ঢাকা ০১:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo নেপালকে ৯ উইকেটে হারিয়ে টানা তৃতীয় জয়ে সুপার এইটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ Logo বাড্ডায় নাহিদ ইসলামের বাসায় তারেক রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৫৯.৪৪%: শীর্ষে বিএনপি, ১০ দলের ভোট শূন্য Logo যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ইয়েমেনি শরণার্থীদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ, সময় ৬০ দিন Logo বিএনপির নির্বাচনী জয়ে তারেক রহমানকে বাংলাদেশ খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশনের অভিনন্দন Logo ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ভোটের হার ও শপথসূচি জানাল নির্বাচন কমিশন Logo থাইল্যান্ড ও ফিলিপিন্সের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ ছাড়াই এশিয়ান কাপে যাচ্ছে বাংলাদেশ Logo হাইকোর্ট নির্দেশ দিলেন পুরো রমজান মাস স্কুল বন্ধ রাখার Logo রমজানকে সামনে রেখে দেশ-বিদেশের মুসলিমদের শুভেচ্ছা প্রধান উপদেষ্টার Logo জুলাই গণহত্যা মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পাঁচজনের রায় ৪ মার্চ

মানবপাচারের ১৬ বছরের বন্দিদশা—অবশেষে উদ্ধার এক নারী

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

সংগৃহিত

মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গরের বাতু কেভস এলাকায় প্রায় ১৬ বছর ধরে শোষণ ও নিপীড়নের মধ্যে আটকা থাকা এক ইন্দোনেশীয় গৃহকর্মীকে উদ্ধার করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। সোমবার (২৪ নভেম্বর) একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে বাড়িটি থেকে তাকে বের করে আনা হয়।

ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, অভিযান চলাকালে নারীটি নিয়োগকর্তার নির্দেশে একটি গাড়ির নিচে লুকিয়ে ছিলেন, যাতে কর্তৃপক্ষ তাকে খুঁজে না পায়। দীর্ঘদিনের ভয়, চাপ ও মানসিক আতঙ্কের কারণে তিনি এমনটা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তদন্তে জানা যায়, প্রায় ১৬ বছর ধরে কোনো বৈধ নথিপত্র ছাড়াই তাকে কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছে। প্রতি মাসে ৬০০ রিঙ্গিত বেতন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও গত দুই বছর তিনি কোনো রকম বেতন পাননি। নিয়মিত বকাঝকা, মানসিক নির্যাতন এবং শারীরিক অত্যাচারের মধ্যেই তার দিন কেটেছে।

তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা পুরোপুরি সীমিত ছিল। পাসপোর্ট তার কাছ থেকে নিয়ে রাখা হয়েছিল, মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেওয়া হতো না এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। সুযোগ পেলেই তিনি বিশ্রামের সময় বের করতে পারতেন।

অভিযানের পর ৫১ বছর বয়সি এক স্থানীয় পুরুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি স্বীকার করেছেন, পরিচিত এক আত্মীয়ের মাধ্যমে ওই নারী তার বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন।

ঘটনাটি বর্তমানে ATIPSOM Act 670 (অ্যান্টি-ট্র্যাফিকিং ইন পারসন্স অ্যান্ড অ্যান্টি-স্মাগলিং অব মাইগ্র্যান্টস অ্যাক্ট ২০০৭)–এর অধীনে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযানে ইমিগ্রেশনের ATIPSOM প্রতিরোধ ইউনিট এবং মানি লন্ডারিং তদন্ত টিম অংশ নেয়। মানবপাচারের শিকার চিহ্নিত করতে ‘ন্যাশনাল গাইডলাইন অন হিউম্যান ট্রাফিকিং ইনডিকেটরস ২.০’ ব্যবহার করা হয়।

জাকারিয়া জানান, মানবপাচার সংক্রান্ত সকল তথ্যকে তারা অগ্রাধিকার দেয় এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি তিনি জনগণকে বিদেশি শ্রমিক বা গৃহকর্মীদের ওপর শোষণের তথ্য ০৩-৮৮৮০১৪৭১ নম্বরে অথবা urusetia_p@imi.gov.my ইমেইলে জানানোর আহ্বান জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৯:০৬:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
১০৪ বার পড়া হয়েছে

মানবপাচারের ১৬ বছরের বন্দিদশা—অবশেষে উদ্ধার এক নারী

আপডেট সময় ০৯:০৬:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গরের বাতু কেভস এলাকায় প্রায় ১৬ বছর ধরে শোষণ ও নিপীড়নের মধ্যে আটকা থাকা এক ইন্দোনেশীয় গৃহকর্মীকে উদ্ধার করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। সোমবার (২৪ নভেম্বর) একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে বাড়িটি থেকে তাকে বের করে আনা হয়।

ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, অভিযান চলাকালে নারীটি নিয়োগকর্তার নির্দেশে একটি গাড়ির নিচে লুকিয়ে ছিলেন, যাতে কর্তৃপক্ষ তাকে খুঁজে না পায়। দীর্ঘদিনের ভয়, চাপ ও মানসিক আতঙ্কের কারণে তিনি এমনটা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তদন্তে জানা যায়, প্রায় ১৬ বছর ধরে কোনো বৈধ নথিপত্র ছাড়াই তাকে কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছে। প্রতি মাসে ৬০০ রিঙ্গিত বেতন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও গত দুই বছর তিনি কোনো রকম বেতন পাননি। নিয়মিত বকাঝকা, মানসিক নির্যাতন এবং শারীরিক অত্যাচারের মধ্যেই তার দিন কেটেছে।

তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা পুরোপুরি সীমিত ছিল। পাসপোর্ট তার কাছ থেকে নিয়ে রাখা হয়েছিল, মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেওয়া হতো না এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। সুযোগ পেলেই তিনি বিশ্রামের সময় বের করতে পারতেন।

অভিযানের পর ৫১ বছর বয়সি এক স্থানীয় পুরুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি স্বীকার করেছেন, পরিচিত এক আত্মীয়ের মাধ্যমে ওই নারী তার বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন।

ঘটনাটি বর্তমানে ATIPSOM Act 670 (অ্যান্টি-ট্র্যাফিকিং ইন পারসন্স অ্যান্ড অ্যান্টি-স্মাগলিং অব মাইগ্র্যান্টস অ্যাক্ট ২০০৭)–এর অধীনে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযানে ইমিগ্রেশনের ATIPSOM প্রতিরোধ ইউনিট এবং মানি লন্ডারিং তদন্ত টিম অংশ নেয়। মানবপাচারের শিকার চিহ্নিত করতে ‘ন্যাশনাল গাইডলাইন অন হিউম্যান ট্রাফিকিং ইনডিকেটরস ২.০’ ব্যবহার করা হয়।

জাকারিয়া জানান, মানবপাচার সংক্রান্ত সকল তথ্যকে তারা অগ্রাধিকার দেয় এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি তিনি জনগণকে বিদেশি শ্রমিক বা গৃহকর্মীদের ওপর শোষণের তথ্য ০৩-৮৮৮০১৪৭১ নম্বরে অথবা urusetia_p@imi.gov.my ইমেইলে জানানোর আহ্বান জানান।