ঢাকা ০৪:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo রমজানে ব্যাংকের নতুন সময়সূচি ঘোষণা বাংলাদেশ ব্যাংকের Logo ভোট দিতে সাহসী হওয়ার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার, নির্বাচনকে বললেন ঐতিহাসিক মাইলফলক Logo ভালুকায় নিহত দীপু দাসের পরিবারকে সহায়তা ও বাড়ি নির্মাণে সরকারের উদ্যোগ Logo নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে আজ সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা Logo এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথিতে উঠে এলো এক ফরাসি ফুটবল তারকার নাম Logo বার্সেলোনার সভাপতির পদ ছাড়লেন লাপোর্তা, মার্চে নতুন নির্বাচনে প্রার্থী হবেন Logo মার্কিন জাহাজকে ইরানের জলসীমা এড়িয়ে চলার নির্দেশ Logo ওসমান হাদির পরিবারের কাছে ফ্ল্যাটের দলিল ও চাবি হস্তান্তর করলেন প্রধান উপদেষ্টা Logo পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ Logo মা–বাবার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে নির্বাচনী প্রচারণার ইতি টানলেন তারেক রহমান

এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথিতে উঠে এলো এক ফরাসি ফুটবল তারকার নাম

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস–ডিওজে) যে বিপুল পরিমাণ নথি প্রকাশ করেছে, তাতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে এক ফরাসি ফুটবল তারকার নাম। এই নথিতে যাঁর উল্লেখ পাওয়া গেছে, তিনি হলেন ফ্রান্স ও বায়ার্ন মিউনিখের সাবেক তারকা ফুটবলার ফ্র্যাঙ্ক রিবেরি। এর আগে এপস্টেইন মামলার সঙ্গে তাঁর নাম প্রকাশ্যে আসেনি।

২০২৬ সালের শুরুর দিকে প্রকাশিত আনক্লাসিফাইড কিছু নথিতে রিবেরির নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব নথি প্রকাশ করা হয় ‘এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’-এর আওতায়, যার মাধ্যমে এপস্টেইন–সংক্রান্ত সব অবিকৃত ও অবগোপন নথি প্রকাশের বাধ্যবাধকতা রয়েছে বিচার বিভাগের ওপর।

ডিওজের এই প্রকাশনাকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় নথি প্রকাশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এতে তিন মিলিয়নের বেশি পৃষ্ঠার দলিল রয়েছে, যেখানে তদন্ত প্রতিবেদন, ইমেইল, আদালতের নথি, ছবি ও ভিডিও অন্তর্ভুক্ত—যেগুলো দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষিত ছিল।

নথিগুলোর অনেক অংশে কেবল নামের তালিকা রয়েছে, যেখানে বিস্তারিত প্রেক্ষাপট অনুপস্থিত। তবে কিছু অংশে নির্দিষ্ট বর্ণনা ও সাক্ষ্যের উল্লেখ থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়। রিবেরির নাম নিয়ে আলোচনা প্রথম জোরালো হয় রেডিটের ‘r/soccer’ কমিউনিটিতে, যেখানে ব্যবহারকারীরা সংশ্লিষ্ট নথির অংশ তুলে ধরেন।

একটি নথির ২৬ নম্বর পাতায় প্রথমবার রিবেরির নাম দেখা যায়। সেখানে একজন দাবিদার একটি বাগানে ঘটে যাওয়া কথিত ঘটনার বিবরণ দেন, যেখানে রিবেরি তাকে আঘাত করতে উদ্যত হলে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে বলে উল্লেখ করা হয়।

পরবর্তী অংশে সিলভাঁ করমিয়ে নামের এক ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে, যাকে ফুটবলার করিম বেনজেমার আইনজীবী হিসেবে পরিচয় করানো হয়েছে। ওই বিবরণে দাবি করা হয়, করমিয়ে ও রিবেরি এক স্থানে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের খোঁজ করছিলেন, যা পুলিশি হস্তক্ষেপের কারণ হয়। অভিযোগগুলো গুরুতর হলেও, এগুলোর প্রেক্ষাপট ও যাচাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

বিচার বিভাগ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এপস্টেইন ফাইলে কারও নাম থাকা মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। এসব নথিতে বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ নেই। ডিওজে সতর্ক করেছে, অনেক তথ্যই পর্যাপ্ত প্রমাণ বা স্পষ্ট প্রেক্ষাপট ছাড়া অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নথিগুলোতে যাচাই না করা অভিযোগ এবং পরোক্ষ তথ্যের উপস্থিতি রয়েছে। ফলে কেবল নামের উল্লেখকে অপরাধের প্রমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। এ কারণে নথি প্রকাশের প্রক্রিয়া নিয়েও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। আইনপ্রণেতা ও ভুক্তভোগী অধিকার সংগঠনগুলো সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ এবং তথ্য গোপনের অসংগতিপূর্ণ পদ্ধতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

রিবেরির ক্ষেত্রে এসব নথি নতুন কোনো আইনি প্রক্রিয়ার সূচনা করছে না। উল্লেখযোগ্য যে, ২০১০ সালে তিনি ও করিম বেনজেমা অপ্রাপ্তবয়স্ক এক যৌনকর্মীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগে তদন্তের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তবে ফ্রান্সের একটি আদালত ২০১৪ সালে সেই মামলা খারিজ করে দেয়।

এখনো লক্ষ লক্ষ পৃষ্ঠার নথি সাংবাদিক, গবেষক ও সাধারণ মানুষ পর্যালোচনা করে যাচ্ছেন। এই প্রক্রিয়ায় রিবেরির মতো পরিচিত নাম উঠে আসা স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও ন্যায়বিচারের ভারসাম্য রক্ষার জটিল দিকগুলোকে সামনে এনেছে। এপস্টেইন ফাইলগুলো একটি ভয়াবহ অপরাধ নেটওয়ার্কের চিত্র তুলে ধরলেও, একই সঙ্গে দায়িত্বশীল বিশ্লেষণ ও সতর্কতার প্রয়োজনীয়তাও স্পষ্ট করে দিচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৫:০৭:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
৯ বার পড়া হয়েছে

এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথিতে উঠে এলো এক ফরাসি ফুটবল তারকার নাম

আপডেট সময় ০৫:০৭:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস–ডিওজে) যে বিপুল পরিমাণ নথি প্রকাশ করেছে, তাতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে এক ফরাসি ফুটবল তারকার নাম। এই নথিতে যাঁর উল্লেখ পাওয়া গেছে, তিনি হলেন ফ্রান্স ও বায়ার্ন মিউনিখের সাবেক তারকা ফুটবলার ফ্র্যাঙ্ক রিবেরি। এর আগে এপস্টেইন মামলার সঙ্গে তাঁর নাম প্রকাশ্যে আসেনি।

২০২৬ সালের শুরুর দিকে প্রকাশিত আনক্লাসিফাইড কিছু নথিতে রিবেরির নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব নথি প্রকাশ করা হয় ‘এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’-এর আওতায়, যার মাধ্যমে এপস্টেইন–সংক্রান্ত সব অবিকৃত ও অবগোপন নথি প্রকাশের বাধ্যবাধকতা রয়েছে বিচার বিভাগের ওপর।

ডিওজের এই প্রকাশনাকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় নথি প্রকাশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এতে তিন মিলিয়নের বেশি পৃষ্ঠার দলিল রয়েছে, যেখানে তদন্ত প্রতিবেদন, ইমেইল, আদালতের নথি, ছবি ও ভিডিও অন্তর্ভুক্ত—যেগুলো দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষিত ছিল।

নথিগুলোর অনেক অংশে কেবল নামের তালিকা রয়েছে, যেখানে বিস্তারিত প্রেক্ষাপট অনুপস্থিত। তবে কিছু অংশে নির্দিষ্ট বর্ণনা ও সাক্ষ্যের উল্লেখ থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়। রিবেরির নাম নিয়ে আলোচনা প্রথম জোরালো হয় রেডিটের ‘r/soccer’ কমিউনিটিতে, যেখানে ব্যবহারকারীরা সংশ্লিষ্ট নথির অংশ তুলে ধরেন।

একটি নথির ২৬ নম্বর পাতায় প্রথমবার রিবেরির নাম দেখা যায়। সেখানে একজন দাবিদার একটি বাগানে ঘটে যাওয়া কথিত ঘটনার বিবরণ দেন, যেখানে রিবেরি তাকে আঘাত করতে উদ্যত হলে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে বলে উল্লেখ করা হয়।

পরবর্তী অংশে সিলভাঁ করমিয়ে নামের এক ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে, যাকে ফুটবলার করিম বেনজেমার আইনজীবী হিসেবে পরিচয় করানো হয়েছে। ওই বিবরণে দাবি করা হয়, করমিয়ে ও রিবেরি এক স্থানে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের খোঁজ করছিলেন, যা পুলিশি হস্তক্ষেপের কারণ হয়। অভিযোগগুলো গুরুতর হলেও, এগুলোর প্রেক্ষাপট ও যাচাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

বিচার বিভাগ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এপস্টেইন ফাইলে কারও নাম থাকা মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। এসব নথিতে বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ নেই। ডিওজে সতর্ক করেছে, অনেক তথ্যই পর্যাপ্ত প্রমাণ বা স্পষ্ট প্রেক্ষাপট ছাড়া অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নথিগুলোতে যাচাই না করা অভিযোগ এবং পরোক্ষ তথ্যের উপস্থিতি রয়েছে। ফলে কেবল নামের উল্লেখকে অপরাধের প্রমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। এ কারণে নথি প্রকাশের প্রক্রিয়া নিয়েও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। আইনপ্রণেতা ও ভুক্তভোগী অধিকার সংগঠনগুলো সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ এবং তথ্য গোপনের অসংগতিপূর্ণ পদ্ধতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

রিবেরির ক্ষেত্রে এসব নথি নতুন কোনো আইনি প্রক্রিয়ার সূচনা করছে না। উল্লেখযোগ্য যে, ২০১০ সালে তিনি ও করিম বেনজেমা অপ্রাপ্তবয়স্ক এক যৌনকর্মীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগে তদন্তের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তবে ফ্রান্সের একটি আদালত ২০১৪ সালে সেই মামলা খারিজ করে দেয়।

এখনো লক্ষ লক্ষ পৃষ্ঠার নথি সাংবাদিক, গবেষক ও সাধারণ মানুষ পর্যালোচনা করে যাচ্ছেন। এই প্রক্রিয়ায় রিবেরির মতো পরিচিত নাম উঠে আসা স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও ন্যায়বিচারের ভারসাম্য রক্ষার জটিল দিকগুলোকে সামনে এনেছে। এপস্টেইন ফাইলগুলো একটি ভয়াবহ অপরাধ নেটওয়ার্কের চিত্র তুলে ধরলেও, একই সঙ্গে দায়িত্বশীল বিশ্লেষণ ও সতর্কতার প্রয়োজনীয়তাও স্পষ্ট করে দিচ্ছে।