ঢাকা ১০:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo সকালে কোয়েলের ডিম খেলে মিলবে যে অসাধারণ উপকার Logo শীতে পানি কেন বেশি জরুরি—চমকে যাওয়ার মতো কারণ! Logo ঠান্ডায় রোগপ্রতিরোধ দুর্বল? প্রতিদিন খান এগুলো Logo বিশ্বে সবচেয়ে দুর্লভ রক্ত কোনটি? জানুন ‘গোল্ডেন ব্লাড’-এর রহস্য Logo বিশ্বজুড়ে নিষিদ্ধ আকাশসীমা: কেন উড়তে পারে না বিমান Logo খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় সিলেটে অসহায়দের মাঝে ছাত্রদলের খাবার বিতরণ Logo দুদকের তদন্তের মুখে ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান; শেখ হাসিনাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ Logo  তারেক রহমানের দেশে ফেরা প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান জানালেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা Logo  সিলেটে নিখোঁজ ছাতকের সৌরভ, খুঁজে পেতে সহযোগিতার আহ্বান Logo সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ ভবনে আগুন, অল্প সময়েই নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস

রংপুরে মাদরাসার টয়লেটে শিক্ষার্থীর মরদেহ, বলৎকারের পর হত্যার অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদ :

ছবি সংগৃহীত

রংপুরে মাদরাসার টয়লেটে শিক্ষার্থীর মরদেহ, বলৎকারের পর হত্যার অভিযোগ

সিনিয়র করেসপনডেন্ট, রংপুর:

রংপুর মহানগরীর একটি মাদরাসা থেকে সিয়াম (১১) নামের এক শিশু শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে ‍পুলিশ। বলাৎকারের পর ওই শিক্ষার্থীকে হত্যা করার অভিযোগ এনে থানায় মামলা করেছে নিহতের পরিবার। এ ঘটনায় তিনজন শিক্ষকসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃস্পতিবার (২৯ নভেম্বর) রাতে নগরীর বকুলতলা জান্নাতবাগ মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের তৃতীয় তলার টয়লেট থেকে ওই মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তের উদ্ধৃতি দিয়ে মহানগর কোতয়ালী থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, ওই মাদরাসা থেকে খবর পেয়ে রাতেই আমরা মাদরাসায় অভিযান চালাই। কিন্তু সেখানে গিয়ে জানতে পারি মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। সেখানে গিয়ে মর্গ থেকে আমরা মরদেহটি উদ্ধার করি এবং ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠাই।

তিনি আরও জানান, শিশু সিয়াম মিঠাপুকুরের বালারহাটের বুজরুক ঝালাই খন্দকারপাড়ার মনোয়ার হোসেন ভুট্টুর পুত্র। সে ওই মাদরাসায় লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে থাকতো এবং নাজেরা শাখায় পড়তো। সুরতহাল রিপোর্টে শিশুটির পায়ুপথে রক্ত এবং শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাত ও জখমের চিহ্ন রয়েছে।

পুলিশের ধারণা, বলৎকারের পর তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে সব কিছু ময়নাতদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় মাদরাসাটির শিক্ষক বোরহান উদদীন, আব্দুর রহমান, মনোয়ার হোসেন মাহমুদ ও ছাত্র মিজানুর রহমান ও মোখলেছ উদ্দিনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। এদিকে ঘটনাস্থল রেকি করেছে সিআইডির বিশেষ টিম। সেখান থেকে বিভিন্ন ধরণের আলামত জব্দ করেছে করেছে তারা।

গোলাম রসুল নামে মাদরাসাটির এক শিক্ষক জানান, মাদরাসাটির মক্তব শাখা শিক্ষককের ভাতিজা হলেন নিহত সিয়াম। প্রথতে তিনিই তাকে টয়লেটে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

বোরহান উদ্দিন নামের তার এক সহপাঠি বলেন, আমরা আসরের নামাজের পর একসাথে খেলেছি। মাগরিবের নামাজের আগে দোয়াও করেছি একসাথে। কিন্তু মাগরিবের নামাজের দোয়ার পর দেখি সিয়াম নাই। তারপর হুজুর শাপলা পর্যন্ত ওকে খুঁজে এসেছে। পরে আমরা খোঁজাখুঁজি করি। পরে হুজুর তিনতলার টয়লেটে এসে দেখে সিয়াম পড়ে আছে। এসময় তার মাথা মোচড়ানো এবং জিহবা বের করা ছিল।

এ ঘটনায় পিতা মনোয়ার হোসেন ভুট্টু বাদি হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেছেন, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটা থেকে সন্ধা সাড়ে ৬ টার মধ্যে যেকোন সময় জোড় পূর্বক বলৎকারের পর গলাটিপে হত্যা করেছে। এরপর ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে অন্য পায়জামা ও জামা পড়িয়ে তিন তলার টয়লেটে গিয়ে রাখে এবং অসুস্থ হওয়ার কথা বলে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় জড়িতদের ফাঁসির দাবি করেছেন তিনি।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৫:০২:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৪
১৮৯ বার পড়া হয়েছে

রংপুরে মাদরাসার টয়লেটে শিক্ষার্থীর মরদেহ, বলৎকারের পর হত্যার অভিযোগ

আপডেট সময় ০৫:০২:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৪

রংপুরে মাদরাসার টয়লেটে শিক্ষার্থীর মরদেহ, বলৎকারের পর হত্যার অভিযোগ

সিনিয়র করেসপনডেন্ট, রংপুর:

রংপুর মহানগরীর একটি মাদরাসা থেকে সিয়াম (১১) নামের এক শিশু শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে ‍পুলিশ। বলাৎকারের পর ওই শিক্ষার্থীকে হত্যা করার অভিযোগ এনে থানায় মামলা করেছে নিহতের পরিবার। এ ঘটনায় তিনজন শিক্ষকসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃস্পতিবার (২৯ নভেম্বর) রাতে নগরীর বকুলতলা জান্নাতবাগ মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের তৃতীয় তলার টয়লেট থেকে ওই মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তের উদ্ধৃতি দিয়ে মহানগর কোতয়ালী থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, ওই মাদরাসা থেকে খবর পেয়ে রাতেই আমরা মাদরাসায় অভিযান চালাই। কিন্তু সেখানে গিয়ে জানতে পারি মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। সেখানে গিয়ে মর্গ থেকে আমরা মরদেহটি উদ্ধার করি এবং ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠাই।

তিনি আরও জানান, শিশু সিয়াম মিঠাপুকুরের বালারহাটের বুজরুক ঝালাই খন্দকারপাড়ার মনোয়ার হোসেন ভুট্টুর পুত্র। সে ওই মাদরাসায় লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে থাকতো এবং নাজেরা শাখায় পড়তো। সুরতহাল রিপোর্টে শিশুটির পায়ুপথে রক্ত এবং শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাত ও জখমের চিহ্ন রয়েছে।

পুলিশের ধারণা, বলৎকারের পর তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে সব কিছু ময়নাতদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় মাদরাসাটির শিক্ষক বোরহান উদদীন, আব্দুর রহমান, মনোয়ার হোসেন মাহমুদ ও ছাত্র মিজানুর রহমান ও মোখলেছ উদ্দিনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। এদিকে ঘটনাস্থল রেকি করেছে সিআইডির বিশেষ টিম। সেখান থেকে বিভিন্ন ধরণের আলামত জব্দ করেছে করেছে তারা।

গোলাম রসুল নামে মাদরাসাটির এক শিক্ষক জানান, মাদরাসাটির মক্তব শাখা শিক্ষককের ভাতিজা হলেন নিহত সিয়াম। প্রথতে তিনিই তাকে টয়লেটে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

বোরহান উদ্দিন নামের তার এক সহপাঠি বলেন, আমরা আসরের নামাজের পর একসাথে খেলেছি। মাগরিবের নামাজের আগে দোয়াও করেছি একসাথে। কিন্তু মাগরিবের নামাজের দোয়ার পর দেখি সিয়াম নাই। তারপর হুজুর শাপলা পর্যন্ত ওকে খুঁজে এসেছে। পরে আমরা খোঁজাখুঁজি করি। পরে হুজুর তিনতলার টয়লেটে এসে দেখে সিয়াম পড়ে আছে। এসময় তার মাথা মোচড়ানো এবং জিহবা বের করা ছিল।

এ ঘটনায় পিতা মনোয়ার হোসেন ভুট্টু বাদি হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেছেন, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটা থেকে সন্ধা সাড়ে ৬ টার মধ্যে যেকোন সময় জোড় পূর্বক বলৎকারের পর গলাটিপে হত্যা করেছে। এরপর ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে অন্য পায়জামা ও জামা পড়িয়ে তিন তলার টয়লেটে গিয়ে রাখে এবং অসুস্থ হওয়ার কথা বলে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় জড়িতদের ফাঁসির দাবি করেছেন তিনি।