ঢাকা ০৯:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo ঢাবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, সংশ্লিষ্টতায় শিক্ষক আটক Logo বাবার অভিযোগ থেকে নিজেকে আলাদা করলেন পূজা চেরি Logo সাকিব-মাশরাফির প্ল্যাকার্ড নিয়ে মাঠে প্রবেশে আর থাকছে না বাধা Logo গুলির শব্দে নৈশভোজে আতঙ্ক, ট্রাম্প–মেলানিয়াসহ অতিথিদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয় Logo ৫২ দিনে ৪৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঋণ গ্রহণ নিয়ে সংসদে রুমিন ফারহানার কঠোর সমালোচনা Logo মেরামত শেষে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল পুনরায় চালু, স্বাভাবিক হচ্ছে গ্যাস সরবরাহ Logo রাজধানীতে অপরাধ দমনে ‘ব্লক রেইড’ অভিযান জোরালো Logo কারিকুলাম সংস্কার অপরিহার্য, শিক্ষার মান বাড়াতে জোর দিলেন শিক্ষামন্ত্রী Logo বক্তৃতার মাঝে হাস্যরস, ‘খিদা লাগছে’ বললেন প্রধানমন্ত্রী Logo সুইমিংপুলে অচেতন অবস্থায় মিলল অভিনেত্রী নাদিয়া, পরে মৃত্যু

ইয়েমেন উপকূলে নৌকাডুবিতে ৬৮ শরণার্থী ও অভিবাসীর প্রাণহানি

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

 

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইয়েমেনের উপকূলে এক মর্মান্তিক নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ৬৮ জন আফ্রিকান শরণার্থী ও অভিবাসী প্রাণ হারিয়েছেন। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৭৪ জন। ধারণা করা হচ্ছে, নৌকাটিতে মোট দেড় শতাধিক যাত্রী ছিলেন, যাদের সবাই আফ্রিকার নাগরিক।

রবিবার (৩ আগস্ট) জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) সূত্রে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই তথ্য জানায়।

আইওএম-এর ইয়েমেন প্রধান আবদুসাত্তার এসোয়েভ অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-কে জানান, ডুবে যাওয়া নৌকাটিতে ১৫৪ জন ইথিওপীয় অভিবাসী ছিলেন। এটি ইয়েমেনের আবিয়ান প্রদেশের উপকূলে ডুবে যায়। এখন পর্যন্ত ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

খানফার জেলার উপকূলে ৫৪টি মৃতদেহ ভেসে আসে, আর আরেকটি স্থানে আরও ১৪টি মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। এর আগে ইয়েমেনের স্বাস্থ্য বিভাগ ৫৪ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল।

জাঞ্জিবার শহরের স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালক আবদুল কাদের বাজামিল জানান, নিহতদের দাফনের জন্য শাকরা এলাকার কাছে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

আফ্রিকার হর্ন অঞ্চল থেকে ইয়েমেনে যাত্রার এই সমুদ্রপথটি দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবহৃত হলেও এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে বিবেচিত। ২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই রুটে যাত্রার সংখ্যা বেড়েছে।

যদিও ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর যুদ্ধবিরতির পর সহিংসতা কিছুটা কমে এসেছে এবং মানবিক সংকটও কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।

সোমালিয়া ও ইথিওপিয়ার মতো সংঘাতকবলিত দেশ থেকে আসা মানুষজন ইয়েমেন হয়ে উপসাগরীয় ধনী দেশগুলোর দিকে যাত্রা করার চেষ্টা করছেন। আইওএম-এর মতে, এই রুটটি বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এবং ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসনপথ হিসেবে পরিচিত।

আইওএম-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজার শরণার্থী ও অভিবাসী ইয়েমেনে পৌঁছেছেন। আগের বছর এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৯৭ হাজার ২০০। সংস্থাটি জানায়, সমুদ্রপথে নজরদারি বাড়ার কারণে অভিবাসীর সংখ্যা কিছুটা কমেছে।

গত দুই বছরে এই পথে শত শত মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আইওএম জানায়, ২০২৩ সালে এই রুটে ৫৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিগত দশ বছরে এই পথে নিখোঁজ হওয়া মানুষের সংখ্যা ২ হাজার ৮২ জন, যাদের মধ্যে ৬৯৩ জনের সাগরে ডুবে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বর্তমানে ইয়েমেনে আনুমানিক ৩ লাখ ৮০ হাজার শরণার্থী ও অভিবাসী অবস্থান করছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১২:৩০:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫
১৩৪ বার পড়া হয়েছে

ইয়েমেন উপকূলে নৌকাডুবিতে ৬৮ শরণার্থী ও অভিবাসীর প্রাণহানি

আপডেট সময় ১২:৩০:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫

 

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইয়েমেনের উপকূলে এক মর্মান্তিক নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ৬৮ জন আফ্রিকান শরণার্থী ও অভিবাসী প্রাণ হারিয়েছেন। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৭৪ জন। ধারণা করা হচ্ছে, নৌকাটিতে মোট দেড় শতাধিক যাত্রী ছিলেন, যাদের সবাই আফ্রিকার নাগরিক।

রবিবার (৩ আগস্ট) জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) সূত্রে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই তথ্য জানায়।

আইওএম-এর ইয়েমেন প্রধান আবদুসাত্তার এসোয়েভ অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-কে জানান, ডুবে যাওয়া নৌকাটিতে ১৫৪ জন ইথিওপীয় অভিবাসী ছিলেন। এটি ইয়েমেনের আবিয়ান প্রদেশের উপকূলে ডুবে যায়। এখন পর্যন্ত ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

খানফার জেলার উপকূলে ৫৪টি মৃতদেহ ভেসে আসে, আর আরেকটি স্থানে আরও ১৪টি মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। এর আগে ইয়েমেনের স্বাস্থ্য বিভাগ ৫৪ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল।

জাঞ্জিবার শহরের স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালক আবদুল কাদের বাজামিল জানান, নিহতদের দাফনের জন্য শাকরা এলাকার কাছে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

আফ্রিকার হর্ন অঞ্চল থেকে ইয়েমেনে যাত্রার এই সমুদ্রপথটি দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবহৃত হলেও এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে বিবেচিত। ২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই রুটে যাত্রার সংখ্যা বেড়েছে।

যদিও ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর যুদ্ধবিরতির পর সহিংসতা কিছুটা কমে এসেছে এবং মানবিক সংকটও কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।

সোমালিয়া ও ইথিওপিয়ার মতো সংঘাতকবলিত দেশ থেকে আসা মানুষজন ইয়েমেন হয়ে উপসাগরীয় ধনী দেশগুলোর দিকে যাত্রা করার চেষ্টা করছেন। আইওএম-এর মতে, এই রুটটি বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এবং ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসনপথ হিসেবে পরিচিত।

আইওএম-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজার শরণার্থী ও অভিবাসী ইয়েমেনে পৌঁছেছেন। আগের বছর এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৯৭ হাজার ২০০। সংস্থাটি জানায়, সমুদ্রপথে নজরদারি বাড়ার কারণে অভিবাসীর সংখ্যা কিছুটা কমেছে।

গত দুই বছরে এই পথে শত শত মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আইওএম জানায়, ২০২৩ সালে এই রুটে ৫৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিগত দশ বছরে এই পথে নিখোঁজ হওয়া মানুষের সংখ্যা ২ হাজার ৮২ জন, যাদের মধ্যে ৬৯৩ জনের সাগরে ডুবে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বর্তমানে ইয়েমেনে আনুমানিক ৩ লাখ ৮০ হাজার শরণার্থী ও অভিবাসী অবস্থান করছেন।