ঢাকা ০৯:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo অপহরণের খবর পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর তৎপরতা, এক ঘণ্টার মধ্যেই স্কুলছাত্র উদ্ধার Logo দেড় বছর পর ফের শুরু আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা আন্তর্জাতিক বাস চলাচল Logo বাংলাদেশ পুলিশের নতুন আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন আলী হোসেন ফকির Logo চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রাণ গেল দুজনের, দগ্ধ আরও সাত Logo  জনগণের শক্তিকেই মূল ভরসা করে বিএনপি, প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস নেই: মঈন খান Logo রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিয়োগ অনিয়ম তদন্তে হাইকোর্টের নির্দেশ Logo গরমের ঈদে আরামদায়ক পাঞ্জাবির চাহিদা, বাজারে রং-নকশায় নতুনত্ব Logo এনসিপি গঠন করল স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি Logo ভিনিসিউসকে বর্ণবাদী মন্তব্যের অভিযোগে বেনফিকার আর্জেন্টাইন ফুটবলার নিষিদ্ধ Logo ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর ১১২ নির্বাচন কর্মকর্তার বদলি

দিনাজপুরের ছয় আসনে নির্বাচন জমে উঠছে, খালেদা জিয়া কেন্দ্র করে সদর আসনে ঐক্যবদ্ধ বিএনপি

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

ছবি সংগৃহীত

দিনাজপুরের ছয়টি আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক ক্ষেত্র। বিভিন্ন দল ও জোটের নেতারা আগেভাগেই ভোটারদের মাঝে সমর্থন আদায়ে নেমে পড়েছেন। বিএনপি, জামায়াতসহ একাধিক দল বিভিন্ন এলাকা জুড়ে প্রচারণা চালাচ্ছে। ছয়টির মধ্যে পাঁচটি আসনে বিএনপি মনোনয়ন ঘোষণা করেছে। তবে দুটি আসনে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষও দেখা যাচ্ছে।

সদর আসনে দীর্ঘদিন ধরে মতপার্থক্য থাকলেও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মনোনয়ন ঘোষণার পর সেখানে নেতাকর্মীরা একমত হয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াত ইতোমধ্যেই মাঠে নেমে প্রচারণা চালাচ্ছে।

বিভিন্ন দল ও জোটের মধ্যে প্রার্থিতা নিয়ে জটিলতা থাকলেও অনেকেই স্বাধীনভাবে প্রচারণা শুরু করেছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) নিজেদের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে।


দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল)

এই আসনে বিএনপি সবসময়ই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে, যদিও ২০০১ সালে চারদলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াতের পক্ষে জয় পেয়েছিলেন। এবার বিএনপির পক্ষ থেকে কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মনজুরুল ইসলামকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত মনোনয়ন দিয়েছে মতিউর রহমানকে।

মনজুরুল মনে করেন, জনগণ এবার বিএনপিকেই প্রতীক দেবে, আর জামায়াতের মতিউর রহমান আশাবাদী সনাতন ভোটারদের সমর্থনে।

বিভিন্ন ছোট দল যেমন ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিস, এনসিপি ও গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থীরাও এখানে সক্রিয় রয়েছেন।


দিনাজপুর-২ (বিরল-বোচাগঞ্জ)

বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন সাদিক রিয়াজ চৌধুরী, তবে স্থানীয় নেতাদের মধ্যে এ নিয়ে অসন্তোষ প্রবল। মনোনয়ন প্রত্যাশী অন্যরা বিভেদ প্রকাশ করলেও সাদিক রিয়াজ বলছেন, সবাই একসঙ্গে কাজ করবেন।

জামায়াতের প্রার্থী এ কে এম আফজালুল আনামও আশাবাদী। এদিকে এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিস এবং গণ অধিকার পরিষদের পক্ষেও প্রচারণা চলছে।


দিনাজপুর-৩ (সদর)

এ আসনে দীর্ঘদিন ধরে আলাদা আলাদা মত থাকলেও খালেদা জিয়ার প্রার্থী ঘোষণার পর সবাই এককাট্টা হয়েছেন। এ আসনটি ‘বিএনপির ঘাঁটি’ হিসেবে পরিচিত। খালেদা জিয়ার নিজ এলাকা হওয়ায় তাঁকে কেন্দ্র করে নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে।

জামায়াতের মাঈনুল আলম প্রচারণা করে যাচ্ছেন, যদিও তিনি খালেদা জিয়ার একসময়ের জনপ্রিয়তাকে স্বীকার করেছেন।


দিনাজপুর-৪ (খানসামা-চিরিরবন্দর)

এ আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে আক্তারুজ্জামান মিয়াকে, যিনি দীর্ঘদিন দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয়। অন্যদিকে জামায়াতের পক্ষ থেকে আফতাব উদ্দিন মোল্লা তৃতীয়বারের মতো লড়াইয়ে নামছেন।

ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিস, এনসিপি এবং গণ অধিকার পরিষদও সক্রিয়ভাবে প্রচার চালাচ্ছে।


দিনাজপুর-৫ (ফুলবাড়ী-পার্বতীপুর)

এ আসনে আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য ধরে রেখেছে, তবে এ বছর তা পরিবর্তিত হতে পারে যেহেতু দলটি নিষিদ্ধ। বিএনপি এখনো প্রার্থী নির্ধারণ করেনি, তবে কেন্দ্রীয় কমিটির এ জেড এম রেজওয়ানুল হক ও লন্ডন বিএনপির কামরুজ্জামানের নাম আলোচনায় রয়েছে।

এদিকে জামায়াতের আনোয়ার হোসেন, এনসিপির আবদুল আহাদ ও গণ অধিকার পরিষদের শাহাজাহান চৌধুরীসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা দৌড়ঝাঁপ চালাচ্ছেন।


দিনাজপুর-৬ (বিরামপুর-নবাবগঞ্জ-ঘোড়াঘাট-হাকিমপুর)

জামায়াতের আনোয়ারুল ইসলাম নয় মাস ধরে এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিএনপি থেকে এখানে মনোনয়ন পেয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

এ ছাড়াও এবি পার্টি, বাসদ, ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিস, গণ অধিকার পরিষদ ও এনসিপির নেতারাও সক্রিয় রয়েছেন।


এভাবে দিনাজপুরের ছয়টি আসনে বিভিন্ন দল তাদের প্রস্তুতি জোরদার করছে। খালেদা জিয়ার প্রত্যাবর্তন ও মনোনয়ন ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি সংগঠিত হলেও, অন্যান্য দলও এককভাবে ভোটযুদ্ধে নামবে বলে মনে করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১১:৪৪:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫
৫৯ বার পড়া হয়েছে

দিনাজপুরের ছয় আসনে নির্বাচন জমে উঠছে, খালেদা জিয়া কেন্দ্র করে সদর আসনে ঐক্যবদ্ধ বিএনপি

আপডেট সময় ১১:৪৪:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫

দিনাজপুরের ছয়টি আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক ক্ষেত্র। বিভিন্ন দল ও জোটের নেতারা আগেভাগেই ভোটারদের মাঝে সমর্থন আদায়ে নেমে পড়েছেন। বিএনপি, জামায়াতসহ একাধিক দল বিভিন্ন এলাকা জুড়ে প্রচারণা চালাচ্ছে। ছয়টির মধ্যে পাঁচটি আসনে বিএনপি মনোনয়ন ঘোষণা করেছে। তবে দুটি আসনে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষও দেখা যাচ্ছে।

সদর আসনে দীর্ঘদিন ধরে মতপার্থক্য থাকলেও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মনোনয়ন ঘোষণার পর সেখানে নেতাকর্মীরা একমত হয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াত ইতোমধ্যেই মাঠে নেমে প্রচারণা চালাচ্ছে।

বিভিন্ন দল ও জোটের মধ্যে প্রার্থিতা নিয়ে জটিলতা থাকলেও অনেকেই স্বাধীনভাবে প্রচারণা শুরু করেছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) নিজেদের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে।


দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল)

এই আসনে বিএনপি সবসময়ই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে, যদিও ২০০১ সালে চারদলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াতের পক্ষে জয় পেয়েছিলেন। এবার বিএনপির পক্ষ থেকে কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মনজুরুল ইসলামকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত মনোনয়ন দিয়েছে মতিউর রহমানকে।

মনজুরুল মনে করেন, জনগণ এবার বিএনপিকেই প্রতীক দেবে, আর জামায়াতের মতিউর রহমান আশাবাদী সনাতন ভোটারদের সমর্থনে।

বিভিন্ন ছোট দল যেমন ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিস, এনসিপি ও গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থীরাও এখানে সক্রিয় রয়েছেন।


দিনাজপুর-২ (বিরল-বোচাগঞ্জ)

বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন সাদিক রিয়াজ চৌধুরী, তবে স্থানীয় নেতাদের মধ্যে এ নিয়ে অসন্তোষ প্রবল। মনোনয়ন প্রত্যাশী অন্যরা বিভেদ প্রকাশ করলেও সাদিক রিয়াজ বলছেন, সবাই একসঙ্গে কাজ করবেন।

জামায়াতের প্রার্থী এ কে এম আফজালুল আনামও আশাবাদী। এদিকে এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিস এবং গণ অধিকার পরিষদের পক্ষেও প্রচারণা চলছে।


দিনাজপুর-৩ (সদর)

এ আসনে দীর্ঘদিন ধরে আলাদা আলাদা মত থাকলেও খালেদা জিয়ার প্রার্থী ঘোষণার পর সবাই এককাট্টা হয়েছেন। এ আসনটি ‘বিএনপির ঘাঁটি’ হিসেবে পরিচিত। খালেদা জিয়ার নিজ এলাকা হওয়ায় তাঁকে কেন্দ্র করে নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে।

জামায়াতের মাঈনুল আলম প্রচারণা করে যাচ্ছেন, যদিও তিনি খালেদা জিয়ার একসময়ের জনপ্রিয়তাকে স্বীকার করেছেন।


দিনাজপুর-৪ (খানসামা-চিরিরবন্দর)

এ আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে আক্তারুজ্জামান মিয়াকে, যিনি দীর্ঘদিন দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয়। অন্যদিকে জামায়াতের পক্ষ থেকে আফতাব উদ্দিন মোল্লা তৃতীয়বারের মতো লড়াইয়ে নামছেন।

ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিস, এনসিপি এবং গণ অধিকার পরিষদও সক্রিয়ভাবে প্রচার চালাচ্ছে।


দিনাজপুর-৫ (ফুলবাড়ী-পার্বতীপুর)

এ আসনে আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য ধরে রেখেছে, তবে এ বছর তা পরিবর্তিত হতে পারে যেহেতু দলটি নিষিদ্ধ। বিএনপি এখনো প্রার্থী নির্ধারণ করেনি, তবে কেন্দ্রীয় কমিটির এ জেড এম রেজওয়ানুল হক ও লন্ডন বিএনপির কামরুজ্জামানের নাম আলোচনায় রয়েছে।

এদিকে জামায়াতের আনোয়ার হোসেন, এনসিপির আবদুল আহাদ ও গণ অধিকার পরিষদের শাহাজাহান চৌধুরীসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা দৌড়ঝাঁপ চালাচ্ছেন।


দিনাজপুর-৬ (বিরামপুর-নবাবগঞ্জ-ঘোড়াঘাট-হাকিমপুর)

জামায়াতের আনোয়ারুল ইসলাম নয় মাস ধরে এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিএনপি থেকে এখানে মনোনয়ন পেয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

এ ছাড়াও এবি পার্টি, বাসদ, ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিস, গণ অধিকার পরিষদ ও এনসিপির নেতারাও সক্রিয় রয়েছেন।


এভাবে দিনাজপুরের ছয়টি আসনে বিভিন্ন দল তাদের প্রস্তুতি জোরদার করছে। খালেদা জিয়ার প্রত্যাবর্তন ও মনোনয়ন ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি সংগঠিত হলেও, অন্যান্য দলও এককভাবে ভোটযুদ্ধে নামবে বলে মনে করা হচ্ছে।