দল ছাড়াদের একটি অংশের অভিযোগ, আসন্ন নির্বাচনে এনসিপি পুরোনো রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে এমন আপসে গেছে, যা তাদের কাছে আত্মমর্যাদাবিরোধী।

তবে নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতিকে বড় সংকট হিসেবে দেখছে না এনসিপি নেতৃত্ব। কেন্দ্রীয় নেতাদের ভাষ্য, দলটি গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিশ্বাসী। সারোয়ার তুষার জানান, পদত্যাগের ফলে যেসব শূন্যতা তৈরি হয়েছে, সেগুলো দ্রুত পূরণ করা হবে এবং সেই প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই চলমান। একই সঙ্গে তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন, দলের অধিকাংশ সদস্যই ১২ দলীয় জোটের পক্ষে রয়েছেন।