ঈদ বাজারে প্রাণচাঞ্চল্য, রেকর্ড লেনদেনের আশায় ব্যবসায়ীরা
ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের বাজারে কেনাকাটার ধুম পড়েছে। নিত্যপণ্যের দোকান থেকে শুরু করে বড় বড় শপিংমল—সব জায়গাতেই এখন উপচে পড়া ভিড়। এই উৎসবমুখর পরিবেশে অর্থনীতিতেও ইতিবাচক গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির তথ্যমতে, চলতি বছর ঈদকে কেন্দ্র করে লেনদেনের পরিমাণ ২ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত না থাকলে এই পরিমাণ আরও বাড়তে পারত।
ক্রেতারা পোশাক কেনার সময় কাপড়ের মান, ডিজাইন ও সেলাইয়ের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। পোশাকের পাশাপাশি জুতা, গয়না ও অন্যান্য সামগ্রীর দোকানেও ব্যাপক ভিড় দেখা যাচ্ছে। অনেকেই বলছেন, ঈদের আনন্দ নতুন পোশাক ছাড়া পূর্ণতা পায় না।
বিক্রি বাড়ায় স্বস্তিতে রয়েছেন ব্যবসায়ীরাও। তাদের মতে, নির্বাচনের পর থেকেই বেচাকেনা ধীরে ধীরে বাড়ছিল, আর ঈদকে ঘিরে সেই প্রবণতা আরও জোরদার হয়েছে।
দোকান মালিক সমিতির এক নেতা জানান, এবারের ঈদে লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ২ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
তবে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এই ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে জ্বালানি সংকট নিরসন জরুরি। কিছু ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ সমস্যা ও যানজট ব্যবসায় প্রভাব ফেলছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে বাজার আরও চাঙা থাকবে। চাঁদাবাজি বন্ধ করা এবং স্থিতিশীল পরিস্থিতি বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তারা আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে প্রবাসী আয় বাড়ত, যা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলত।
উল্লেখ্য, গত বছর ঈদকে কেন্দ্র করে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। এবার সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার আশায় রয়েছে ব্যবসায়ী মহল।

























