ঢাকা ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo হরিণাকুন্ডুতে দুই খাল পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু, সেচ ও পানি নিষ্কাশনে স্বস্তির আশা Logo মহেশপুরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: ৫ জন গ্রেফতার, ভিডিও ধারণে ব্যবহৃত মোবাইল উদ্ধার Logo টানা ৫ দিনের ছুটিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ১২–১৪ এপ্রিল সরকারি ছুটি Logo চাঁদাবাজদের তালিকা করে দেশজুড়ে অভিযান শিগগিরই: র‍্যাব Logo কুমিরের আক্রমণে নিহত কুকুরের ময়নাতদন্ত, তদন্ত চলমান Logo দল টিকিয়ে রাখতে শীর্ষ নেতাদের দেশে ফেরার আহ্বান তৃণমূলের Logo হামলায় আহত মোজতবা খামেনির মুখমণ্ডল বিকৃত, পা ক্ষতিগ্রস্ত Logo ড্রয়ে শিরোপা দৌড়ে আরও পিছিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ Logo সৎ থাকলে দেশ ছাড়ার প্রয়োজন নেই: অনন্ত জলিল Logo সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির ৩৬ পদে শতাধিক আবেদন, আলোচনায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা

পাকার আগেই পানিতে তলিয়ে ধান, হাওরে কৃষকদের দুঃখ-কষ্ট চরমে

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে অতিবৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে পাকার আগেই বোরো ধান তলিয়ে গেছে। এতে হাজারো কৃষক ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সদর উপজেলার দেখার হাওরের ইছাগড়ি গ্রামের কৃষক মুজিবুর রহমান তিন একর জমিতে ধান আবাদ করেছিলেন। পরিবারের সব খরচ এই ফসলের ওপর নির্ভরশীল হলেও পানিতে ডুবে যাওয়ায় এখন তিনি অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।

 

গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে হাওরের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে ফসল নষ্ট হচ্ছে। কোথাও বাঁধ কেটে পানি নামানোর চেষ্টা চলছে, আবার কোথাও পাম্প বসিয়ে পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে যে বাঁধ ফসল রক্ষার কথা, সেটিই এখন জলাবদ্ধতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

 

কৃষি বিভাগের হিসাবে কয়েকটি উপজেলায় ১ হাজার ৮১৯ হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি। শুধু দেখার হাওরেই প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে বলে জানা গেছে, আর পুরো জেলায় ক্ষতির পরিমাণ ১৫ হাজার হেক্টরের বেশি হতে পারে।

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এবার সুনামগঞ্জের ১৩৭টি হাওরে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। তবে ধানগাছ কয়েকদিন পানির নিচে থাকলে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 

অনেক কৃষক ধারদেনা করে চাষাবাদ করেছিলেন। এখন ফসল হারিয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। একই এলাকার কৃষক আতাউর রহমানের সাত একরের মধ্যে পাঁচ একর জমি ইতোমধ্যে তলিয়ে গেছে। অন্যদিকে, রবীন্দ্র দাসের মতো কৃষকেরা ঋণ পরিশোধ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।

 

হাওরের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবাদে স্থানীয় সংগঠনগুলো ইতোমধ্যে গণসমাবেশ করেছে। তারা অভিযোগ করেছে, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ ও কাজের অনিয়মের কারণেই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বাঁধ নির্মাণে কোনো গাফিলতি ছিল না এবং অতিবৃষ্টির কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কৃষকদের ক্ষতি আরও বাড়বে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৯:৫৩:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
৩১ বার পড়া হয়েছে

পাকার আগেই পানিতে তলিয়ে ধান, হাওরে কৃষকদের দুঃখ-কষ্ট চরমে

আপডেট সময় ০৯:৫৩:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে অতিবৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে পাকার আগেই বোরো ধান তলিয়ে গেছে। এতে হাজারো কৃষক ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সদর উপজেলার দেখার হাওরের ইছাগড়ি গ্রামের কৃষক মুজিবুর রহমান তিন একর জমিতে ধান আবাদ করেছিলেন। পরিবারের সব খরচ এই ফসলের ওপর নির্ভরশীল হলেও পানিতে ডুবে যাওয়ায় এখন তিনি অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।

 

গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে হাওরের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে ফসল নষ্ট হচ্ছে। কোথাও বাঁধ কেটে পানি নামানোর চেষ্টা চলছে, আবার কোথাও পাম্প বসিয়ে পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে যে বাঁধ ফসল রক্ষার কথা, সেটিই এখন জলাবদ্ধতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

 

কৃষি বিভাগের হিসাবে কয়েকটি উপজেলায় ১ হাজার ৮১৯ হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি। শুধু দেখার হাওরেই প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে বলে জানা গেছে, আর পুরো জেলায় ক্ষতির পরিমাণ ১৫ হাজার হেক্টরের বেশি হতে পারে।

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এবার সুনামগঞ্জের ১৩৭টি হাওরে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। তবে ধানগাছ কয়েকদিন পানির নিচে থাকলে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 

অনেক কৃষক ধারদেনা করে চাষাবাদ করেছিলেন। এখন ফসল হারিয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। একই এলাকার কৃষক আতাউর রহমানের সাত একরের মধ্যে পাঁচ একর জমি ইতোমধ্যে তলিয়ে গেছে। অন্যদিকে, রবীন্দ্র দাসের মতো কৃষকেরা ঋণ পরিশোধ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।

 

হাওরের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবাদে স্থানীয় সংগঠনগুলো ইতোমধ্যে গণসমাবেশ করেছে। তারা অভিযোগ করেছে, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ ও কাজের অনিয়মের কারণেই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বাঁধ নির্মাণে কোনো গাফিলতি ছিল না এবং অতিবৃষ্টির কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কৃষকদের ক্ষতি আরও বাড়বে।