ঢাকা ০৬:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে শাকিরা ও বার্না বয়ের থিম সং ‘দাই দাই’ Logo পটুয়াখালীতে বন্ধ ঘর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার, রুমমেট পলাতক Logo বাংলাদেশি দুই শিক্ষার্থী হত্যার সন্দেহভাজন আবুঘরবেহ তিন বছর আগে মাকেও মারধর করেছিলেন Logo সংসদে নিজেকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করলেন জামায়াত নেতা তাহের Logo সাকিবের পাশাপাশি মাশরাফি ও দুর্জয়কেও আলোচনায় আনতে বললেন তামিম Logo বিএনপির প্রতি আস্থা হারাচ্ছি: সংসদে নাহিদ ইসলামের মন্তব্য Logo নিপীড়নের আশঙ্কা জানালে ভিসা নয়—যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নীতি Logo ভোজ্যতেলের দাম লিটারে ৪ টাকা বৃদ্ধি Logo ট্রাম্পকে ‘রাজার খোঁচা’ দিলেন ব্রিটিশ চার্লস, ফরাসি ভাষা নিয়ে ব্যঙ্গ Logo ডে-কেয়ারে হাত-পা বেঁধে রাখা ৫০ শিশু, নেশাদ্রব্য প্রয়োগের অভিযোগে তোলপাড়

নবী (সা.)-এর নামকরণ—স্বপ্ন, ইলহাম ও ভবিষ্যদ্বাণী

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

সংগৃহিত

নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর নামকরণ ছিল আল্লাহর বিশেষ পরিকল্পনা এবং গভীর হিকমতের বহিঃপ্রকাশ। ‘মুহাম্মাদ’ নামের অর্থ—‘যাকে অধিক প্রশংসা করা হয়’। এই নামের মধ্যেই ইঙ্গিত ছিল যে তিনি পুরো সৃষ্টিজগতের কাছে প্রশংসিত হবেন এবং তাঁর চরিত্র, নৈতিকতা ও নবুয়ত বিশ্বব্যাপী মর্যাদা অর্জন করবে।

জন্মের সপ্তম দিনে দাদা আব্দুল মুত্তালিব তাঁর আকিকার আয়োজন করেন এবং কুরাইশ গোত্রের সবাইকে ভোজে আমন্ত্রণ জানান। সবার সামনে তিনি নাতির নাম রাখেন ‘মুহাম্মাদ’। যেহেতু এই নাম আরবদের কাছে নতুন ছিল, তাই অনেকে নামটির অর্থ ও কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান—তিনি চান তাঁর নাতি আসমান ও জমিন উভয় জায়গায় প্রশংসার যোগ্য হোন। এই নাম তাঁর অন্তরে আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছিল বলে তিনি বিশ্বাস করতেন।

স্বপ্নের বার্তা

আব্দুল মুত্তালিব একবার একটি স্বপ্নে দেখেন—তার পিঠ থেকে রুপার একটি শেকল বের হয়ে আকাশ, জমিন, পূর্ব ও পশ্চিমকে যুক্ত করেছে। পরে শেকলটি এক উজ্জ্বল গাছে রূপ নেয়, যার আলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। স্বপ্ন বিশারদরা জানান—তার বংশে এমন এক সন্তান জন্ম নেবে যার অনুসারী ও প্রশংসাকারী হবে পুরো পৃথিবীর মানুষ। এই ব্যাখ্যাও নাম ‘মুহাম্মাদ’ বেছে নেওয়ার অন্যতম কারণ।

জন্মের অলৌকিক ঘটনা

আমেনা (রা.) নবী ﷺ -এর জন্মের সময় একটি বিশেষ আলো দেখতে পান, যা দূরের শাম অঞ্চলের প্রাসাদ পর্যন্ত আলোকিত করে। এ ঘটনা দাদা আব্দুল মুত্তালিবকে বুঝিয়ে দেয় যে এ সন্তান পৃথিবীর শেষ নবী এবং তাঁর নাম এমনই হওয়া উচিত যা তাঁর মর্যাদাকে প্রতিফলিত করে।

পূর্ববর্তী কিতাবেও ছিলেন প্রশংসিত ব্যক্তি

ইমাম ইবনু তাইমিয়া জানান, তিনি পূর্বের কিতাবের কয়েকটি নুসখায় নবী মুহাম্মদ ﷺ -এর আগমন সম্পর্কিত ভবিষ্যদ্বাণীর উল্লেখ দেখেছেন। এমনকি ইতিহাসে পাওয়া যায়—অনেকে তাদের সন্তানকে ‘মুহাম্মাদ’ নাম রাখতেন এই প্রত্যাশায় যে, হয়তো তাদের সন্তানই সেই ঘোষিত নবী হবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৮:২০:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫
১০৭ বার পড়া হয়েছে

নবী (সা.)-এর নামকরণ—স্বপ্ন, ইলহাম ও ভবিষ্যদ্বাণী

আপডেট সময় ০৮:২০:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫

নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর নামকরণ ছিল আল্লাহর বিশেষ পরিকল্পনা এবং গভীর হিকমতের বহিঃপ্রকাশ। ‘মুহাম্মাদ’ নামের অর্থ—‘যাকে অধিক প্রশংসা করা হয়’। এই নামের মধ্যেই ইঙ্গিত ছিল যে তিনি পুরো সৃষ্টিজগতের কাছে প্রশংসিত হবেন এবং তাঁর চরিত্র, নৈতিকতা ও নবুয়ত বিশ্বব্যাপী মর্যাদা অর্জন করবে।

জন্মের সপ্তম দিনে দাদা আব্দুল মুত্তালিব তাঁর আকিকার আয়োজন করেন এবং কুরাইশ গোত্রের সবাইকে ভোজে আমন্ত্রণ জানান। সবার সামনে তিনি নাতির নাম রাখেন ‘মুহাম্মাদ’। যেহেতু এই নাম আরবদের কাছে নতুন ছিল, তাই অনেকে নামটির অর্থ ও কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান—তিনি চান তাঁর নাতি আসমান ও জমিন উভয় জায়গায় প্রশংসার যোগ্য হোন। এই নাম তাঁর অন্তরে আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছিল বলে তিনি বিশ্বাস করতেন।

স্বপ্নের বার্তা

আব্দুল মুত্তালিব একবার একটি স্বপ্নে দেখেন—তার পিঠ থেকে রুপার একটি শেকল বের হয়ে আকাশ, জমিন, পূর্ব ও পশ্চিমকে যুক্ত করেছে। পরে শেকলটি এক উজ্জ্বল গাছে রূপ নেয়, যার আলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। স্বপ্ন বিশারদরা জানান—তার বংশে এমন এক সন্তান জন্ম নেবে যার অনুসারী ও প্রশংসাকারী হবে পুরো পৃথিবীর মানুষ। এই ব্যাখ্যাও নাম ‘মুহাম্মাদ’ বেছে নেওয়ার অন্যতম কারণ।

জন্মের অলৌকিক ঘটনা

আমেনা (রা.) নবী ﷺ -এর জন্মের সময় একটি বিশেষ আলো দেখতে পান, যা দূরের শাম অঞ্চলের প্রাসাদ পর্যন্ত আলোকিত করে। এ ঘটনা দাদা আব্দুল মুত্তালিবকে বুঝিয়ে দেয় যে এ সন্তান পৃথিবীর শেষ নবী এবং তাঁর নাম এমনই হওয়া উচিত যা তাঁর মর্যাদাকে প্রতিফলিত করে।

পূর্ববর্তী কিতাবেও ছিলেন প্রশংসিত ব্যক্তি

ইমাম ইবনু তাইমিয়া জানান, তিনি পূর্বের কিতাবের কয়েকটি নুসখায় নবী মুহাম্মদ ﷺ -এর আগমন সম্পর্কিত ভবিষ্যদ্বাণীর উল্লেখ দেখেছেন। এমনকি ইতিহাসে পাওয়া যায়—অনেকে তাদের সন্তানকে ‘মুহাম্মাদ’ নাম রাখতেন এই প্রত্যাশায় যে, হয়তো তাদের সন্তানই সেই ঘোষিত নবী হবেন।