ঢাকা ০৪:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo ঢাবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, সংশ্লিষ্টতায় শিক্ষক আটক Logo বাবার অভিযোগ থেকে নিজেকে আলাদা করলেন পূজা চেরি Logo সাকিব-মাশরাফির প্ল্যাকার্ড নিয়ে মাঠে প্রবেশে আর থাকছে না বাধা Logo গুলির শব্দে নৈশভোজে আতঙ্ক, ট্রাম্প–মেলানিয়াসহ অতিথিদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয় Logo ৫২ দিনে ৪৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঋণ গ্রহণ নিয়ে সংসদে রুমিন ফারহানার কঠোর সমালোচনা Logo মেরামত শেষে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল পুনরায় চালু, স্বাভাবিক হচ্ছে গ্যাস সরবরাহ Logo রাজধানীতে অপরাধ দমনে ‘ব্লক রেইড’ অভিযান জোরালো Logo কারিকুলাম সংস্কার অপরিহার্য, শিক্ষার মান বাড়াতে জোর দিলেন শিক্ষামন্ত্রী Logo বক্তৃতার মাঝে হাস্যরস, ‘খিদা লাগছে’ বললেন প্রধানমন্ত্রী Logo সুইমিংপুলে অচেতন অবস্থায় মিলল অভিনেত্রী নাদিয়া, পরে মৃত্যু

মানবপাচারের ১৬ বছরের বন্দিদশা—অবশেষে উদ্ধার এক নারী

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

সংগৃহিত

মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গরের বাতু কেভস এলাকায় প্রায় ১৬ বছর ধরে শোষণ ও নিপীড়নের মধ্যে আটকা থাকা এক ইন্দোনেশীয় গৃহকর্মীকে উদ্ধার করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। সোমবার (২৪ নভেম্বর) একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে বাড়িটি থেকে তাকে বের করে আনা হয়।

ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, অভিযান চলাকালে নারীটি নিয়োগকর্তার নির্দেশে একটি গাড়ির নিচে লুকিয়ে ছিলেন, যাতে কর্তৃপক্ষ তাকে খুঁজে না পায়। দীর্ঘদিনের ভয়, চাপ ও মানসিক আতঙ্কের কারণে তিনি এমনটা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তদন্তে জানা যায়, প্রায় ১৬ বছর ধরে কোনো বৈধ নথিপত্র ছাড়াই তাকে কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছে। প্রতি মাসে ৬০০ রিঙ্গিত বেতন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও গত দুই বছর তিনি কোনো রকম বেতন পাননি। নিয়মিত বকাঝকা, মানসিক নির্যাতন এবং শারীরিক অত্যাচারের মধ্যেই তার দিন কেটেছে।

তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা পুরোপুরি সীমিত ছিল। পাসপোর্ট তার কাছ থেকে নিয়ে রাখা হয়েছিল, মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেওয়া হতো না এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। সুযোগ পেলেই তিনি বিশ্রামের সময় বের করতে পারতেন।

অভিযানের পর ৫১ বছর বয়সি এক স্থানীয় পুরুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি স্বীকার করেছেন, পরিচিত এক আত্মীয়ের মাধ্যমে ওই নারী তার বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন।

ঘটনাটি বর্তমানে ATIPSOM Act 670 (অ্যান্টি-ট্র্যাফিকিং ইন পারসন্স অ্যান্ড অ্যান্টি-স্মাগলিং অব মাইগ্র্যান্টস অ্যাক্ট ২০০৭)–এর অধীনে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযানে ইমিগ্রেশনের ATIPSOM প্রতিরোধ ইউনিট এবং মানি লন্ডারিং তদন্ত টিম অংশ নেয়। মানবপাচারের শিকার চিহ্নিত করতে ‘ন্যাশনাল গাইডলাইন অন হিউম্যান ট্রাফিকিং ইনডিকেটরস ২.০’ ব্যবহার করা হয়।

জাকারিয়া জানান, মানবপাচার সংক্রান্ত সকল তথ্যকে তারা অগ্রাধিকার দেয় এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি তিনি জনগণকে বিদেশি শ্রমিক বা গৃহকর্মীদের ওপর শোষণের তথ্য ০৩-৮৮৮০১৪৭১ নম্বরে অথবা urusetia_p@imi.gov.my ইমেইলে জানানোর আহ্বান জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৯:০৬:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
১৬৩ বার পড়া হয়েছে

মানবপাচারের ১৬ বছরের বন্দিদশা—অবশেষে উদ্ধার এক নারী

আপডেট সময় ০৯:০৬:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গরের বাতু কেভস এলাকায় প্রায় ১৬ বছর ধরে শোষণ ও নিপীড়নের মধ্যে আটকা থাকা এক ইন্দোনেশীয় গৃহকর্মীকে উদ্ধার করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। সোমবার (২৪ নভেম্বর) একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে বাড়িটি থেকে তাকে বের করে আনা হয়।

ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, অভিযান চলাকালে নারীটি নিয়োগকর্তার নির্দেশে একটি গাড়ির নিচে লুকিয়ে ছিলেন, যাতে কর্তৃপক্ষ তাকে খুঁজে না পায়। দীর্ঘদিনের ভয়, চাপ ও মানসিক আতঙ্কের কারণে তিনি এমনটা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তদন্তে জানা যায়, প্রায় ১৬ বছর ধরে কোনো বৈধ নথিপত্র ছাড়াই তাকে কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছে। প্রতি মাসে ৬০০ রিঙ্গিত বেতন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও গত দুই বছর তিনি কোনো রকম বেতন পাননি। নিয়মিত বকাঝকা, মানসিক নির্যাতন এবং শারীরিক অত্যাচারের মধ্যেই তার দিন কেটেছে।

তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা পুরোপুরি সীমিত ছিল। পাসপোর্ট তার কাছ থেকে নিয়ে রাখা হয়েছিল, মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেওয়া হতো না এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। সুযোগ পেলেই তিনি বিশ্রামের সময় বের করতে পারতেন।

অভিযানের পর ৫১ বছর বয়সি এক স্থানীয় পুরুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি স্বীকার করেছেন, পরিচিত এক আত্মীয়ের মাধ্যমে ওই নারী তার বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন।

ঘটনাটি বর্তমানে ATIPSOM Act 670 (অ্যান্টি-ট্র্যাফিকিং ইন পারসন্স অ্যান্ড অ্যান্টি-স্মাগলিং অব মাইগ্র্যান্টস অ্যাক্ট ২০০৭)–এর অধীনে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযানে ইমিগ্রেশনের ATIPSOM প্রতিরোধ ইউনিট এবং মানি লন্ডারিং তদন্ত টিম অংশ নেয়। মানবপাচারের শিকার চিহ্নিত করতে ‘ন্যাশনাল গাইডলাইন অন হিউম্যান ট্রাফিকিং ইনডিকেটরস ২.০’ ব্যবহার করা হয়।

জাকারিয়া জানান, মানবপাচার সংক্রান্ত সকল তথ্যকে তারা অগ্রাধিকার দেয় এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি তিনি জনগণকে বিদেশি শ্রমিক বা গৃহকর্মীদের ওপর শোষণের তথ্য ০৩-৮৮৮০১৪৭১ নম্বরে অথবা urusetia_p@imi.gov.my ইমেইলে জানানোর আহ্বান জানান।