ঢাকা ০২:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo ২২ বছর পর আফকন সেমিফাইনালে মরক্কো, ক্যামেরুনকে হারিয়ে শেষ চারে Logo ইসিতে আপিল শুনানির প্রথম দিনে ৫২ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা Logo সীমানা সংক্রান্ত আপিল বিভাগের আদেশে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের ভোট স্থগিত Logo বিচ্ছেদের বিষয়টি সত্য বলে স্বীকার করলেন তাহসান Logo তামিমকে নিয়ে ওই মন্তব্য করা ঠিক হয়নি—ইফতেখার মিঠু Logo গুলশানে তারেক রহমানের সঙ্গে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের বৈঠক Logo যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক শৃঙ্খলা ভেঙে দিচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর সমালোচনায় জার্মান প্রেসিডেন্ট Logo বিএনপি সরকার হলে খেলোয়াড়দের জন্য ভাতা ও পেনশন চালুর প্রতিশ্রুতি দিলেন দুলু Logo ঢাকা-৯ আসনে তাসনিম জারার মনোনয়ন বৈধতা পেল ইসির আপিলে Logo ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: ইসিতে আপিল শুনানি চলছে

কিডনি সুস্থ রাখতে যেসব খাবার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি

নিজস্ব সংবাদ :

মানবদেহে কিডনি এমন একটি অঙ্গ, যা প্রাকৃতিক ফিল্টারের মতো কাজ করে। রক্ত থেকে বাড়তি পানি ও বর্জ্য আলাদা করে বের করে দেয়, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে, লোহিত রক্তকণিকা তৈরি করতে সহায়তা করে এবং হাড়ের জন্য প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম ভারসাম্য বজায় রাখে। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই অঙ্গের সক্ষমতা কমে যেতে পারে।

এ অবস্থায় অনেকেই জানতে চান—কেন কিডনির কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়? বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘসময় পানি কম পান করা, অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ কিডনির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। একবার কিডনির সমস্যা শুরু হলে তা পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা কঠিন হয়ে যায় এবং দীর্ঘমেয়াদে জটিল অবস্থার ঝুঁকি বাড়ে। তাই আগেভাগেই সচেতন থাকা জরুরি।

সঠিক খাবার বাছাই কিডনিকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় নিচের খাবারগুলো যোগ করলে কিডনি সুরক্ষায় সহায়তা পেতে পারেন।

বাঁধাকপি

বাঁধাকপিতে পটাশিয়াম কম থাকায় এটি কিডনির জন্য নিরাপদ খাবার হিসেবে বিবেচিত হয়। এতে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ফাইবার এবং ফলেট—যা দেহে প্রদাহ কমায় এবং শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। শরীরের কোষ মেরামত করতেও এই সব উপাদান সহায়তা করে, ফলে কিডনির টিস্যু সুরক্ষিত থাকে। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় বাঁধাকপি অন্তর্ভুক্ত করলে কিডনি সুস্থ রাখতে উপকার পাওয়া যায়।

লাল আঙুর

লাল আঙুর পলিফেনলসমৃদ্ধ একটি ফল, যা রক্তপ্রবাহ বাড়াতে ও কিডনিতে প্রদাহ কমাতে সহায়ক। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান শরীরকে টক্সিন ও অতিরিক্ত শর্করার ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে নিয়মিত লাল আঙুর বা আঙুরের রস গ্রহণ করলে কিডনির প্রাথমিক সমস্যায় উপকার মিলতে পারে। প্রতিদিন সামান্য পরিমাণ লাল আঙুর খাওয়া কিডনির জন্য উপকারী।

রসুন

রসুনে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহরোধী উপাদান কিডনির প্রদাহ কমাতে কার্যকর। এটি শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায় এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে—যা কিডনি নষ্ট হওয়ার অন্যতম কারণ। নিয়মিত রসুন খেলে কিডনির কোষগুলো সুরক্ষিত থাকে এবং সার্বিকভাবে কিডনির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।

ব্লুবেরি

ব্লুবেরি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফ্ল্যাভোনয়েডসমৃদ্ধ একটি ফল, যা কিডনি কোষকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। নিয়মিত ব্লুবেরি খেলে কিডনিতে প্রদাহ কমে এবং কার্যক্ষমতা উন্নত হয়। তাজা কিংবা ফ্রোজেন—যেভাবেই হোক, প্রতিদিন এক মুঠো ব্লুবেরি কিডনির জন্য বেশ উপকারী হতে পারে।

ফুলকপি

ফুলকপিতে কম পটাশিয়াম থাকায় কিডনির জন্য এটি নিরাপদ সবজি। এতে ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ফাইবার এবং ফলেট প্রচুর পরিমাণে থাকে। এসব উপাদান একসঙ্গে কাজ করে কিডনির প্রদাহ কমায় ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হ্রাস করে। ফুলকপি শরীরের ডিটক্স প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতেও ভূমিকা রাখে। চাইলে আলু বা ভাতের পরিবর্তে ফুলকপি রাইস খাওয়া যেতে পারে—এতে পটাশিয়াম কমে, আবার প্রয়োজনীয় পুষ্টিও পাওয়া যায়।

বি.দ্র:

এই তথ্য শুধুমাত্র সচেতনতার উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়েছে। চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১০:৪৬:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
৪৯ বার পড়া হয়েছে

কিডনি সুস্থ রাখতে যেসব খাবার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি

আপডেট সময় ১০:৪৬:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

মানবদেহে কিডনি এমন একটি অঙ্গ, যা প্রাকৃতিক ফিল্টারের মতো কাজ করে। রক্ত থেকে বাড়তি পানি ও বর্জ্য আলাদা করে বের করে দেয়, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে, লোহিত রক্তকণিকা তৈরি করতে সহায়তা করে এবং হাড়ের জন্য প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম ভারসাম্য বজায় রাখে। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই অঙ্গের সক্ষমতা কমে যেতে পারে।

এ অবস্থায় অনেকেই জানতে চান—কেন কিডনির কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়? বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘসময় পানি কম পান করা, অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ কিডনির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। একবার কিডনির সমস্যা শুরু হলে তা পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা কঠিন হয়ে যায় এবং দীর্ঘমেয়াদে জটিল অবস্থার ঝুঁকি বাড়ে। তাই আগেভাগেই সচেতন থাকা জরুরি।

সঠিক খাবার বাছাই কিডনিকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় নিচের খাবারগুলো যোগ করলে কিডনি সুরক্ষায় সহায়তা পেতে পারেন।

বাঁধাকপি

বাঁধাকপিতে পটাশিয়াম কম থাকায় এটি কিডনির জন্য নিরাপদ খাবার হিসেবে বিবেচিত হয়। এতে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ফাইবার এবং ফলেট—যা দেহে প্রদাহ কমায় এবং শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। শরীরের কোষ মেরামত করতেও এই সব উপাদান সহায়তা করে, ফলে কিডনির টিস্যু সুরক্ষিত থাকে। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় বাঁধাকপি অন্তর্ভুক্ত করলে কিডনি সুস্থ রাখতে উপকার পাওয়া যায়।

লাল আঙুর

লাল আঙুর পলিফেনলসমৃদ্ধ একটি ফল, যা রক্তপ্রবাহ বাড়াতে ও কিডনিতে প্রদাহ কমাতে সহায়ক। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান শরীরকে টক্সিন ও অতিরিক্ত শর্করার ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে নিয়মিত লাল আঙুর বা আঙুরের রস গ্রহণ করলে কিডনির প্রাথমিক সমস্যায় উপকার মিলতে পারে। প্রতিদিন সামান্য পরিমাণ লাল আঙুর খাওয়া কিডনির জন্য উপকারী।

রসুন

রসুনে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহরোধী উপাদান কিডনির প্রদাহ কমাতে কার্যকর। এটি শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায় এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে—যা কিডনি নষ্ট হওয়ার অন্যতম কারণ। নিয়মিত রসুন খেলে কিডনির কোষগুলো সুরক্ষিত থাকে এবং সার্বিকভাবে কিডনির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।

ব্লুবেরি

ব্লুবেরি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফ্ল্যাভোনয়েডসমৃদ্ধ একটি ফল, যা কিডনি কোষকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। নিয়মিত ব্লুবেরি খেলে কিডনিতে প্রদাহ কমে এবং কার্যক্ষমতা উন্নত হয়। তাজা কিংবা ফ্রোজেন—যেভাবেই হোক, প্রতিদিন এক মুঠো ব্লুবেরি কিডনির জন্য বেশ উপকারী হতে পারে।

ফুলকপি

ফুলকপিতে কম পটাশিয়াম থাকায় কিডনির জন্য এটি নিরাপদ সবজি। এতে ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ফাইবার এবং ফলেট প্রচুর পরিমাণে থাকে। এসব উপাদান একসঙ্গে কাজ করে কিডনির প্রদাহ কমায় ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হ্রাস করে। ফুলকপি শরীরের ডিটক্স প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতেও ভূমিকা রাখে। চাইলে আলু বা ভাতের পরিবর্তে ফুলকপি রাইস খাওয়া যেতে পারে—এতে পটাশিয়াম কমে, আবার প্রয়োজনীয় পুষ্টিও পাওয়া যায়।

বি.দ্র:

এই তথ্য শুধুমাত্র সচেতনতার উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়েছে। চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।