ঢাকা ১০:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo পটুয়াখালীতে বন্ধ ঘর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার, রুমমেট পলাতক Logo বাংলাদেশি দুই শিক্ষার্থী হত্যার সন্দেহভাজন আবুঘরবেহ তিন বছর আগে মাকেও মারধর করেছিলেন Logo সংসদে নিজেকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করলেন জামায়াত নেতা তাহের Logo সাকিবের পাশাপাশি মাশরাফি ও দুর্জয়কেও আলোচনায় আনতে বললেন তামিম Logo বিএনপির প্রতি আস্থা হারাচ্ছি: সংসদে নাহিদ ইসলামের মন্তব্য Logo নিপীড়নের আশঙ্কা জানালে ভিসা নয়—যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নীতি Logo ভোজ্যতেলের দাম লিটারে ৪ টাকা বৃদ্ধি Logo ট্রাম্পকে ‘রাজার খোঁচা’ দিলেন ব্রিটিশ চার্লস, ফরাসি ভাষা নিয়ে ব্যঙ্গ Logo ডে-কেয়ারে হাত-পা বেঁধে রাখা ৫০ শিশু, নেশাদ্রব্য প্রয়োগের অভিযোগে তোলপাড় Logo সিলেটে কোচিং শেষে বাড়ি ফেরার পথে দশম শ্রেণির ছাত্রী নিখোঁজ

জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্টদের দায়মুক্তি দিয়ে সংসদে নতুন আইন পাস

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের জন্য দায়মুক্তির বিধান রেখে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ২০২৬’ সংসদে অনুমোদন পেয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১১তম দিনে, বুধবার (৭ এপ্রিল) এই বিলটি পাস করা হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশের ভিত্তিতে প্রণীত বিলটি সংসদে উপস্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। পরে কণ্ঠভোটে এটি অনুমোদিত হয়।
আইন অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়ার কারণে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব ধরনের দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় প্রত্যাহার করা হবে। একই সঙ্গে এ ধরনের ঘটনায় ভবিষ্যতে কোনো নতুন মামলা বা অভিযোগ দায়ের করাও নিষিদ্ধ থাকবে।
বিলে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যদি কোনো আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে শুধু গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে মামলা হয়ে থাকে, তাহলে পাবলিক প্রসিকিউটর বা সরকারের নিযুক্ত আইনজীবী আদালতে আবেদন করবেন। সেই আবেদনের ভিত্তিতে আদালত সংশ্লিষ্ট মামলার কার্যক্রম বন্ধ করে দেবে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে অব্যাহতি বা খালাস পাবেন।
তবে এই আইনের আওতায় একটি ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। যদি কোনো আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ ওঠে, তাহলে বিষয়টি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে জমা দেওয়া যাবে। কমিশন এ ধরনের অভিযোগ তদন্ত করবে। এ ক্ষেত্রে, ভুক্তভোগী যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীর সদস্য হয়ে থাকেন, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানের বর্তমান বা সাবেক কোনো কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া যাবে না।
তদন্ত চলাকালে কাউকে গ্রেপ্তার বা হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজন হলে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে আগে যুক্তিসংগত কারণ দেখিয়ে কমিশনের অনুমতি নিতে হবে।
তদন্ত শেষে যদি কমিশন মনে করে অভিযোগটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অপরাধমূলক কাজ, তাহলে তারা সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবে। আদালত সেই প্রতিবেদনকে পুলিশ রিপোর্ট হিসেবে বিবেচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।
অন্যদিকে, যদি কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হয় যে ঘটনাটি রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য সরকারকে নির্দেশ দিতে পারবে। এ ধরনের ক্ষেত্রে ওই ঘটনার বিষয়ে আদালতে আলাদা কোনো মামলা বা আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৫:৪৯:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
২৭ বার পড়া হয়েছে

জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্টদের দায়মুক্তি দিয়ে সংসদে নতুন আইন পাস

আপডেট সময় ০৫:৪৯:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের জন্য দায়মুক্তির বিধান রেখে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ২০২৬’ সংসদে অনুমোদন পেয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১১তম দিনে, বুধবার (৭ এপ্রিল) এই বিলটি পাস করা হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশের ভিত্তিতে প্রণীত বিলটি সংসদে উপস্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। পরে কণ্ঠভোটে এটি অনুমোদিত হয়।
আইন অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়ার কারণে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব ধরনের দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় প্রত্যাহার করা হবে। একই সঙ্গে এ ধরনের ঘটনায় ভবিষ্যতে কোনো নতুন মামলা বা অভিযোগ দায়ের করাও নিষিদ্ধ থাকবে।
বিলে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যদি কোনো আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে শুধু গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে মামলা হয়ে থাকে, তাহলে পাবলিক প্রসিকিউটর বা সরকারের নিযুক্ত আইনজীবী আদালতে আবেদন করবেন। সেই আবেদনের ভিত্তিতে আদালত সংশ্লিষ্ট মামলার কার্যক্রম বন্ধ করে দেবে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে অব্যাহতি বা খালাস পাবেন।
তবে এই আইনের আওতায় একটি ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। যদি কোনো আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ ওঠে, তাহলে বিষয়টি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে জমা দেওয়া যাবে। কমিশন এ ধরনের অভিযোগ তদন্ত করবে। এ ক্ষেত্রে, ভুক্তভোগী যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীর সদস্য হয়ে থাকেন, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানের বর্তমান বা সাবেক কোনো কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া যাবে না।
তদন্ত চলাকালে কাউকে গ্রেপ্তার বা হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজন হলে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে আগে যুক্তিসংগত কারণ দেখিয়ে কমিশনের অনুমতি নিতে হবে।
তদন্ত শেষে যদি কমিশন মনে করে অভিযোগটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অপরাধমূলক কাজ, তাহলে তারা সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবে। আদালত সেই প্রতিবেদনকে পুলিশ রিপোর্ট হিসেবে বিবেচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।
অন্যদিকে, যদি কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হয় যে ঘটনাটি রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য সরকারকে নির্দেশ দিতে পারবে। এ ধরনের ক্ষেত্রে ওই ঘটনার বিষয়ে আদালতে আলাদা কোনো মামলা বা আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না।