ঢাকা ০২:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo ঢাবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, সংশ্লিষ্টতায় শিক্ষক আটক Logo বাবার অভিযোগ থেকে নিজেকে আলাদা করলেন পূজা চেরি Logo সাকিব-মাশরাফির প্ল্যাকার্ড নিয়ে মাঠে প্রবেশে আর থাকছে না বাধা Logo গুলির শব্দে নৈশভোজে আতঙ্ক, ট্রাম্প–মেলানিয়াসহ অতিথিদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয় Logo ৫২ দিনে ৪৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঋণ গ্রহণ নিয়ে সংসদে রুমিন ফারহানার কঠোর সমালোচনা Logo মেরামত শেষে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল পুনরায় চালু, স্বাভাবিক হচ্ছে গ্যাস সরবরাহ Logo রাজধানীতে অপরাধ দমনে ‘ব্লক রেইড’ অভিযান জোরালো Logo কারিকুলাম সংস্কার অপরিহার্য, শিক্ষার মান বাড়াতে জোর দিলেন শিক্ষামন্ত্রী Logo বক্তৃতার মাঝে হাস্যরস, ‘খিদা লাগছে’ বললেন প্রধানমন্ত্রী Logo সুইমিংপুলে অচেতন অবস্থায় মিলল অভিনেত্রী নাদিয়া, পরে মৃত্যু

‘কবুল’ না বলে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বললে কি বিয়ে হবে?

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

ছবি: সংগৃহীত

ইসলামে নারী ও পুরুষের পরস্পরের বৈধ সম্পর্কের একমাত্র মাধ্যম বিয়ে। এর মাধ্যমে বংশ বিস্তার হয়। এটি মহান আল্লাহর এক বিশেষ নেয়ামত ও রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নত।

 

বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য ইজাব-কবুল আবশ্যক। এর মাধ্যমেই বিয়ে সম্পাদন হয়। কোনো ছেলে কোনো মেয়েকে বলে- ‘‌আমি তোমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিচ্ছি’ আর মেয়ে যদি এ প্রস্তাবের উত্তরে বলে ‘কবুল করলাম’ তবে কি এ বিয়ে সম্পাদন হয়ে যাবে? বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য কি কবুল বলতেই হবে?

ইসলামি শরিয়তে বিয়ের পদ্ধতি হলো, দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে এক পক্ষ ইজাব করেন (প্রস্তাব দেন), আরেক পক্ষ গ্রহণ করেন (কবুল করেন)- এভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয়। ইজাব-কবুলের মাধ্যমে বিয়ে হওয়ার শর্তঃ

 

এক. পাত্র-পাত্রীকে প্রাপ্ত বয়স্ক, জ্ঞানসম্পন্ন মুসলমান হতে হবে।
দুই. পাত্র-পাত্রী নিজ সম্মতিতে ‘ইজাব-কবুল’ বলবে এবং উভয়ে পরস্পর নিজ নিজ কানে শুনতে হবে। অভিভাবক কিংবা প্রতিনিধির মাধ্যমে বিয়ে অনুষ্ঠিত হলে অভিভাবকরা ছেলের প্রস্তাব মেয়েকে বলবে, মেয়ের ‘কবুল’ বলার শব্দ প্রতিনিধিদের নিজ কানে শুনতে হবে।
তিন. বিয়ের ‘ইজাব-কবুল’ শোনার জন্য দুজন প্রাপ্তবয়স্ক, জ্ঞানবান সাক্ষী কিংবা একজন পুরুষ ও দুজন জ্ঞানবান, প্রাপ্তবয়স্ক নারী বিয়ের মজলিসে নিজ কানে শুনতে হবে।
 
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, 
  

أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏لاَ تُنْكَحُ الأَيِّمُ حَتَّى تُسْتَأْمَرَ وَلاَ تُنْكَحُ الْبِكْرُ حَتَّى تُسْتَأْذَنَ.‏ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَكَيْفَ إِذْنُهَا قَالَ أَنْ تَسْكُتَ অর্থ: কোন বিধবা নারীকে তার স্পষ্ট সম্মতি বা নির্দেশনা ছাড়া বিয়ে দেয়া যাবে না এবং কুমারী নারীকে তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে দেয়া যাবে না। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসুল! কীভাবে অনুমতি নেবো? রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তার চুপ থাকাটাই অনুমতি গণ্য হবে। (বুখারি; মুসলিম)

 

তবে আগে বিবাহিত বা কুমারী কারও ক্ষেত্রেই বিয়েতে সম্মতি জানাতে ‘কবুল’ বলা আবশ্যক নয়। অভিভাবক পাত্রীর সম্মতি নিয়ে দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে নিজে বা যিনি বিয়ে পড়াবেন তার মাধ্যমে প্রস্তাব দেবেন, পাত্র ‘কবুল করলাম’ বললে বিয়ে হয়ে যাবে।
 
 
ইদানীং অনেক বিয়েতে পাত্রীকে সাক্ষীদের সামনে তিনবার কবুল বলানো হয়। এতে তিনি লজ্জায় পড়েন, তার পর্দাও ক্ষুণ্ন হয়। এটা অপ্রয়োজনীয় রীতি। বিয়ের মজলিসে পাত্রীর পক্ষ থেকে প্রস্তাবের পর পাত্রের একবার ‘কবুল করলাম’ বলাই যথেষ্ট।
  

কিছু লোকের ধারণা ‘কবুল’ শব্দ উচ্চারণ না করে তাহলে বিয়ে শুদ্ধ হবে না। এ ধারণাটি ভুল। মূল বিষয় হলো, সম্মতি জ্ঞাপন করা। এখন কবুল শব্দ ছাড়া যদি ‘আলহামদুলিল্লাহ আমি গ্রহণ করলাম’ বা এজাতীয় শব্দ উচ্চারণ করে তাহলেও সেটা সম্মতি বোঝাবে। বিয়ে শুদ্ধ হবে। তবে স্পষ্টভাবে কবুল বলাই অধিক নিরাপদ। (আহসানুল ফাতাওয়া-৫/৩৬-৩৮)

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৪:০১:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল ২০২৫
৪৪৩ বার পড়া হয়েছে

‘কবুল’ না বলে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বললে কি বিয়ে হবে?

আপডেট সময় ০৪:০১:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল ২০২৫

ইসলামে নারী ও পুরুষের পরস্পরের বৈধ সম্পর্কের একমাত্র মাধ্যম বিয়ে। এর মাধ্যমে বংশ বিস্তার হয়। এটি মহান আল্লাহর এক বিশেষ নেয়ামত ও রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নত।

 

বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য ইজাব-কবুল আবশ্যক। এর মাধ্যমেই বিয়ে সম্পাদন হয়। কোনো ছেলে কোনো মেয়েকে বলে- ‘‌আমি তোমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিচ্ছি’ আর মেয়ে যদি এ প্রস্তাবের উত্তরে বলে ‘কবুল করলাম’ তবে কি এ বিয়ে সম্পাদন হয়ে যাবে? বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য কি কবুল বলতেই হবে?

ইসলামি শরিয়তে বিয়ের পদ্ধতি হলো, দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে এক পক্ষ ইজাব করেন (প্রস্তাব দেন), আরেক পক্ষ গ্রহণ করেন (কবুল করেন)- এভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয়। ইজাব-কবুলের মাধ্যমে বিয়ে হওয়ার শর্তঃ

 

এক. পাত্র-পাত্রীকে প্রাপ্ত বয়স্ক, জ্ঞানসম্পন্ন মুসলমান হতে হবে।
দুই. পাত্র-পাত্রী নিজ সম্মতিতে ‘ইজাব-কবুল’ বলবে এবং উভয়ে পরস্পর নিজ নিজ কানে শুনতে হবে। অভিভাবক কিংবা প্রতিনিধির মাধ্যমে বিয়ে অনুষ্ঠিত হলে অভিভাবকরা ছেলের প্রস্তাব মেয়েকে বলবে, মেয়ের ‘কবুল’ বলার শব্দ প্রতিনিধিদের নিজ কানে শুনতে হবে।
তিন. বিয়ের ‘ইজাব-কবুল’ শোনার জন্য দুজন প্রাপ্তবয়স্ক, জ্ঞানবান সাক্ষী কিংবা একজন পুরুষ ও দুজন জ্ঞানবান, প্রাপ্তবয়স্ক নারী বিয়ের মজলিসে নিজ কানে শুনতে হবে।
 
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, 
  

أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏لاَ تُنْكَحُ الأَيِّمُ حَتَّى تُسْتَأْمَرَ وَلاَ تُنْكَحُ الْبِكْرُ حَتَّى تُسْتَأْذَنَ.‏ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَكَيْفَ إِذْنُهَا قَالَ أَنْ تَسْكُتَ অর্থ: কোন বিধবা নারীকে তার স্পষ্ট সম্মতি বা নির্দেশনা ছাড়া বিয়ে দেয়া যাবে না এবং কুমারী নারীকে তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে দেয়া যাবে না। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসুল! কীভাবে অনুমতি নেবো? রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তার চুপ থাকাটাই অনুমতি গণ্য হবে। (বুখারি; মুসলিম)

 

তবে আগে বিবাহিত বা কুমারী কারও ক্ষেত্রেই বিয়েতে সম্মতি জানাতে ‘কবুল’ বলা আবশ্যক নয়। অভিভাবক পাত্রীর সম্মতি নিয়ে দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে নিজে বা যিনি বিয়ে পড়াবেন তার মাধ্যমে প্রস্তাব দেবেন, পাত্র ‘কবুল করলাম’ বললে বিয়ে হয়ে যাবে।
 
 
ইদানীং অনেক বিয়েতে পাত্রীকে সাক্ষীদের সামনে তিনবার কবুল বলানো হয়। এতে তিনি লজ্জায় পড়েন, তার পর্দাও ক্ষুণ্ন হয়। এটা অপ্রয়োজনীয় রীতি। বিয়ের মজলিসে পাত্রীর পক্ষ থেকে প্রস্তাবের পর পাত্রের একবার ‘কবুল করলাম’ বলাই যথেষ্ট।
  

কিছু লোকের ধারণা ‘কবুল’ শব্দ উচ্চারণ না করে তাহলে বিয়ে শুদ্ধ হবে না। এ ধারণাটি ভুল। মূল বিষয় হলো, সম্মতি জ্ঞাপন করা। এখন কবুল শব্দ ছাড়া যদি ‘আলহামদুলিল্লাহ আমি গ্রহণ করলাম’ বা এজাতীয় শব্দ উচ্চারণ করে তাহলেও সেটা সম্মতি বোঝাবে। বিয়ে শুদ্ধ হবে। তবে স্পষ্টভাবে কবুল বলাই অধিক নিরাপদ। (আহসানুল ফাতাওয়া-৫/৩৬-৩৮)