ঢাকা ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo চিকিৎসার পর পুনর্বাসনের জন্য মালয়েশিয়ায় নেওয়া হলো মির্জা আব্বাসকে Logo দেবীদ্বারের সড়ক সংস্কারে জরুরি পদক্ষেপ চাইলেন এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ Logo জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ২০০ কোটি ডলার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী Logo অনলাইন ক্লাসে অনাগ্রহ, তবুও বৈশ্বিক বাস্তবতায় এগোতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী Logo ইতালির প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানে হতাশ ট্রাম্প, তীব্র মন্তব্য Logo কুয়াকাটায় বিমানবন্দর নিয়ে সরকারের অবস্থান জানালেন প্রধানমন্ত্রী Logo বৈশাখে জামায়াতের শোভাযাত্রা, দেশীয় সংস্কৃতি রক্ষার আহ্বান Logo ট্রাম্পকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও, ইরানপন্থি চ্যানেল বন্ধ করায় ইউটিউবের বিরুদ্ধে তেহরানের ক্ষোভ Logo অল্প বয়সের আবেগে নেওয়া বিয়ের সিদ্ধান্তকে ভুল বললেন অপু বিশ্বাস Logo পহেলা বৈশাখে টাঙ্গাইলে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

বিশ্বে সবচেয়ে দুর্লভ রক্ত কোনটি? জানুন ‘গোল্ডেন ব্লাড’-এর রহস্য

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

সংগৃহিত

বিশ্বে এমন একটি রক্তের গ্রুপ রয়েছে, যা এতটাই বিরল যে প্রতি ৬০ লাখ মানুষের মধ্যে গড়ে একজন এটি বহন করেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই রক্তকে ‘আরএইচ নাল’ বলা হয়, আর বিরলতা ও গুরুত্বের কারণে অনেকেই একে ডাকেন ‘গোল্ডেন ব্লাড’ নামে। গবেষকেরা এখন ল্যাবরেটরিতে এই ধরনের রক্ত তৈরি করার চেষ্টা করছেন, যাতে ভবিষ্যতে জীবন রক্ষায় এটি বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

রক্ত সঞ্চালনের ক্ষেত্রে মিল থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভিন্ন অ্যান্টিজেনের রক্ত শরীরে প্রবেশ করলে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা তা প্রত্যাখ্যান করতে পারে। এ কারণেই সঠিক মিলে রক্ত পাওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে—বিশেষ করে আরএইচ-নাল রক্তের ক্ষেত্রে, কারণ পৃথিবীতে এটি পাওয়া গেছে মাত্র প্রায় ৫০ জন মানুষের শরীরে।

আরএইচ-নাল রক্তধারীরা যদি কখনো রক্তের প্রয়োজন পড়ে, তাদের জন্য উপযুক্ত ডোনার খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। এই কারণে তাদের নিজের রক্ত পূর্বে সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে এই রক্তের বিশেষত্ব হলো—এটি প্রায় সব ধরনের রক্তের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে, যা গবেষকদের কাছে এটিকে অত্যন্ত মূল্যবান করে তোলে।

রক্তের ধরন নির্ধারিত হয় লোহিত রক্তকণিকার পৃষ্ঠে থাকা অ্যান্টিজেনের ওপর। সাধারণভাবে এবিও এবং আরএইচ সিস্টেম সবচেয়ে বেশি পরিচিত হলেও, বিজ্ঞানীরা ইতোমধ্যে ৪৭টি রক্ত গ্রুপ সনাক্ত করেছেন, যেখানে অ্যান্টিজেনের সংখ্যা ৩৬৬-এর বেশি।

আরএইচ নাল রক্তে ৫০টির মতো আরএইচ অ্যান্টিজেনের কোনোটিই থাকে না। ফলে তারা অন্য কোনো সাধারণ রক্ত গ্রহণ করতে পারে না, কিন্তু তাদের রক্ত প্রায় সব ধরনের আরএইচ গ্রুপে দেওয়া সম্ভব।

সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গেছে, জিনগত পরিবর্তনের কারণেই আরএইচ নাল রক্ত তৈরি হয়। ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ২০১৮ সালে ল্যাবে জিন এডিটিং (CRISPR-Cas9) প্রযুক্তি ব্যবহার করে এর অনুকরণ তৈরির কাজ করেন। অ্যান্টিজেন মুছে ফেলে তারা এমন কৃত্রিম রক্ত তৈরি করার চেষ্টা করছেন, যা অধিকাংশ মানুষের শরীরে ব্যবহার করা যাবে।

তবে এখনো ল্যাবে তৈরি রক্ত অধিক পরিমাণে উৎপাদনের উপযোগী নয়। লোহিত রক্তকণিকা পরিপক্ব হওয়ার প্রক্রিয়া জটিল হওয়ায়, গবেষকদের আরও সময় ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। তবুও ‘রিস্টোর’ নামক গবেষণা প্রকল্পে কৃত্রিম রক্ত মানুষের শরীরে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ শুরু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে হয়তো ল্যাবে এমন রক্ত উৎপাদন সম্ভব হবে, যা বিরল রক্তধারীদের জীবন বাঁচাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৯:৫২:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
১৮৩ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বে সবচেয়ে দুর্লভ রক্ত কোনটি? জানুন ‘গোল্ডেন ব্লাড’-এর রহস্য

আপডেট সময় ০৯:৫২:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

বিশ্বে এমন একটি রক্তের গ্রুপ রয়েছে, যা এতটাই বিরল যে প্রতি ৬০ লাখ মানুষের মধ্যে গড়ে একজন এটি বহন করেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই রক্তকে ‘আরএইচ নাল’ বলা হয়, আর বিরলতা ও গুরুত্বের কারণে অনেকেই একে ডাকেন ‘গোল্ডেন ব্লাড’ নামে। গবেষকেরা এখন ল্যাবরেটরিতে এই ধরনের রক্ত তৈরি করার চেষ্টা করছেন, যাতে ভবিষ্যতে জীবন রক্ষায় এটি বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

রক্ত সঞ্চালনের ক্ষেত্রে মিল থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভিন্ন অ্যান্টিজেনের রক্ত শরীরে প্রবেশ করলে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা তা প্রত্যাখ্যান করতে পারে। এ কারণেই সঠিক মিলে রক্ত পাওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে—বিশেষ করে আরএইচ-নাল রক্তের ক্ষেত্রে, কারণ পৃথিবীতে এটি পাওয়া গেছে মাত্র প্রায় ৫০ জন মানুষের শরীরে।

আরএইচ-নাল রক্তধারীরা যদি কখনো রক্তের প্রয়োজন পড়ে, তাদের জন্য উপযুক্ত ডোনার খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। এই কারণে তাদের নিজের রক্ত পূর্বে সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে এই রক্তের বিশেষত্ব হলো—এটি প্রায় সব ধরনের রক্তের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে, যা গবেষকদের কাছে এটিকে অত্যন্ত মূল্যবান করে তোলে।

রক্তের ধরন নির্ধারিত হয় লোহিত রক্তকণিকার পৃষ্ঠে থাকা অ্যান্টিজেনের ওপর। সাধারণভাবে এবিও এবং আরএইচ সিস্টেম সবচেয়ে বেশি পরিচিত হলেও, বিজ্ঞানীরা ইতোমধ্যে ৪৭টি রক্ত গ্রুপ সনাক্ত করেছেন, যেখানে অ্যান্টিজেনের সংখ্যা ৩৬৬-এর বেশি।

আরএইচ নাল রক্তে ৫০টির মতো আরএইচ অ্যান্টিজেনের কোনোটিই থাকে না। ফলে তারা অন্য কোনো সাধারণ রক্ত গ্রহণ করতে পারে না, কিন্তু তাদের রক্ত প্রায় সব ধরনের আরএইচ গ্রুপে দেওয়া সম্ভব।

সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গেছে, জিনগত পরিবর্তনের কারণেই আরএইচ নাল রক্ত তৈরি হয়। ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ২০১৮ সালে ল্যাবে জিন এডিটিং (CRISPR-Cas9) প্রযুক্তি ব্যবহার করে এর অনুকরণ তৈরির কাজ করেন। অ্যান্টিজেন মুছে ফেলে তারা এমন কৃত্রিম রক্ত তৈরি করার চেষ্টা করছেন, যা অধিকাংশ মানুষের শরীরে ব্যবহার করা যাবে।

তবে এখনো ল্যাবে তৈরি রক্ত অধিক পরিমাণে উৎপাদনের উপযোগী নয়। লোহিত রক্তকণিকা পরিপক্ব হওয়ার প্রক্রিয়া জটিল হওয়ায়, গবেষকদের আরও সময় ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। তবুও ‘রিস্টোর’ নামক গবেষণা প্রকল্পে কৃত্রিম রক্ত মানুষের শরীরে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ শুরু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে হয়তো ল্যাবে এমন রক্ত উৎপাদন সম্ভব হবে, যা বিরল রক্তধারীদের জীবন বাঁচাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।