ঢাকা ০৩:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo গাজায় ইসরায়েলি অভিযানে প্রজন্ম ধ্বংসের করুণ চিত্র Logo লেবাননে আইডিএফের নতুন বিমান হামলা, নিহত হিজবুল্লাহর শীর্ষ আর্টিলারি কর্মকর্তা Logo দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মুন্সিগঞ্জে বিএনপির দুই নেতা বহিষ্কার Logo হামলা-মামলা দিয়ে নির্বাচন বন্ধ করা যাবে না: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী Logo মানবতাবিরোধী অপরাধ : চানখারপুলে ছয় হত্যাকাণ্ডের মামলার রায় আজ Logo রূপপুর প্রকল্পে ব্যয় বাড়ছে আরও সাড়ে ২৫ হাজার কোটি টাকা Logo জামায়াত আমিরের সঙ্গে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক, নির্বাচনসহ দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে আলোচনা Logo সাফ নারী ফুটসাল জয়ে বাংলাদেশের মেয়েদের অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান Logo স্বর্ণের দামে নতুন ইতিহাস, ২২ ক্যারেটের ভরি ছাড়াল ২ লাখ ৫৭ হাজার টাকা Logo সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত, উপকারভোগীর সংখ্যাও বাড়ছে

স্ত্রী ও শিশুর মৃত্যুতে ছাত্রলীগ নেতার প্যারোল বিতর্ক: যশোর ডিসি কার্যালয়ের ব্যাখ্যা

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

কারাবন্দি ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী ও নয় মাসের শিশুসন্তানের মৃত্যুর পর তাকে প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ার বিষয়টি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে যশোর জেলা প্রশাসন।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্যারোলে মুক্তির জন্য নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়নি। প্রশাসনের দাবি, আবেদন না থাকায় প্যারোলের প্রশ্নই ওঠে না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১৫ ডিসেম্বর বাগেরহাট কারাগার থেকে জুয়েল হাসান সাদ্দামকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর পর সময়ের স্বল্পতার কারণে পরিবার লিখিত আবেদন না করে কারাগারের গেটেই মরদেহ দেখানোর সিদ্ধান্ত নেয়— এমন তথ্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে পরিবারের বক্তব্য থেকে জানা গেছে।

যশোর ডিসি কার্যালয় জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে সব ছবি ও চিঠি ছড়িয়ে পড়েছে, সেগুলোর সঙ্গে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের কোনো সম্পর্ক নেই। একই সঙ্গে আবেদন করা সত্ত্বেও প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি— এমন দাবিকেও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করা হয়, কারণ কর্তৃপক্ষের কাছে এ সংক্রান্ত কোনো আবেদনই জমা পড়েনি।

তবে পরিবারের মৌখিক অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে কারা কর্তৃপক্ষ ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে আলোচনা করে মানবিক বিবেচনায় জুয়েল হাসান সাদ্দামকে কারাগারের ফটকে প্রায় পাঁচ মিনিটের জন্য স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ দেখার সুযোগ দেয়।

এর আগে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে স্বল্প সময়ের জন্য অ্যাম্বুলেন্সটি কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করে আবার বের হয়ে আসে। সে সময় নিহতদের স্বজনদের ১২ থেকে ১৫ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

পরে রাত ১২টার দিকে জানাজা শেষে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা ওরফে স্বর্ণালী (২২) এবং তাদের নয় মাস বয়সী সন্তান নাজিমকে পাশাপাশি দাফন করা হয়।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে কানিজ সুবর্ণার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই স্থান থেকে পাওয়া যায় তার শিশুসন্তানের মরদেহও। পুলিশ ও পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মানসিক হতাশা থেকে সন্তানকে হত্যার পর তিনি আত্মহত্যা করেন।

প্রসঙ্গত, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন জুয়েল হাসান সাদ্দাম। বর্তমানে একাধিক মামলায় তিনি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৪:৪৯:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
৫ বার পড়া হয়েছে

স্ত্রী ও শিশুর মৃত্যুতে ছাত্রলীগ নেতার প্যারোল বিতর্ক: যশোর ডিসি কার্যালয়ের ব্যাখ্যা

আপডেট সময় ০৪:৪৯:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

কারাবন্দি ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী ও নয় মাসের শিশুসন্তানের মৃত্যুর পর তাকে প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ার বিষয়টি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে যশোর জেলা প্রশাসন।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্যারোলে মুক্তির জন্য নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়নি। প্রশাসনের দাবি, আবেদন না থাকায় প্যারোলের প্রশ্নই ওঠে না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১৫ ডিসেম্বর বাগেরহাট কারাগার থেকে জুয়েল হাসান সাদ্দামকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর পর সময়ের স্বল্পতার কারণে পরিবার লিখিত আবেদন না করে কারাগারের গেটেই মরদেহ দেখানোর সিদ্ধান্ত নেয়— এমন তথ্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে পরিবারের বক্তব্য থেকে জানা গেছে।

যশোর ডিসি কার্যালয় জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে সব ছবি ও চিঠি ছড়িয়ে পড়েছে, সেগুলোর সঙ্গে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের কোনো সম্পর্ক নেই। একই সঙ্গে আবেদন করা সত্ত্বেও প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি— এমন দাবিকেও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করা হয়, কারণ কর্তৃপক্ষের কাছে এ সংক্রান্ত কোনো আবেদনই জমা পড়েনি।

তবে পরিবারের মৌখিক অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে কারা কর্তৃপক্ষ ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে আলোচনা করে মানবিক বিবেচনায় জুয়েল হাসান সাদ্দামকে কারাগারের ফটকে প্রায় পাঁচ মিনিটের জন্য স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ দেখার সুযোগ দেয়।

এর আগে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে স্বল্প সময়ের জন্য অ্যাম্বুলেন্সটি কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করে আবার বের হয়ে আসে। সে সময় নিহতদের স্বজনদের ১২ থেকে ১৫ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

পরে রাত ১২টার দিকে জানাজা শেষে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা ওরফে স্বর্ণালী (২২) এবং তাদের নয় মাস বয়সী সন্তান নাজিমকে পাশাপাশি দাফন করা হয়।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে কানিজ সুবর্ণার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই স্থান থেকে পাওয়া যায় তার শিশুসন্তানের মরদেহও। পুলিশ ও পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মানসিক হতাশা থেকে সন্তানকে হত্যার পর তিনি আত্মহত্যা করেন।

প্রসঙ্গত, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন জুয়েল হাসান সাদ্দাম। বর্তমানে একাধিক মামলায় তিনি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।