ঢাকা ০৮:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo অপহরণের খবর পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর তৎপরতা, এক ঘণ্টার মধ্যেই স্কুলছাত্র উদ্ধার Logo দেড় বছর পর ফের শুরু আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা আন্তর্জাতিক বাস চলাচল Logo বাংলাদেশ পুলিশের নতুন আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন আলী হোসেন ফকির Logo চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রাণ গেল দুজনের, দগ্ধ আরও সাত Logo  জনগণের শক্তিকেই মূল ভরসা করে বিএনপি, প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস নেই: মঈন খান Logo রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিয়োগ অনিয়ম তদন্তে হাইকোর্টের নির্দেশ Logo গরমের ঈদে আরামদায়ক পাঞ্জাবির চাহিদা, বাজারে রং-নকশায় নতুনত্ব Logo এনসিপি গঠন করল স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি Logo ভিনিসিউসকে বর্ণবাদী মন্তব্যের অভিযোগে বেনফিকার আর্জেন্টাইন ফুটবলার নিষিদ্ধ Logo ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর ১১২ নির্বাচন কর্মকর্তার বদলি

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে এনসিপির ৩৬ দফা ইশতেহার প্রকাশ

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ শরিক।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ৩৬ দফা অঙ্গীকার নিয়ে ইশতেহারটি প্রকাশ করা হয়। ‘তারুণ্য ও মর্যাদার ইশতেহার’ শিরোনামের এই ঘোষণাপত্রে প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে দারিদ্র্যের চক্র থেকে বের করে আনার লক্ষ্যে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

ইশতেহারে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সুশাসন, নারী অধিকার, কর্মসংস্থান, পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন, জ্বালানি, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, পররাষ্ট্রনীতি এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, দলের মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

এনসিপির ঘোষিত ৩৬ দফা ইশতেহার:

১. জুলাই সনদের যেসব অংশ আইন ও আদেশের ওপর নির্ভরশীল, সেগুলো বাস্তবায়নে সময়সীমা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন কমিশন গঠন।
২. জুলাইয়ের গণহত্যা, শাপলা চত্বর, বিডিআর হত্যাকাণ্ড, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন’ প্রতিষ্ঠা।
৩. ধর্মবিদ্বেষ, সাম্প্রদায়িকতা ও সংখ্যালঘু নিপীড়ন রোধে মানবাধিকার কমিশনের অধীনে বিশেষ তদন্ত সেল গঠন।
৪. মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের আয়-সম্পদের হিসাব এবং সরকারি ব্যয়ের তথ্য অনলাইনে প্রকাশ।
৫. আমলাতন্ত্রে ল্যাটেরাল এন্ট্রি বৃদ্ধি, স্বাধীন পদোন্নতি কমিশন, নিয়মিত পে-স্কেল হালনাগাদ এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের অন্তর্ভুক্তি।
৬. এনআইডিকেই সব নাগরিক সেবার মূল পরিচয়পত্র হিসেবে কার্যকর করা।
৭. ঘণ্টায় ১০০ টাকা ন্যূনতম মজুরি, কর্ম-সুরক্ষা বীমা ও পেনশনসহ শ্রম আইন বাস্তবায়ন।
৮. স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের পণ্য নিবন্ধিত দোকান থেকে সংগ্রহের ব্যবস্থা।
৯. বাড়িভাড়া নীতিমালা প্রণয়ন ও সামাজিক আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন।
১০. করব্যবস্থায় সংস্কার এনে কর-জিডিপি অনুপাত ১২ শতাংশে উন্নীত করা।
১১. এলডিসি উত্তরণে আগাম বাণিজ্য চুক্তি এবং ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা।
১২. চাঁদাবাজি বন্ধে জিরো টলারেন্স ও হটলাইন চালু।
১৩. মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশে নামানো ও আর্থিক খাতে স্বাধীনতা নিশ্চিত।
১৪. ভোটের বয়স ১৬ বছরে নামানো ও ইয়ুথ সিভিক কাউন্সিল গঠন।
১৫. পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান এবং নারী-যুব উদ্যোক্তাদের বিশেষ তহবিল।
১৬. বছরে ১৫ লাখ দক্ষ প্রবাসী কর্মী তৈরিতে সরকারি প্লেসমেন্ট ও প্রশিক্ষণ।
১৭. শিক্ষা সংস্কার কমিশন, শিক্ষকদের আলাদা বেতন কাঠামো ও প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ।
১৮. স্নাতক পর্যায়ে বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ বা গবেষণা কার্যক্রম।
১৯. প্রবাসী গবেষকদের ফেরাতে তহবিল ও জাতীয় কম্পিউটিং সার্ভার স্থাপন।
২০. জটিল রোগ চিকিৎসায় উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে বিশেষায়িত স্বাস্থ্য জোন।
২১. জিপিএসযুক্ত অ্যাম্বুলেন্স, প্যারামেডিক টিম ও জেলা হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধা।
২২. ডিজিটাল হেলথ রেকর্ড ও জাতীয় স্বাস্থ্য বিমা চালু।
২৩. সংসদের নিম্নকক্ষে ১০০ সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচন।
২৪. পূর্ণ বেতনে মাতৃত্ব ও পিতৃত্বকালীন ছুটি এবং ডে-কেয়ার সুবিধা।
২৫. উপজেলা পর্যায়ে নারীবান্ধব স্বাস্থ্যসামগ্রী সরবরাহ।
২৬. প্রবাসীদের জন্য ওয়ান-স্টপ ডিজিটাল কনস্যুলার সেবা।
২৭. রেমিটেন্সভিত্তিক বিনিয়োগ, পেনশন ও ট্রাভেল মাইলস সুবিধা।
২৮. প্রতিবন্ধী ও আদিবাসীদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ।
২৯. ঢাকা ও চট্টগ্রামে সমন্বিত গণপরিবহন ও রেলপথ সম্প্রসারণ।
৩০. নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি ও ইলেকট্রিক যানবাহন ব্যবহার।
৩১. শিল্পকারখানায় ইটিপি বাধ্যতামূলক ও নদী দখলে কঠোর ব্যবস্থা।
৩২. কৃষকের কাছে সরাসরি ভর্তুকি ও কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন।
৩৩. দেশীয় বীজ সংরক্ষণ ও খাদ্যে ভেজাল রোধ।
৩৪. সীমান্ত হত্যা বন্ধ ও পানির ন্যায্য হিস্যায় কূটনৈতিক তৎপরতা।
৩৫. রোহিঙ্গা সংকটের মানবিক সমাধান ও আসিয়ান সম্পর্ক জোরদার।
৩৬. শক্তিশালী রিজার্ভ ফোর্স গঠন এবং সশস্ত্র বাহিনীতে আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৫:১৮:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
২৩ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে এনসিপির ৩৬ দফা ইশতেহার প্রকাশ

আপডেট সময় ০৫:১৮:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ শরিক।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ৩৬ দফা অঙ্গীকার নিয়ে ইশতেহারটি প্রকাশ করা হয়। ‘তারুণ্য ও মর্যাদার ইশতেহার’ শিরোনামের এই ঘোষণাপত্রে প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে দারিদ্র্যের চক্র থেকে বের করে আনার লক্ষ্যে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

ইশতেহারে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সুশাসন, নারী অধিকার, কর্মসংস্থান, পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন, জ্বালানি, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, পররাষ্ট্রনীতি এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, দলের মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

এনসিপির ঘোষিত ৩৬ দফা ইশতেহার:

১. জুলাই সনদের যেসব অংশ আইন ও আদেশের ওপর নির্ভরশীল, সেগুলো বাস্তবায়নে সময়সীমা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন কমিশন গঠন।
২. জুলাইয়ের গণহত্যা, শাপলা চত্বর, বিডিআর হত্যাকাণ্ড, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন’ প্রতিষ্ঠা।
৩. ধর্মবিদ্বেষ, সাম্প্রদায়িকতা ও সংখ্যালঘু নিপীড়ন রোধে মানবাধিকার কমিশনের অধীনে বিশেষ তদন্ত সেল গঠন।
৪. মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের আয়-সম্পদের হিসাব এবং সরকারি ব্যয়ের তথ্য অনলাইনে প্রকাশ।
৫. আমলাতন্ত্রে ল্যাটেরাল এন্ট্রি বৃদ্ধি, স্বাধীন পদোন্নতি কমিশন, নিয়মিত পে-স্কেল হালনাগাদ এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের অন্তর্ভুক্তি।
৬. এনআইডিকেই সব নাগরিক সেবার মূল পরিচয়পত্র হিসেবে কার্যকর করা।
৭. ঘণ্টায় ১০০ টাকা ন্যূনতম মজুরি, কর্ম-সুরক্ষা বীমা ও পেনশনসহ শ্রম আইন বাস্তবায়ন।
৮. স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের পণ্য নিবন্ধিত দোকান থেকে সংগ্রহের ব্যবস্থা।
৯. বাড়িভাড়া নীতিমালা প্রণয়ন ও সামাজিক আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন।
১০. করব্যবস্থায় সংস্কার এনে কর-জিডিপি অনুপাত ১২ শতাংশে উন্নীত করা।
১১. এলডিসি উত্তরণে আগাম বাণিজ্য চুক্তি এবং ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা।
১২. চাঁদাবাজি বন্ধে জিরো টলারেন্স ও হটলাইন চালু।
১৩. মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশে নামানো ও আর্থিক খাতে স্বাধীনতা নিশ্চিত।
১৪. ভোটের বয়স ১৬ বছরে নামানো ও ইয়ুথ সিভিক কাউন্সিল গঠন।
১৫. পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান এবং নারী-যুব উদ্যোক্তাদের বিশেষ তহবিল।
১৬. বছরে ১৫ লাখ দক্ষ প্রবাসী কর্মী তৈরিতে সরকারি প্লেসমেন্ট ও প্রশিক্ষণ।
১৭. শিক্ষা সংস্কার কমিশন, শিক্ষকদের আলাদা বেতন কাঠামো ও প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ।
১৮. স্নাতক পর্যায়ে বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ বা গবেষণা কার্যক্রম।
১৯. প্রবাসী গবেষকদের ফেরাতে তহবিল ও জাতীয় কম্পিউটিং সার্ভার স্থাপন।
২০. জটিল রোগ চিকিৎসায় উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে বিশেষায়িত স্বাস্থ্য জোন।
২১. জিপিএসযুক্ত অ্যাম্বুলেন্স, প্যারামেডিক টিম ও জেলা হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধা।
২২. ডিজিটাল হেলথ রেকর্ড ও জাতীয় স্বাস্থ্য বিমা চালু।
২৩. সংসদের নিম্নকক্ষে ১০০ সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচন।
২৪. পূর্ণ বেতনে মাতৃত্ব ও পিতৃত্বকালীন ছুটি এবং ডে-কেয়ার সুবিধা।
২৫. উপজেলা পর্যায়ে নারীবান্ধব স্বাস্থ্যসামগ্রী সরবরাহ।
২৬. প্রবাসীদের জন্য ওয়ান-স্টপ ডিজিটাল কনস্যুলার সেবা।
২৭. রেমিটেন্সভিত্তিক বিনিয়োগ, পেনশন ও ট্রাভেল মাইলস সুবিধা।
২৮. প্রতিবন্ধী ও আদিবাসীদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ।
২৯. ঢাকা ও চট্টগ্রামে সমন্বিত গণপরিবহন ও রেলপথ সম্প্রসারণ।
৩০. নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি ও ইলেকট্রিক যানবাহন ব্যবহার।
৩১. শিল্পকারখানায় ইটিপি বাধ্যতামূলক ও নদী দখলে কঠোর ব্যবস্থা।
৩২. কৃষকের কাছে সরাসরি ভর্তুকি ও কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন।
৩৩. দেশীয় বীজ সংরক্ষণ ও খাদ্যে ভেজাল রোধ।
৩৪. সীমান্ত হত্যা বন্ধ ও পানির ন্যায্য হিস্যায় কূটনৈতিক তৎপরতা।
৩৫. রোহিঙ্গা সংকটের মানবিক সমাধান ও আসিয়ান সম্পর্ক জোরদার।
৩৬. শক্তিশালী রিজার্ভ ফোর্স গঠন এবং সশস্ত্র বাহিনীতে আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন।