ঢাকা ০২:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :

যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রফতানিতে ধাক্কা, বাংলাদেশের আয় কমেছে

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

চলতি বছরের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানিতে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি—এই দুই মাসে রফতানি কমেছে প্রায় ৮.৫ শতাংশ, যা খাতটির জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

 

অটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ থেকে পোশাক রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩৭ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কম। যদিও একই সময়ে চীন ও ভারতের রফতানিও হ্রাস পেয়েছে, তবে ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়া যথাক্রমে প্রায় ৩ ও ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

 

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভ্যন্তরীণ নানা জটিলতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি সংকট, টানা ছুটি এবং উৎপাদন ব্যাহত হওয়াও এর পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

এছাড়া শুল্কের চাপ, ক্রেতাদের ব্যয় কমানো, বন্দর জট এবং শিপমেন্ট সমস্যার মতো বিষয়গুলো রফতানি কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব কমছে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।

 

নেক্সাস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. রশিদ আহমেদ হোসাইনী বলেন, অন্য দেশগুলো দ্রুত নীতিগত পরিবর্তন আনলেও বাংলাদেশে সেই গতি তুলনামূলক ধীর। ফলে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

 

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতি বৈশ্বিক বাজারকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে, যা রফতানি খাতের পুনরুদ্ধারে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু জানান, ভবিষ্যতে বাজার ও জ্বালানি উৎসে বৈচিত্র্য আনতে হবে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর জোর দিতে হবে।

 

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, রফতানিমুখী শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারকে বিশেষ সহায়তা প্যাকেজ দিতে হবে। এর মধ্যে স্বল্প সুদের ঋণ, সফট লোন এবং প্রয়োজনে ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

 

উল্লেখ্য, একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানিও কমেছে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে দেশটি প্রায় ১১৭০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৩.৫ শতাংশ কম।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০১:০২:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
৭ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রফতানিতে ধাক্কা, বাংলাদেশের আয় কমেছে

আপডেট সময় ০১:০২:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

চলতি বছরের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানিতে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি—এই দুই মাসে রফতানি কমেছে প্রায় ৮.৫ শতাংশ, যা খাতটির জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

 

অটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ থেকে পোশাক রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩৭ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কম। যদিও একই সময়ে চীন ও ভারতের রফতানিও হ্রাস পেয়েছে, তবে ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়া যথাক্রমে প্রায় ৩ ও ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

 

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভ্যন্তরীণ নানা জটিলতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি সংকট, টানা ছুটি এবং উৎপাদন ব্যাহত হওয়াও এর পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

এছাড়া শুল্কের চাপ, ক্রেতাদের ব্যয় কমানো, বন্দর জট এবং শিপমেন্ট সমস্যার মতো বিষয়গুলো রফতানি কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব কমছে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।

 

নেক্সাস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. রশিদ আহমেদ হোসাইনী বলেন, অন্য দেশগুলো দ্রুত নীতিগত পরিবর্তন আনলেও বাংলাদেশে সেই গতি তুলনামূলক ধীর। ফলে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

 

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতি বৈশ্বিক বাজারকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে, যা রফতানি খাতের পুনরুদ্ধারে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু জানান, ভবিষ্যতে বাজার ও জ্বালানি উৎসে বৈচিত্র্য আনতে হবে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর জোর দিতে হবে।

 

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, রফতানিমুখী শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারকে বিশেষ সহায়তা প্যাকেজ দিতে হবে। এর মধ্যে স্বল্প সুদের ঋণ, সফট লোন এবং প্রয়োজনে ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

 

উল্লেখ্য, একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানিও কমেছে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে দেশটি প্রায় ১১৭০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৩.৫ শতাংশ কম।