ঢাকা ১১:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo রাজধানীতে অব্যাহত জ্বালানি সংকট, পাম্পে দীর্ঘ লাইন; আসাম থেকে আসছে ৫ হাজার টন ডিজেল Logo দায়িত্বে অনুপস্থিতি: রাঙ্গামাটির এক সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার সাময়িক বরখাস্ত Logo নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে নারীর অগ্রযাত্রা জরুরি: জুবাইদা রহমান Logo আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ: অধিকার, ন্যায়বিচার ও উদ্যোগের বার্তা Logo পাঁচ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস: দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি, তাপমাত্রায় সামান্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত Logo জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিদর্শন, নানা অনিয়মের চিত্র Logo জ্বালানি তেল নিয়ে আতঙ্কের কারণ নেই, পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে: জ্বালানি মন্ত্রী Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচন: সিটি করপোরেশন ভোটে বড় বাধা দেখছে না নির্বাচন কমিশন Logo আন্তর্জাতিক নারী দিবসে ‘অদম্য নারী’ সম্মাননা পাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া Logo ঐতিহাসিক ৭ মার্চ: স্বাধীনতার সংগ্রামে বাঙালিকে জাগিয়ে তুলেছিলেন বঙ্গবন্ধু

শেখ হাসিনা, কামালের ফাঁসির আদেশ

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

গত বছরের জুলাই মাসে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। একই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হিসেবে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানকারী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারকে প্রধান করে গঠিত ট্রাইব্যুনালের তিন সদস্যের বেঞ্চ এই রায় দেন। অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। ৪৫৩ পৃষ্ঠার এই রায়ে মোট ছয়টি পৃথক অংশ রয়েছে।

রায়ে বলা হয়—তিনজন আসামির বিরুদ্ধেই মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামাল পলাতক অবস্থায় থাকায় তাদের বিরুদ্ধে দেওয়া শাস্তির পাশাপাশি তাদের সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তা জুলাই শহীদ পরিবারগুলোর অনুকূলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত আরও উল্লেখ করে যে, মামুনের অপরাধ সর্বোচ্চ শাস্তিযোগ্য হলেও তার স্বীকারোক্তি ও রাজসাক্ষী হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, পলাতক অবস্থায় থাকায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামাল আপিলের সুযোগ পাবেন না বলে জানায় প্রসিকিউশন। প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার জানান—ট্রাইব্যুনাল আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হলে আসামিকে আত্মসমর্পণ করতে হবে অথবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে গ্রেফতার হতে হবে।

এ মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গত ১ জুন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। সেখানে তিন আসামির বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়—
১. ১৪ জুলাই গণভবনের সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্য
২. হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নির্মূলের নির্দেশ
৩. রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা
৪. রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা
৫. আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে মারা

গত ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল এই অভিযোগগুলো গঠন করে। ওই দিন গ্রেফতার থাকা চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন অপরাধে তার সম্পৃক্ততা স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন করেন, যা পরে আদালত গ্রহণ করে। অন্য দুই আসামি রায় ঘোষণার আগেই পলাতক হয়ে যান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৩:৫৩:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫
১১৪ বার পড়া হয়েছে

শেখ হাসিনা, কামালের ফাঁসির আদেশ

আপডেট সময় ০৩:৫৩:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫

গত বছরের জুলাই মাসে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। একই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হিসেবে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানকারী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারকে প্রধান করে গঠিত ট্রাইব্যুনালের তিন সদস্যের বেঞ্চ এই রায় দেন। অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। ৪৫৩ পৃষ্ঠার এই রায়ে মোট ছয়টি পৃথক অংশ রয়েছে।

রায়ে বলা হয়—তিনজন আসামির বিরুদ্ধেই মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামাল পলাতক অবস্থায় থাকায় তাদের বিরুদ্ধে দেওয়া শাস্তির পাশাপাশি তাদের সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তা জুলাই শহীদ পরিবারগুলোর অনুকূলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত আরও উল্লেখ করে যে, মামুনের অপরাধ সর্বোচ্চ শাস্তিযোগ্য হলেও তার স্বীকারোক্তি ও রাজসাক্ষী হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, পলাতক অবস্থায় থাকায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামাল আপিলের সুযোগ পাবেন না বলে জানায় প্রসিকিউশন। প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার জানান—ট্রাইব্যুনাল আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হলে আসামিকে আত্মসমর্পণ করতে হবে অথবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে গ্রেফতার হতে হবে।

এ মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গত ১ জুন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। সেখানে তিন আসামির বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়—
১. ১৪ জুলাই গণভবনের সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্য
২. হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নির্মূলের নির্দেশ
৩. রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা
৪. রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা
৫. আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে মারা

গত ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল এই অভিযোগগুলো গঠন করে। ওই দিন গ্রেফতার থাকা চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন অপরাধে তার সম্পৃক্ততা স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন করেন, যা পরে আদালত গ্রহণ করে। অন্য দুই আসামি রায় ঘোষণার আগেই পলাতক হয়ে যান।