ঢাকা ০৭:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে র‍্যাঙ্ক ব্যাজ পেলেন নতুন আইজিপি আলী হোসেন ফকির Logo বিডিআর হত্যাকাণ্ডে নতুন তদন্ত কমিশন নয়, সুপারিশ বাস্তবায়নের আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর Logo অপহরণের খবর পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর তৎপরতা, এক ঘণ্টার মধ্যেই স্কুলছাত্র উদ্ধার Logo দেড় বছর পর ফের শুরু আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা আন্তর্জাতিক বাস চলাচল Logo বাংলাদেশ পুলিশের নতুন আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন আলী হোসেন ফকির Logo চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রাণ গেল দুজনের, দগ্ধ আরও সাত Logo  জনগণের শক্তিকেই মূল ভরসা করে বিএনপি, প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস নেই: মঈন খান Logo রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিয়োগ অনিয়ম তদন্তে হাইকোর্টের নির্দেশ Logo গরমের ঈদে আরামদায়ক পাঞ্জাবির চাহিদা, বাজারে রং-নকশায় নতুনত্ব Logo এনসিপি গঠন করল স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি

বায়ুদূষণে দেশে প্রতিবছর ১ লাখের বেশি মৃত্যু: গবেষণা

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

ছবি সংগৃহীত

বায়ুদূষণে দেশে প্রতিবছর ১ লাখের বেশি মৃত্যু: গবেষণা।

বায়ুদূষণের ক্ষতিকর প্রভাবে দেশে প্রতিবছর ১ লাখ ২ হাজার ৪৫৬ জন মানুষের মৃত্যু হয়–সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ারের (সিআরইএ) প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

শনিবার (১৮ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।


‘বাংলাদেশে সূক্ষ্মকণা বায়ু দূষণে জনস্বাস্থ্য প্রভাব’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা, বায়ুদূষণ জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসকষ্টজনিত রোগ, হৃদ্‌রোগ এবং অন্যান্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।


গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, এই বায়ুদূষণের কারণে প্রতিবছর ৯ লাখ মায়ের অকাল প্রসব হচ্ছে এবং প্রায় ৭ লাখ কম ওজনের শিশু জন্মগ্রহণ করছে। আর এ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে প্রতিবছর ৬ লাখ ৭০ হাজার রোগী জরুরি বিভাগে ভর্তি হচ্ছেন। যার ফলে সম্মিলিতভাবে বছরে ২৬৩ মিলিয়ন কর্মদিবস হারাচ্ছে।

পিএম ২.৫ ইসকেমিক হার্ট ডিজিজ, স্ট্রোক, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, লোয়ার রেসপিরেটরি ইনফেকশন এবং লাং ক্যানসারের মতো রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিশেষত, ছোট শিশুরা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রতি বছর পিএম ২.৫ সংশ্লিষ্ট লোয়ার রেসপিরেটরি ইনফেকশনে পাঁচ হাজার ২৫৮ শিশুর মৃত্যু হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে বিশ্বের দূষিত দেশের তালিকায় শীর্ষে ছিল বাংলাদেশ। প্রতি ঘনমিটার বাতাসে অতি ক্ষুদ্র বালুকণার বার্ষিক গড় মান ছিল ৭৯ দশমিক ৯ মাইক্রোগ্রাম; যা বার্ষিক জাতীয় মানদণ্ড ৩৫ মাইক্রোগ্রামের দ্বিগুণের বেশি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানের চেয়ে ১৫ গুণ বেশি।

সিআরইএর মতে, বাংলাদেশের জাতীয় বায়ুমানের মানদণ্ড (৩৫ মাইক্রোগ্রাম প্রতি ঘনমিটার) পূরণ করা সম্ভব হলেও মৃত্যুহার ১৯ শতাংশ, আয়ুষ্কালজনিত সমস্যা ২১ শতাংশ এবং অক্ষমতা নিয়ে বসবাসের বছর ১২ শতাংশ কমতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন কঠোরভাবে মেনে চলা সম্ভব হলে প্রতি বছর ৮১ হাজার ২৮২ মানুষের জীবন রক্ষা করা যাবে।

সিআরইএর বায়ুমান বিশ্লেষক ড. জেমি কেলি বলেন, ‘বাংলাদেশে বায়ুদূষণের কারণে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অপরিণত শিশু, কম ওজনের শিশুর জন্ম এবং শিশু মৃত্যু ঘটছে। তিনি আরো বলেন, ‘বায়ুদূষণ অর্থনীতিকেও দুর্বল করে, প্রতি বছর প্রায় ২৬৬ মিলিয়ন কর্মদিবসের ক্ষতি হয়।’

বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ‘ঢাকার ক্রমবর্ধমান দূষণ কেবল শারীরিক স্বাস্থ্যই নয়, মানসিক স্বাস্থ্যকেও প্রভাবিত করছে।’ এয়ার কোয়ালিটি লাইফ ইনডেক্স (একিউএলআই) ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে যে, বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বব্যাপী গড় আয়ু দুই বছর সাত মাস হ্রাস পেয়েছে। তবে, বাংলাদেশে কমেছে আরও বেশি, চার বছর আট মাস।
 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১০:৫৬:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৫
১৪৪ বার পড়া হয়েছে

বায়ুদূষণে দেশে প্রতিবছর ১ লাখের বেশি মৃত্যু: গবেষণা

আপডেট সময় ১০:৫৬:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৫

বায়ুদূষণে দেশে প্রতিবছর ১ লাখের বেশি মৃত্যু: গবেষণা।

বায়ুদূষণের ক্ষতিকর প্রভাবে দেশে প্রতিবছর ১ লাখ ২ হাজার ৪৫৬ জন মানুষের মৃত্যু হয়–সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ারের (সিআরইএ) প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

শনিবার (১৮ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।


‘বাংলাদেশে সূক্ষ্মকণা বায়ু দূষণে জনস্বাস্থ্য প্রভাব’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা, বায়ুদূষণ জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসকষ্টজনিত রোগ, হৃদ্‌রোগ এবং অন্যান্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।


গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, এই বায়ুদূষণের কারণে প্রতিবছর ৯ লাখ মায়ের অকাল প্রসব হচ্ছে এবং প্রায় ৭ লাখ কম ওজনের শিশু জন্মগ্রহণ করছে। আর এ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে প্রতিবছর ৬ লাখ ৭০ হাজার রোগী জরুরি বিভাগে ভর্তি হচ্ছেন। যার ফলে সম্মিলিতভাবে বছরে ২৬৩ মিলিয়ন কর্মদিবস হারাচ্ছে।

পিএম ২.৫ ইসকেমিক হার্ট ডিজিজ, স্ট্রোক, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, লোয়ার রেসপিরেটরি ইনফেকশন এবং লাং ক্যানসারের মতো রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিশেষত, ছোট শিশুরা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রতি বছর পিএম ২.৫ সংশ্লিষ্ট লোয়ার রেসপিরেটরি ইনফেকশনে পাঁচ হাজার ২৫৮ শিশুর মৃত্যু হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে বিশ্বের দূষিত দেশের তালিকায় শীর্ষে ছিল বাংলাদেশ। প্রতি ঘনমিটার বাতাসে অতি ক্ষুদ্র বালুকণার বার্ষিক গড় মান ছিল ৭৯ দশমিক ৯ মাইক্রোগ্রাম; যা বার্ষিক জাতীয় মানদণ্ড ৩৫ মাইক্রোগ্রামের দ্বিগুণের বেশি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানের চেয়ে ১৫ গুণ বেশি।

সিআরইএর মতে, বাংলাদেশের জাতীয় বায়ুমানের মানদণ্ড (৩৫ মাইক্রোগ্রাম প্রতি ঘনমিটার) পূরণ করা সম্ভব হলেও মৃত্যুহার ১৯ শতাংশ, আয়ুষ্কালজনিত সমস্যা ২১ শতাংশ এবং অক্ষমতা নিয়ে বসবাসের বছর ১২ শতাংশ কমতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন কঠোরভাবে মেনে চলা সম্ভব হলে প্রতি বছর ৮১ হাজার ২৮২ মানুষের জীবন রক্ষা করা যাবে।

সিআরইএর বায়ুমান বিশ্লেষক ড. জেমি কেলি বলেন, ‘বাংলাদেশে বায়ুদূষণের কারণে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অপরিণত শিশু, কম ওজনের শিশুর জন্ম এবং শিশু মৃত্যু ঘটছে। তিনি আরো বলেন, ‘বায়ুদূষণ অর্থনীতিকেও দুর্বল করে, প্রতি বছর প্রায় ২৬৬ মিলিয়ন কর্মদিবসের ক্ষতি হয়।’

বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ‘ঢাকার ক্রমবর্ধমান দূষণ কেবল শারীরিক স্বাস্থ্যই নয়, মানসিক স্বাস্থ্যকেও প্রভাবিত করছে।’ এয়ার কোয়ালিটি লাইফ ইনডেক্স (একিউএলআই) ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে যে, বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বব্যাপী গড় আয়ু দুই বছর সাত মাস হ্রাস পেয়েছে। তবে, বাংলাদেশে কমেছে আরও বেশি, চার বছর আট মাস।