ঢাকা ১০:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ৩ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo আইপিএলে ইতিহাস গড়লেন মোস্তাফিজ, রেকর্ড দামে দলে নিল কলকাতা Logo বিজয় দিবসে সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস Logo বিজয় দিবসে সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস Logo বিজয় দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে জনসমুদ্র, শ্রদ্ধায় স্মরণ বীর শহীদদের Logo ভরিতে সর্বোচ্চ ১,৪৭০ টাকা বাড়ল স্বর্ণের দাম, নতুন দর কার্যকর ১৬ ডিসেম্বর থেকে Logo হাদি হত্যাচেষ্টা মামলায় ফয়সালের স্ত্রীসহ তিনজনের ৫ দিনের জিজ্ঞাসাবাদ মঞ্জুর Logo টাঙ্গাইলে ভেজাল জিরা বিক্রি করায় এক ব্যবসায়ীকে ২ লাখ টাকা জরিমানা Logo বিদেশে শরিফ ওসমান হাদির চিকিৎসা ব্যয় বহন করবে সরকার: অর্থ উপদেষ্টা Logo ‘একদম শুইয়ে দেব’, কোয়াব ম্যাচ ঘিরে মজার চ্যালেঞ্জ শান্তর Logo হাদির ওপর হামলা: ফয়সালের স্ত্রী, বান্ধবী ও শ্যালকসহ তিনজন র‌্যাবের হেফাজতে

দেশে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করছে না: আইসিইউতে ৪১% রোগী ঝুঁকিতে

নিজস্ব সংবাদ :

সংগৃহিত

দেশে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধের ঝুঁকি ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে

দেশে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) দ্রুত বাড়ছে বলে জানিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। তাদের তথ্যমতে, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি রোগীদের মধ্যে প্রায় ৪১ শতাংশ রোগী কোনো অ্যান্টিবায়োটিকেই সাড়া দিচ্ছে না, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

২৪ নভেম্বর আইইডিসিআরের নতুন ভবনে ‘ন্যাশনাল এএমআর সার্ভেলেন্স রিপোর্ট ২০২৫’ উন্মোচন করা হয়। প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা প্রফেসর ড. জাকির হোসেন হাবিব এ প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন।

২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত ছয় লাখের বেশি নমুনা পরীক্ষার ভিত্তিতে দেখা গেছে—দেশজুড়ে ব্যবহৃত ৭১ ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকের বড় একটি অংশই কার্যকারিতা হারাচ্ছে। আইসিইউতে পরিস্থিতি আরও খারাপ। সেখানে পরীক্ষা করা নমুনাগুলোর মধ্যে বহু ক্ষেত্রে কোনো অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

দেশে সবচেয়ে ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক

প্রতিবেদন অনুসারে, দেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১০টি অ্যান্টিবায়োটিক হলো—
সেফট্রিয়াক্সোন, সেফিক্সিম, মেরোপেনেম, সিপ্রোফ্লক্সাসিন, অ্যাজিথ্রোমাইসিন, অ্যামোক্সিসিলিন, মেট্রোনিডাজোল, ক্লক্সাসিলিন, পাইপেরাসিলিন-টাজোব্যাকটাম এবং ভ্যানকোমাইসিন।

প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে

  • প্যান-ড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট (পিডিআর) জীবাণু সব নমুনার ৭%, আর আইসিইউতে ৪১% পাওয়া গেছে। 
  • মাল্টি-ড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট (এমডিআর) জীবাণু সব নমুনায় ৪৬%, আইসিইউতে ৮৯% 
  • ‘ওয়াচ গ্রুপ’ অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার গত বছর থেকে বেড়ে ৯০.৯% হয়েছে। 

সবচেয়ে ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিকের মধ্যে সেফট্রিয়াক্সোনের ব্যবহার ছিল ৩৩% এবং মেরোপেনেমের ১৬%

শীর্ষ ঝুঁকির জীবাণুগুলোর প্রতিরোধ বেড়েছে

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘ক্রিটিক্যাল প্রায়োরিটি’ তালিকাভুক্ত জীবাণুগুলোর মধ্যেও প্রতিরোধক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে।

  • ক্লেবসিয়েলা নিউমোনিয়া 
    • সেফট্রিয়াক্সোন রেজিস্ট্যান্স: ৪০.১% → ৫২.২% 
    • মেরোপেনেম রেজিস্ট্যান্স: ১৬% → ২৯.২% 
  • অ্যাসিনেটোব্যাক্টর 
    • মেরোপেনেম রেজিস্ট্যান্স: ৪৬.৭% → ৭১% 
    • পিডিআর-এর মধ্যেও এই জীবাণুর অনুপাত সবচেয়ে বেশি (২৭%) 

রক্তের নমুনায় উদ্বেগজনক অবস্থা

এসডিজি সূচক অনুযায়ী—

  • এমআরএসএ পাওয়া গেছে ৫৩.৯% 
  • ইএসবিএল উৎপাদক ই. কোলি পাওয়া গেছে ৮৪.৩%, যা আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় অত্যন্ত বেশি। 

আইসিইউতে ৭১টি অ্যান্টিবায়োটিক পরীক্ষা করে দেখা গেছে—মাত্র ৫টিতে সংবেদনশীলতা ৮০% এর বেশি। বাকি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা ৬০% এর নিচে, যা গুরুতর রোগীদের চিকিৎসাকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।

আইইডিসিআরের সতর্কবার্তা

প্রফেসর ড. জাকির হোসেন হাবিব বলেন,
অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার এএমআর পরিস্থিতিকে বিপজ্জনক পর্যায়ে ঠেলে দিয়েছে। এখনই সচেতন না হলে এটি বড় জনস্বাস্থ্য হুমকিতে পরিণত হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৫:৪২:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
৩৮ বার পড়া হয়েছে

দেশে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করছে না: আইসিইউতে ৪১% রোগী ঝুঁকিতে

আপডেট সময় ০৫:৪২:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫

দেশে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধের ঝুঁকি ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে

দেশে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) দ্রুত বাড়ছে বলে জানিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। তাদের তথ্যমতে, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি রোগীদের মধ্যে প্রায় ৪১ শতাংশ রোগী কোনো অ্যান্টিবায়োটিকেই সাড়া দিচ্ছে না, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

২৪ নভেম্বর আইইডিসিআরের নতুন ভবনে ‘ন্যাশনাল এএমআর সার্ভেলেন্স রিপোর্ট ২০২৫’ উন্মোচন করা হয়। প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা প্রফেসর ড. জাকির হোসেন হাবিব এ প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন।

২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত ছয় লাখের বেশি নমুনা পরীক্ষার ভিত্তিতে দেখা গেছে—দেশজুড়ে ব্যবহৃত ৭১ ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকের বড় একটি অংশই কার্যকারিতা হারাচ্ছে। আইসিইউতে পরিস্থিতি আরও খারাপ। সেখানে পরীক্ষা করা নমুনাগুলোর মধ্যে বহু ক্ষেত্রে কোনো অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

দেশে সবচেয়ে ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক

প্রতিবেদন অনুসারে, দেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১০টি অ্যান্টিবায়োটিক হলো—
সেফট্রিয়াক্সোন, সেফিক্সিম, মেরোপেনেম, সিপ্রোফ্লক্সাসিন, অ্যাজিথ্রোমাইসিন, অ্যামোক্সিসিলিন, মেট্রোনিডাজোল, ক্লক্সাসিলিন, পাইপেরাসিলিন-টাজোব্যাকটাম এবং ভ্যানকোমাইসিন।

প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে

  • প্যান-ড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট (পিডিআর) জীবাণু সব নমুনার ৭%, আর আইসিইউতে ৪১% পাওয়া গেছে। 
  • মাল্টি-ড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট (এমডিআর) জীবাণু সব নমুনায় ৪৬%, আইসিইউতে ৮৯% 
  • ‘ওয়াচ গ্রুপ’ অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার গত বছর থেকে বেড়ে ৯০.৯% হয়েছে। 

সবচেয়ে ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিকের মধ্যে সেফট্রিয়াক্সোনের ব্যবহার ছিল ৩৩% এবং মেরোপেনেমের ১৬%

শীর্ষ ঝুঁকির জীবাণুগুলোর প্রতিরোধ বেড়েছে

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘ক্রিটিক্যাল প্রায়োরিটি’ তালিকাভুক্ত জীবাণুগুলোর মধ্যেও প্রতিরোধক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে।

  • ক্লেবসিয়েলা নিউমোনিয়া 
    • সেফট্রিয়াক্সোন রেজিস্ট্যান্স: ৪০.১% → ৫২.২% 
    • মেরোপেনেম রেজিস্ট্যান্স: ১৬% → ২৯.২% 
  • অ্যাসিনেটোব্যাক্টর 
    • মেরোপেনেম রেজিস্ট্যান্স: ৪৬.৭% → ৭১% 
    • পিডিআর-এর মধ্যেও এই জীবাণুর অনুপাত সবচেয়ে বেশি (২৭%) 

রক্তের নমুনায় উদ্বেগজনক অবস্থা

এসডিজি সূচক অনুযায়ী—

  • এমআরএসএ পাওয়া গেছে ৫৩.৯% 
  • ইএসবিএল উৎপাদক ই. কোলি পাওয়া গেছে ৮৪.৩%, যা আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় অত্যন্ত বেশি। 

আইসিইউতে ৭১টি অ্যান্টিবায়োটিক পরীক্ষা করে দেখা গেছে—মাত্র ৫টিতে সংবেদনশীলতা ৮০% এর বেশি। বাকি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা ৬০% এর নিচে, যা গুরুতর রোগীদের চিকিৎসাকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।

আইইডিসিআরের সতর্কবার্তা

প্রফেসর ড. জাকির হোসেন হাবিব বলেন,
অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার এএমআর পরিস্থিতিকে বিপজ্জনক পর্যায়ে ঠেলে দিয়েছে। এখনই সচেতন না হলে এটি বড় জনস্বাস্থ্য হুমকিতে পরিণত হবে।