ঢাকা ১০:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo অপহরণের খবর পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর তৎপরতা, এক ঘণ্টার মধ্যেই স্কুলছাত্র উদ্ধার Logo দেড় বছর পর ফের শুরু আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা আন্তর্জাতিক বাস চলাচল Logo বাংলাদেশ পুলিশের নতুন আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন আলী হোসেন ফকির Logo চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রাণ গেল দুজনের, দগ্ধ আরও সাত Logo  জনগণের শক্তিকেই মূল ভরসা করে বিএনপি, প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস নেই: মঈন খান Logo রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিয়োগ অনিয়ম তদন্তে হাইকোর্টের নির্দেশ Logo গরমের ঈদে আরামদায়ক পাঞ্জাবির চাহিদা, বাজারে রং-নকশায় নতুনত্ব Logo এনসিপি গঠন করল স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি Logo ভিনিসিউসকে বর্ণবাদী মন্তব্যের অভিযোগে বেনফিকার আর্জেন্টাইন ফুটবলার নিষিদ্ধ Logo ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর ১১২ নির্বাচন কর্মকর্তার বদলি

খালেদা জিয়ার ভবিষ্যদ্বাণী ছিল—একদিন শেখ হাসিনাকেও জনগণ উৎখাত করবে: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

ছবি সংগৃহীত

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার ১৫ বছর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাসভবন থেকে উচ্ছেদ করেছিল। সেদিন তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘আমাকে যেমনভাবে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হলো, একদিন দেশের মানুষ তেমনভাবেই শেখ হাসিনাকেও দেশ থেকে উচ্ছেদ করবে।’

বুধবার (১৫ অক্টোবর) রাতে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর ডিগ্রি কলেজ মাঠে ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, “এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামী লীগ এখন নেই—তাহলে ভোট দেব কাকে? আমরা সবসময় জনগণের পাশে আছি। কেউ কেউ অন্য দল থেকে প্রার্থী হচ্ছেন, জামায়াতও নির্বাচনী মাঠে নেমেছে। এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কাকে সরকারে দেখতে চান, সেটি আপনাদেরই বিচার করতে হবে।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমাদের ৩১ দফার মধ্যে স্পষ্টভাবে বলা আছে—আমরা এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে আর কোনো ‘দ্বিতীয় হাসিনা’ জন্ম নেবে না। শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসন আমরা আর চাই না। চাই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা, যেখানে থাকবে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা ও জনকল্যাণমূলক প্রশাসন।”

হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমাদের হিন্দু ভাইয়েরা অতীতে নানা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি—আমাদের সময়ে তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। মা-বোনদের সুরক্ষা ও বেকারদের কর্মসংস্থানের দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হবে।”

নির্বাচন প্রসঙ্গে ফখরুল আরও বলেন, “আগেও আমরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছি, এবারও নেব। জামায়াতও মাঠে আছে। এখন জনগণকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কারা সংসদে যাবে এবং কারা আপনাদের কাজ করবে। ২০০১ সালে আপনাদের ভোটে আমি সংসদ সদস্য হয়েছিলাম ও এলাকায় বহু উন্নয়ন করেছি—কৃষকদের জন্য ডিপ টিউবওয়েল স্থাপনসহ নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি।”

তিনি আরও যোগ করেন, “একটি দল এখন ‘পিআর’ নিয়ে রাজনীতি করছে। কিন্তু পিআর আসলে কী, আমি নিজেও বুঝি না—তাহলে সাধারণ মানুষ কিভাবে বুঝবে? তাই বিতর্ক বাদ দিয়ে আমাদের উচিত আগামী ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের দিকে মনোযোগ দেওয়া।”

সভায় জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমীন, সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলী, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফ, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, জেলা মহিলা দলের সভাপতি ফরাতুন নাহার প্যারিসসহ বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১১:০৯:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫
২০৪ বার পড়া হয়েছে

খালেদা জিয়ার ভবিষ্যদ্বাণী ছিল—একদিন শেখ হাসিনাকেও জনগণ উৎখাত করবে: মির্জা ফখরুল

আপডেট সময় ১১:০৯:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার ১৫ বছর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাসভবন থেকে উচ্ছেদ করেছিল। সেদিন তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘আমাকে যেমনভাবে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হলো, একদিন দেশের মানুষ তেমনভাবেই শেখ হাসিনাকেও দেশ থেকে উচ্ছেদ করবে।’

বুধবার (১৫ অক্টোবর) রাতে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর ডিগ্রি কলেজ মাঠে ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, “এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামী লীগ এখন নেই—তাহলে ভোট দেব কাকে? আমরা সবসময় জনগণের পাশে আছি। কেউ কেউ অন্য দল থেকে প্রার্থী হচ্ছেন, জামায়াতও নির্বাচনী মাঠে নেমেছে। এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কাকে সরকারে দেখতে চান, সেটি আপনাদেরই বিচার করতে হবে।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমাদের ৩১ দফার মধ্যে স্পষ্টভাবে বলা আছে—আমরা এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে আর কোনো ‘দ্বিতীয় হাসিনা’ জন্ম নেবে না। শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসন আমরা আর চাই না। চাই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা, যেখানে থাকবে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা ও জনকল্যাণমূলক প্রশাসন।”

হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমাদের হিন্দু ভাইয়েরা অতীতে নানা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি—আমাদের সময়ে তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। মা-বোনদের সুরক্ষা ও বেকারদের কর্মসংস্থানের দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হবে।”

নির্বাচন প্রসঙ্গে ফখরুল আরও বলেন, “আগেও আমরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছি, এবারও নেব। জামায়াতও মাঠে আছে। এখন জনগণকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কারা সংসদে যাবে এবং কারা আপনাদের কাজ করবে। ২০০১ সালে আপনাদের ভোটে আমি সংসদ সদস্য হয়েছিলাম ও এলাকায় বহু উন্নয়ন করেছি—কৃষকদের জন্য ডিপ টিউবওয়েল স্থাপনসহ নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি।”

তিনি আরও যোগ করেন, “একটি দল এখন ‘পিআর’ নিয়ে রাজনীতি করছে। কিন্তু পিআর আসলে কী, আমি নিজেও বুঝি না—তাহলে সাধারণ মানুষ কিভাবে বুঝবে? তাই বিতর্ক বাদ দিয়ে আমাদের উচিত আগামী ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের দিকে মনোযোগ দেওয়া।”

সভায় জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমীন, সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলী, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফ, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, জেলা মহিলা দলের সভাপতি ফরাতুন নাহার প্যারিসসহ বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।