হামের চিকিৎসার ব্যয় বেড়ে দিশেহারা পরিবারগুলো
হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা ব্যয়ের চাপে বিপাকে পড়ছেন অনেক পরিবার। কুষ্টিয়া সদরের এক মুদিদোকানি মো. সাকিবুর রহমান তার আট মাস বয়সী ছেলে মোহাম্মদ নোমান ফালাকের মৃত্যুর খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়ে লিখেছেন, সন্তান আর ফিরে আসবে না।
গত ২৫ মার্চ থেকে ফালাক কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিল। অবস্থার অবনতি হলে তাকে দুই দিনের জন্য রাজশাহীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে পিআইসিইউতে নেওয়া হয়। এই অল্প সময়েই যাতায়াতসহ প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। পরে আর্থিক চাপ সামলাতে না পেরে আবার কুষ্টিয়াতেই ফিরিয়ে আনা হয়। পুরো চিকিৎসায় এক লাখ টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে বলে জানান তার বাবা।
স্বজনদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে অনেক সময় প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্যালাইন বা সরঞ্জাম পাওয়া যায় না, ফলে বাইরে থেকে কিনতে হয়। এছাড়া বিভিন্ন পরীক্ষা, এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে নেওয়া, রোগীর স্বজনদের খাবার ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে মোট ব্যয় অনেক বেড়ে যায়—যা নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়ায়।
সাকিবুর রহমান বলেন, চিকিৎসকেরা সন্তানকে রাজশাহী বা ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দিলেও অর্থাভাবে তা সম্ভব হয়নি। তিনি আক্ষেপ করে জানান, দরিদ্র হওয়ায় উন্নত চিকিৎসা করাতে পারেননি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা তুলনামূলক কম খরচে হলেও রোগীকে বিভিন্ন জায়গায় স্থানান্তর করতে হলে ব্যয় দ্রুত বাড়ে। বেসরকারি হাসপাতালে খরচ আরও বেশি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে হামে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে ৩২ জন এবং উপসর্গ নিয়ে ১৬৬ শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময়ে হাজার হাজার শিশু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. মঈনুল আহসান জানান, বর্তমানে জেলা ও ঢাকার হাসপাতালগুলোর চিকিৎসা ব্যবস্থায় তেমন পার্থক্য নেই। তবে পিআইসিইউ সুবিধা প্রয়োজন হলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে, কারণ শিশুদের জন্য এ ধরনের সেবা সীমিত।
তিনি আরও বলেন, অনেক অভিভাবক আতঙ্কে রোগীকে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে নিয়ে যান, যা খরচ বাড়ায়। প্রয়োজন না হলে এক জায়গায় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়াই ভালো। সরকারি হাসপাতালে সরঞ্জাম সংকটের অভিযোগ থাকলেও তা প্রমাণিত হলে কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
সব মিলিয়ে, হামের চিকিৎসা শুধু শারীরিক নয়, আর্থিকভাবেও পরিবারগুলোকে বড় সংকটে ফেলছে—বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য এটি হয়ে উঠছে এক কঠিন বাস্তবতা।

















