ঢাকা ০৩:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্যের দ্বন্দ্বে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, কিশোর নিহত Logo ধর্মের নামে রাজনীতিতে সহিংসতা ও ফ্যাসিবাদী প্রবণতার অভিযোগ বিএনপির Logo মা-বোনের প্রতি অসম্মানকারীদের কাছ থেকে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়: তারেক রহমান Logo ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প Logo প্রাথমিক শিক্ষকদের নিয়োগ ও বদলিতে জেলা পর্যায়ে নতুন উদ্যোগ Logo দেশ গড়ার যেকোনো পরিকল্পনায় প্রতিবন্ধীদের অংশগ্রহণ জরুরি: জায়মা রহমান Logo শবে বরাতে ঢাকায় আতশবাজি ও পটকা নিষিদ্ধ, জারি ডিএমপির কড়াকড়ি Logo কারাবন্দিদের জন্য প্রথমবার ডাকযোগে ভোটগ্রহণ শুরু, চলবে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত Logo ৫ ঘণ্টার ব্যবধানে আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম, ২২ ক্যারেটের ভরি ছাড়াল ২ লাখ ৬২ হাজার টাকা Logo র‌্যাবের নাম বদল, নতুন নাম ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’

গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র নিয়ে মতপার্থক্য, কী ভাবছে রাজনৈতিক দলগুলো?

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

ছবি সংগৃহীত

গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র নিয়ে মতপার্থক্য, কী ভাবছে রাজনৈতিক দলগুলো?

জুলাইয়ের প্রথম দিন থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনে স্বৈরাচারি শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। শুরুতে আন্দোলন কোটা সংস্কারের দাবিতে সীমাবন্ধ থাকলেও পরে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। এতে প্রাণ হারান শত শত ছাত্র, শ্রমিক ও জনতা।

কেউ কেউ এই আন্দোলনকে বিপ্লব হিসেবে আখ্যা দিলেও বিপ্লবী কোনো ঘোষণাপত্র হয়নি। আওয়ামী লীগের পতনের তিনদিন পর অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার গঠন হয়। এই সরকারের প্রায় ৬ মাসের মাথায় গণআন্দোলনে নেতৃত্ব নেয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে বিপ্লবের ঘোষণাপত্র প্রকাশের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরপর এই ঘোষণাপত্র নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক লুৎফর রহমান বলেন, আমরা চেয়েছিলাম চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সাথে ঘোষণাপত্রের একটি সম্পর্ক থাকুক। এ বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা হয়েছে।

এদিকে রাজনৈতিক দলগুলো বলছে, অভ্যুত্থানের এতদিন পর ঘোষণাপত্রের আবেদন নেই। এক্ষেত্রে প্রোক্লেমেশন নয় যেকোনো নামেই একটি ঘোষণা আসতে পারে। তবে সেই ঘোষণায় জুলাই আন্দোলনের পাশাপাশি বিগত ১৬ বছরের গুম, খুন, নির্যাতনসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসতে হবে।

গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক সাইফুল হক বলেন, বিগত ১৫ বছরের লড়াই থেকে জুলাই আন্দোলন পর্যন্ত সকল অংশীজনদের ভূমিকাকে বিবেচনায় রেখে একটি ঘোষণা আসতেই পারে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, এটিকে বিপ্লব বলা হলেও আক্ষরিক অর্থে তা গণঅভ্যুত্থান ছিল। এরপর এই শাসনতন্ত্রের অধীনেই সরকার গঠিত হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মুজিবুর রহমান বলেন, আন্দোলন যে নামেই হোক না কেন এর একটি ইতিহাস থাকা উচিত। এই ঘোষণাপত্র আগামীতে ইতিহাস হতে পারে।

অপরদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবি অনুযায়ী বাহাত্তরের সংবিধান বাতিলের সুযোগ নেই বলেও মনে করেন বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারা।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, সিপাহী জনতা ও ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের পরেও এই শাসনতন্ত্রের কবর রচনা করা হয়নি।

গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক সাইফুল হক বলেন, অনেকক্ষেত্রে একটি আধা নৈরাজ্যিক অবস্থা চলছে। সংবিধান বাতিলের যে কোনো উদ্যোগ চলমান অস্থিরতাকে আরও বৃদ্ধি করবে।

সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, যেভাবে বাহাত্তরের সংবিধানের কবর রচনার কথা বলা হচ্ছে তা ঐক্য তৈরির ক্ষেত্রে ফাটল ধরাবে। বর্তমানে ঘোষণাপত্রের চেয়ে জনজীবনের সংকট নিরসন এবং নির্বাচনের দিকে মনোযোগ দেয়া জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মুজিবুর রহমান বলেন, বিভিন্ন ধরণের ঘোষণাপত্র দেয়া যেতে পারে। তবে ঐক্যবদ্ধভাবে জাতিকে পরিচালনা করা এখন সময়ের দাবি।

অন্যদিকে রাজনৈতিক দলসহ সবার ঐক্যমত্যে জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র হবে বলে জানায় সরকার।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৯:৪০:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৫
১৩৯ বার পড়া হয়েছে

গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র নিয়ে মতপার্থক্য, কী ভাবছে রাজনৈতিক দলগুলো?

আপডেট সময় ০৯:৪০:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৫

গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র নিয়ে মতপার্থক্য, কী ভাবছে রাজনৈতিক দলগুলো?

জুলাইয়ের প্রথম দিন থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনে স্বৈরাচারি শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। শুরুতে আন্দোলন কোটা সংস্কারের দাবিতে সীমাবন্ধ থাকলেও পরে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। এতে প্রাণ হারান শত শত ছাত্র, শ্রমিক ও জনতা।

কেউ কেউ এই আন্দোলনকে বিপ্লব হিসেবে আখ্যা দিলেও বিপ্লবী কোনো ঘোষণাপত্র হয়নি। আওয়ামী লীগের পতনের তিনদিন পর অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার গঠন হয়। এই সরকারের প্রায় ৬ মাসের মাথায় গণআন্দোলনে নেতৃত্ব নেয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে বিপ্লবের ঘোষণাপত্র প্রকাশের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরপর এই ঘোষণাপত্র নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক লুৎফর রহমান বলেন, আমরা চেয়েছিলাম চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সাথে ঘোষণাপত্রের একটি সম্পর্ক থাকুক। এ বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা হয়েছে।

এদিকে রাজনৈতিক দলগুলো বলছে, অভ্যুত্থানের এতদিন পর ঘোষণাপত্রের আবেদন নেই। এক্ষেত্রে প্রোক্লেমেশন নয় যেকোনো নামেই একটি ঘোষণা আসতে পারে। তবে সেই ঘোষণায় জুলাই আন্দোলনের পাশাপাশি বিগত ১৬ বছরের গুম, খুন, নির্যাতনসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসতে হবে।

গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক সাইফুল হক বলেন, বিগত ১৫ বছরের লড়াই থেকে জুলাই আন্দোলন পর্যন্ত সকল অংশীজনদের ভূমিকাকে বিবেচনায় রেখে একটি ঘোষণা আসতেই পারে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, এটিকে বিপ্লব বলা হলেও আক্ষরিক অর্থে তা গণঅভ্যুত্থান ছিল। এরপর এই শাসনতন্ত্রের অধীনেই সরকার গঠিত হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মুজিবুর রহমান বলেন, আন্দোলন যে নামেই হোক না কেন এর একটি ইতিহাস থাকা উচিত। এই ঘোষণাপত্র আগামীতে ইতিহাস হতে পারে।

অপরদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবি অনুযায়ী বাহাত্তরের সংবিধান বাতিলের সুযোগ নেই বলেও মনে করেন বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারা।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, সিপাহী জনতা ও ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের পরেও এই শাসনতন্ত্রের কবর রচনা করা হয়নি।

গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক সাইফুল হক বলেন, অনেকক্ষেত্রে একটি আধা নৈরাজ্যিক অবস্থা চলছে। সংবিধান বাতিলের যে কোনো উদ্যোগ চলমান অস্থিরতাকে আরও বৃদ্ধি করবে।

সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, যেভাবে বাহাত্তরের সংবিধানের কবর রচনার কথা বলা হচ্ছে তা ঐক্য তৈরির ক্ষেত্রে ফাটল ধরাবে। বর্তমানে ঘোষণাপত্রের চেয়ে জনজীবনের সংকট নিরসন এবং নির্বাচনের দিকে মনোযোগ দেয়া জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মুজিবুর রহমান বলেন, বিভিন্ন ধরণের ঘোষণাপত্র দেয়া যেতে পারে। তবে ঐক্যবদ্ধভাবে জাতিকে পরিচালনা করা এখন সময়ের দাবি।

অন্যদিকে রাজনৈতিক দলসহ সবার ঐক্যমত্যে জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র হবে বলে জানায় সরকার।