ঢাকা ০৫:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২২ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo মার্কিন হস্তক্ষেপের ঝুঁকিতে পড়তে পারে আরও দেশ—সতর্কবার্তা ট্রাম্পের Logo আইপিএল সম্প্রচার স্থগিত রাখতে সরকারের নির্দেশ Logo ভোরে সিলেট অঞ্চলে ভূকম্পন, আবহাওয়া অফিসের ব্যাখ্যা Logo মোস্তাফিজ ইস্যুতে বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ শশী থারুর, বাংলাদেশকে পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনায় আপত্তি Logo পদত্যাগের ঢেউয়ে অস্থির এনসিপি, নতুন জোট ঘিরে প্রত্যাশাও রয়েছে Logo শেষ সময়ে গোল হজম করে জয়ের স্বাদ পেল না লিভারপুল Logo ভেনেজুয়েলার তেল খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি ভূমিকার ইঙ্গিত, মাদুরো ইস্যুতে ট্রাম্পের নতুন বার্তা Logo ঢাকা-৯ আসনে তাসনিম জারার মনোনয়ন বাতিল, ইসিতে আপিল করবেন  Logo ইয়ং টাইগার্স অনূর্ধ্ব-১৮ ক্রিকেটে শিরোপা জিতল খুলনা Logo  ঢাকায় এসে সাক্ষাৎ করলেও পাকিস্তানকে সতর্ক করলেন জয়শঙ্কর

পদত্যাগের ঢেউয়ে অস্থির এনসিপি, নতুন জোট ঘিরে প্রত্যাশাও রয়েছে

নিজস্ব সংবাদ :

জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমন্বয়ে ১২ দলীয় জোট গঠনের পর এনসিপির ভেতরে শুরু হয়েছে পদত্যাগের প্রবণতা। একাধিক নেতা দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন, যাদের কেউ কেউ জামায়াতের সঙ্গে জোটকে সিদ্ধান্তের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন। তাদের মতে, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গড়ার যে সংগ্রাম, সেখানে এনসিপির অবস্থান আর স্পষ্ট নেই—এই উপলব্ধি থেকেই তারা সরে দাঁড়িয়েছেন। তবে দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার জানিয়েছেন, কিছু অস্থিরতা থাকলেও অধিকাংশ নেতা-কর্মী জোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের উদ্যোগে আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি। দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন নাহিদ ইসলাম, সঙ্গে রয়েছেন জুলাই আন্দোলনের পরিচিত বহু মুখ। নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ১০ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১২৫ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে এনসিপি। দলটির দাবি ছিল, ধাপে ধাপে ৩০০ আসনেই এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে এবি পার্টি ও রাষ্ট্রসংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে জোট করে এনসিপি। এরপর দুই সপ্তাহের ব্যবধানে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোট গড়ে দলটি নতুন করে আলোচনায় আসে। এই সিদ্ধান্তের পরই দলের ভেতরে মতভেদ প্রকাশ পায়। অন্তত ৩০ জন নেতা সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। কিন্তু জোটের বিষয়ে অবস্থান অপরিবর্তিত থাকায় শুরু হয় পদত্যাগ। কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি ও তৃণমূল পর্যায় থেকে দেড় ডজনের বেশি নেতা দল ছাড়েন।

পদত্যাগকারী নেতাদের মধ্যে কেউ কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আবার কেউ রাজনীতি থেকে সাময়িকভাবে সরে দাঁড়িয়েছেন। দল ছাড়াদের একটি অংশের অভিযোগ, আসন্ন নির্বাচনে এনসিপি পুরোনো রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে এমন আপসে গেছে, যা তাদের কাছে আত্মমর্যাদাবিরোধী।

তবে নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতিকে বড় সংকট হিসেবে দেখছে না এনসিপি নেতৃত্ব। কেন্দ্রীয় নেতাদের ভাষ্য, দলটি গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিশ্বাসী। সারোয়ার তুষার জানান, পদত্যাগের ফলে যেসব শূন্যতা তৈরি হয়েছে, সেগুলো দ্রুত পূরণ করা হবে এবং সেই প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই চলমান। একই সঙ্গে তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন, দলের অধিকাংশ সদস্যই ১২ দলীয় জোটের পক্ষে রয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১২:১৯:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬
৫ বার পড়া হয়েছে

পদত্যাগের ঢেউয়ে অস্থির এনসিপি, নতুন জোট ঘিরে প্রত্যাশাও রয়েছে

আপডেট সময় ১২:১৯:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমন্বয়ে ১২ দলীয় জোট গঠনের পর এনসিপির ভেতরে শুরু হয়েছে পদত্যাগের প্রবণতা। একাধিক নেতা দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন, যাদের কেউ কেউ জামায়াতের সঙ্গে জোটকে সিদ্ধান্তের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন। তাদের মতে, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গড়ার যে সংগ্রাম, সেখানে এনসিপির অবস্থান আর স্পষ্ট নেই—এই উপলব্ধি থেকেই তারা সরে দাঁড়িয়েছেন। তবে দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার জানিয়েছেন, কিছু অস্থিরতা থাকলেও অধিকাংশ নেতা-কর্মী জোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের উদ্যোগে আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি। দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন নাহিদ ইসলাম, সঙ্গে রয়েছেন জুলাই আন্দোলনের পরিচিত বহু মুখ। নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ১০ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১২৫ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে এনসিপি। দলটির দাবি ছিল, ধাপে ধাপে ৩০০ আসনেই এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে এবি পার্টি ও রাষ্ট্রসংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে জোট করে এনসিপি। এরপর দুই সপ্তাহের ব্যবধানে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোট গড়ে দলটি নতুন করে আলোচনায় আসে। এই সিদ্ধান্তের পরই দলের ভেতরে মতভেদ প্রকাশ পায়। অন্তত ৩০ জন নেতা সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। কিন্তু জোটের বিষয়ে অবস্থান অপরিবর্তিত থাকায় শুরু হয় পদত্যাগ। কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি ও তৃণমূল পর্যায় থেকে দেড় ডজনের বেশি নেতা দল ছাড়েন।

পদত্যাগকারী নেতাদের মধ্যে কেউ কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আবার কেউ রাজনীতি থেকে সাময়িকভাবে সরে দাঁড়িয়েছেন। দল ছাড়াদের একটি অংশের অভিযোগ, আসন্ন নির্বাচনে এনসিপি পুরোনো রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে এমন আপসে গেছে, যা তাদের কাছে আত্মমর্যাদাবিরোধী।

তবে নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতিকে বড় সংকট হিসেবে দেখছে না এনসিপি নেতৃত্ব। কেন্দ্রীয় নেতাদের ভাষ্য, দলটি গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিশ্বাসী। সারোয়ার তুষার জানান, পদত্যাগের ফলে যেসব শূন্যতা তৈরি হয়েছে, সেগুলো দ্রুত পূরণ করা হবে এবং সেই প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই চলমান। একই সঙ্গে তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন, দলের অধিকাংশ সদস্যই ১২ দলীয় জোটের পক্ষে রয়েছেন।