ঢাকা ১১:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo ইডেন কলেজ ছাত্রলীগ নেত্রী তামান্না জেসমিন রিভার জামিন, হাইকোর্টের রুল জারি Logo জাটকা সংরক্ষণে ৭–১৩ এপ্রিল বিশেষ সপ্তাহ, ১৫ এপ্রিল থেকে ৫৮ দিনের মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা Logo ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহ, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাইকমিশনারের বৈঠক Logo হামের উপসর্গে একদিনে ১০ মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৫৪ Logo জ্বালানিসংকটের প্রভাবে জাহাজ ভাড়া বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ Logo কিশোরগঞ্জে তুলার গুদামে অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস Logo সংবিধান নিয়ে খালেদা জিয়ার বক্তব্য ছিল রূপক—সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo বাইব্যাক শর্তে নিকো পাজকে ফেরাতে চায় রিয়াল মাদ্রিদ Logo সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরের সার্ভার রুমে আগুন, ইমিগ্রেশন সেবা বন্ধ Logo তদন্ত কমিটির ডাকে সাড়া না দেওয়ার ব্যাখ্যা দিলেন আসিফ মাহমুদ

সিলেটের সাদা পাথর লুট: তদন্ত ও ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টে রিট আবেদন

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

 

সিলেটের সাদা পাথর এলাকায় পাথর লুটের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। রিটটি দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মীর একেএম নূরুন নবী। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) তিনি গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানান।

রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাদা পাথর লুটে জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিষ্ক্রিয়তার কারণ জানতে চেয়ে একটি রুল জারির অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এছাড়া, ঘটনার তদন্ত করে ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। রিটে স্বরাষ্ট্রসচিব, পরিবেশ সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি), কোম্পানীগঞ্জের ইউএনওসহ মোট ১০ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

এদিকে, বুধবার রাতে সিলেট জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় সাদা পাথর এলাকা রক্ষা ও লুট হওয়া পাথর পুনঃস্থাপনে পাঁচটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

সিদ্ধান্তগুলো হলো:
১. জাফলং ইসিএ ও সাদা পাথর এলাকায় ২৪ ঘণ্টা যৌথবাহিনী টহল দেবে।
২. গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জে যৌথবাহিনীর সহযোগিতায় স্থায়ী পুলিশ চেকপোস্ট থাকবে।
৩. অবৈধ ক্রাশিং মেশিনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও বন্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।
৪. পাথর চুরিতে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
৫. চুরি হওয়া পাথর উদ্ধার করে পূর্বের অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সরকারিভাবে কোয়ারিগুলো থেকে পাথর ও বালু উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনের গাফিলতি ও প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় পাথর লুটের ঘটনা বেড়েই চলেছে। এতে শুধু পরিবেশের ক্ষতি নয়, হুমকির মুখে পড়েছে সিলেটের পর্যটনশিল্পও।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের অভিযোগ, প্রশাসনের অসহযোগিতা ও প্রভাবশালী মহলের মদদে এই অপতৎপরতা অব্যাহত রয়েছে, যা এলাকাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সম্পদ রক্ষায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০১:৫৩:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫
১৭৮ বার পড়া হয়েছে

সিলেটের সাদা পাথর লুট: তদন্ত ও ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টে রিট আবেদন

আপডেট সময় ০১:৫৩:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫

 

সিলেটের সাদা পাথর এলাকায় পাথর লুটের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। রিটটি দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মীর একেএম নূরুন নবী। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) তিনি গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানান।

রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাদা পাথর লুটে জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিষ্ক্রিয়তার কারণ জানতে চেয়ে একটি রুল জারির অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এছাড়া, ঘটনার তদন্ত করে ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। রিটে স্বরাষ্ট্রসচিব, পরিবেশ সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি), কোম্পানীগঞ্জের ইউএনওসহ মোট ১০ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

এদিকে, বুধবার রাতে সিলেট জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় সাদা পাথর এলাকা রক্ষা ও লুট হওয়া পাথর পুনঃস্থাপনে পাঁচটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

সিদ্ধান্তগুলো হলো:
১. জাফলং ইসিএ ও সাদা পাথর এলাকায় ২৪ ঘণ্টা যৌথবাহিনী টহল দেবে।
২. গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জে যৌথবাহিনীর সহযোগিতায় স্থায়ী পুলিশ চেকপোস্ট থাকবে।
৩. অবৈধ ক্রাশিং মেশিনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও বন্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।
৪. পাথর চুরিতে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
৫. চুরি হওয়া পাথর উদ্ধার করে পূর্বের অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সরকারিভাবে কোয়ারিগুলো থেকে পাথর ও বালু উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনের গাফিলতি ও প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় পাথর লুটের ঘটনা বেড়েই চলেছে। এতে শুধু পরিবেশের ক্ষতি নয়, হুমকির মুখে পড়েছে সিলেটের পর্যটনশিল্পও।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের অভিযোগ, প্রশাসনের অসহযোগিতা ও প্রভাবশালী মহলের মদদে এই অপতৎপরতা অব্যাহত রয়েছে, যা এলাকাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সম্পদ রক্ষায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।