‘মিস ইউনিভার্স’ ঘিরে আবারও বিতর্ক, সহ-মালিক অ্যান জাকাপংয়ের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
ব্যাংককে অনুষ্ঠিত এবারের ‘মিস ইউনিভার্স ২০২৫’ শেষ হতে না হতেই প্রতিযোগিতাটিকে ঘিরে নতুন বিতর্ক দেখা দিয়েছে। থাই ব্যবসায়ী ও প্রতিযোগিতার সহ-মালিক অ্যান জাকাপং জাকরাজুততিপের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে দক্ষিণ ব্যাংকক সিভিল কোর্ট গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। আদালতের এক কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, ৯ লাখ ৩০ হাজার ডলার—অর্থাৎ ৩০ মিলিয়ন বাত—জালিয়াতির মামলায় গত মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) এই আদেশ দেওয়া হয়।
এ বছরের প্রতিযোগিতা শুরুর আগেই নানা সমালোচনা চলছিল। সঞ্চালকের অশালীন মন্তব্য, যৌনতার অভিযোগসহ বেশ কিছু অনিয়ম ঘিরে অনুষ্ঠানটি বিতর্কের জন্ম দেয়। তবুও প্রতিযোগিতা শেষ হয় মিস মেক্সিকো ফাতিমা বোশের মুকুট জয়ের মধ্য দিয়ে। কিন্তু পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আলোচনার রেশ কাটার আগেই জাকাপংকে নিয়ে নতুন ঝড় শুরু হয়।
২০২৩ সালে জেকেএন গ্লোবাল গ্রুপে বিনিয়োগ করানোর সময় প্রয়োজনীয় তথ্য গোপন করা এবং বিনিয়োগ ফেরত দেওয়ার ভুয়া প্রতিশ্রুতি দেওয়ার অভিযোগে একজন প্লাস্টিক সার্জন তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেন। আদালতের ভাষ্য, জাকাপং জানতেন যে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তিনি অর্থ ফেরত দিতে সক্ষম হবেন না; তবুও তিনি বিনিয়োগে উৎসাহিত করেছেন, যা প্রতারণা হিসেবে গণ্য। নির্ধারিত রায় ঘোষণা অনুষ্ঠানে হাজির না হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় এবং নতুন রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ ডিসেম্বর।
এদিকে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, আর্থিক সংকটের মধ্যে জাকাপং ইতোমধ্যেই থাইল্যান্ড ছাড়িয়ে মেক্সিকোতে গেছেন। তবে মিস ইউনিভার্স অর্গানাইজেশন জানিয়েছে, এই মামলার সঙ্গে প্রতিযোগিতার ব্যবস্থাপনার কোনো সম্পর্ক নেই।
সম্প্রতি শেষ হওয়া ‘মিস ইউনিভার্স ২০২৫’-এও নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। লাইভ সম্প্রচারের সময় এক পুরুষ সঞ্চালক মিস মেক্সিকো ফাতিমা বোশকে প্রচারণামূলক কনটেন্ট না দেওয়ার অভিযোগে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেন। তার প্রতিবাদে বোশসহ কয়েকজন প্রতিযোগী মঞ্চ ত্যাগ করেন। পরে সঞ্চালক সংবাদ সম্মেলনে কাঁদতে কাঁদতে ক্ষমা চাইলে বিষয়টি আরও আলোচনার জন্ম দেয় এবং ঘটনাটি মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবামের নজরেও আসে।
উল্লেখ্য, একসময় মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মালিকানায় থাকা ‘মিস ইউনিভার্স’ ব্র্যান্ডটি ২০২২ সালে জাকাপংয়ের জেকেএন গ্লোবাল গ্রুপ ২০ মিলিয়ন ডলারে অধিগ্রহণ করে। পরবর্তীতে তারা প্রতিষ্ঠানটির অর্ধেক শেয়ার ১৬ মিলিয়ন ডলারে মেক্সিকোর লেগ্যাসি হোল্ডিং গ্রুপ ইউএসএ-এর কাছে বিক্রি করে।


























