আজ জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মদিন
বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)-এর ৯০তম জন্মবার্ষিকী আজ। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো যথাযথ সম্মান ও শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করছে।
১৯৩৬ সালের এই দিনে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম বাগবাড়িতে একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান। তার বাবা মনসুর রহমান তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকারের একজন উচ্চপদস্থ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ছিলেন এবং মা জাহানারা খাতুন ছিলেন গৃহিণী। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। শৈশবকাল থেকেই তার মধ্যে শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও নেতৃত্বের গুণাবলি পরিলক্ষিত হয়।
১৯৫৩ সালে তিনি পাকিস্তান সামরিক একাডেমিতে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন। সামরিক জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি দক্ষতা ও সাহসিকতার পরিচয় দেন। ১৯৭০ সালের সেপ্টেম্বরে তাকে চট্টগ্রামে বদলি করা হয়। এখান থেকেই ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
দেশের সংকটময় সময়ে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন জিয়াউর রহমান। তার ঐতিহাসিক ঘোষণা—‘আমি মেজর জিয়া বলছি’—মুক্তিকামী মানুষকে স্বাধীনতার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্দীপ্ত করে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী অঞ্চলে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করেন এবং ‘জেড ফোর্স’ গঠন ও নেতৃত্ব দেন।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে দেশকে স্থিতিশীলতার পথে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। তার শাসনামলে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান দৃঢ় হয়। দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্ক প্রতিষ্ঠায় তার অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে কিছু বিপথগামী সামরিক কর্মকর্তার হাতে তিনি শহীদ হন। তার মৃত্যুর সংবাদে সারা দেশ শোকাহত হয়ে পড়ে। শেরেবাংলানগরে অনুষ্ঠিত তার জানাজায় বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি তার জনপ্রিয়তার প্রমাণ বহন করে।
দিবসটি উপলক্ষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বাণীতে শহীদ জিয়াউর রহমানকে একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তিনি স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদের প্রতীক। তিনি শহীদ জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার আদর্শ অনুসরণ করে গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশব্যাপী দলীয় পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। আজ সকাল ১১টায় শেরেবাংলানগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন। এছাড়া আগামীকাল মঙ্গলবার কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ মিলনায়তনে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

























