ঢাকা ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo ইসলামী আন্দোলনের একক ভোটের সিদ্ধান্ত ঘিরে জোট রাজনীতিতে উত্তাপ, জামায়াত আমিরের ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা Logo শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার চট্টগ্রামের, বিদায় নিশ্চিত নোয়াখালীর Logo গাইবান্ধা-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজার রহমান রংপুরে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার Logo জামায়াতের জোটে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে ইসলামী আন্দোলন: পেছনের প্রেক্ষাপট জানাল দল Logo আপিল শুনানির সপ্তম দিনে ৪৩ আবেদন নিষ্পত্তি, ১৮ প্রার্থীর পক্ষে রায় Logo জানুয়ারির প্রথমার্ধে রেমিট্যান্সে বড় উল্লম্ফন, প্রবৃদ্ধি প্রায় ৭০ শতাংশ Logo দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টকে ৫ বছরের জেল Logo ২০২৫ সালে আয়ের শীর্ষে রোনালদো, মেসিকে পেছনে ফেলে আবারও এক নম্বর Logo নোয়াখালীতে নিখোঁজ বৃদ্ধের মরদেহ খাল থেকে উদ্ধার Logo জিগাতলায় আবাসিক ভবনে আগুন, ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় নিয়ন্ত্রণে

যুক্তরাষ্ট্রে পাল্টা শুল্ক কার্যকর, অনিশ্চিত রয়ে গেছে রুলস অব অরিজিন

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

 

আজ বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা পাল্টা শুল্ক কার্যকর হয়েছে। এখন থেকে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের ওপর নতুন করে বাড়তি শুল্ক দিতে হবে। বাংলাদেশের জন্য নতুন করে ধার্য শুল্কহার ২০ শতাংশ, যা আগের সাড়ে ১৬ শতাংশের সঙ্গে যুক্ত হবে।

ব্যবসায়ী ও রফতানিকারকরা বলছেন, শুল্ক কার্যকর হলেও এখনো স্পষ্ট নয় কোন কোন শর্তে পণ্য পাঠানো যাবে। সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে ‘রুলস অব অরিজিন’ বা পণ্যের উৎস সংক্রান্ত নীতিমালাকে ঘিরে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব নীতির বিষয় আগেভাগেই পরিষ্কার না থাকলে রফতানিকারকদের জন্য এটি একটি বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াবে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। পরে জুলাইয়ে তা কমিয়ে ৩৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। শেষ পর্যন্ত তা আরও কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।

স্বস্তির খবর হলো, প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের শুল্কহার এখন অনেকটাই সমান। তবে ভারতের ক্ষেত্রে শুল্কহার আরও বাড়ানো হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন দেশটির ওপর দুই দফায় শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ নির্ধারণ করেছে—যা বাংলাদেশের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ)–এর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান মনে করেন, শুল্ক বাড়লেও বাংলাদেশের পোশাক খাত অতটা সংকটে পড়বে না। তবে কিছু খাত—যেমন ওভেন গার্মেন্টস এবং নন-লেদার জুতা— কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তিনি বলেন, “৪০ শতাংশ ভ্যালিডেশন ক্রাইটেরিয়ার সঙ্গে প্রফিট মার্জিন মিলে ৫ শতাংশ হলে হয়তো খুব বেশি পণ্য আমদানি করা সম্ভব হবে না। তবে এই বাড়তি শুল্কের বোঝা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদেরই বহন করতে হবে।”

এদিকে, রুলস অব অরিজিন সংক্রান্ত অস্পষ্টতা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, “যখন আমরা ক্রেতার সঙ্গে দরদাম করবো, তখন যদি জানাই না পণ্যটি যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরে পৌঁছালে তাদের আমদানি নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে কি না, তাহলে এটা বড় ঝুঁকি। যদি রুলস অব অরিজিন পূরণ না করে, তাহলে পণ্য বন্দরে আটকে যাবে।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশের পণ্যের বৈচিত্র্য ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে হবে। না হলে বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৭:৩৩:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ অগাস্ট ২০২৫
১৮০ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রে পাল্টা শুল্ক কার্যকর, অনিশ্চিত রয়ে গেছে রুলস অব অরিজিন

আপডেট সময় ০৭:৩৩:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ অগাস্ট ২০২৫

 

আজ বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা পাল্টা শুল্ক কার্যকর হয়েছে। এখন থেকে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের ওপর নতুন করে বাড়তি শুল্ক দিতে হবে। বাংলাদেশের জন্য নতুন করে ধার্য শুল্কহার ২০ শতাংশ, যা আগের সাড়ে ১৬ শতাংশের সঙ্গে যুক্ত হবে।

ব্যবসায়ী ও রফতানিকারকরা বলছেন, শুল্ক কার্যকর হলেও এখনো স্পষ্ট নয় কোন কোন শর্তে পণ্য পাঠানো যাবে। সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে ‘রুলস অব অরিজিন’ বা পণ্যের উৎস সংক্রান্ত নীতিমালাকে ঘিরে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব নীতির বিষয় আগেভাগেই পরিষ্কার না থাকলে রফতানিকারকদের জন্য এটি একটি বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াবে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। পরে জুলাইয়ে তা কমিয়ে ৩৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। শেষ পর্যন্ত তা আরও কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।

স্বস্তির খবর হলো, প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের শুল্কহার এখন অনেকটাই সমান। তবে ভারতের ক্ষেত্রে শুল্কহার আরও বাড়ানো হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন দেশটির ওপর দুই দফায় শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ নির্ধারণ করেছে—যা বাংলাদেশের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ)–এর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান মনে করেন, শুল্ক বাড়লেও বাংলাদেশের পোশাক খাত অতটা সংকটে পড়বে না। তবে কিছু খাত—যেমন ওভেন গার্মেন্টস এবং নন-লেদার জুতা— কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তিনি বলেন, “৪০ শতাংশ ভ্যালিডেশন ক্রাইটেরিয়ার সঙ্গে প্রফিট মার্জিন মিলে ৫ শতাংশ হলে হয়তো খুব বেশি পণ্য আমদানি করা সম্ভব হবে না। তবে এই বাড়তি শুল্কের বোঝা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদেরই বহন করতে হবে।”

এদিকে, রুলস অব অরিজিন সংক্রান্ত অস্পষ্টতা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, “যখন আমরা ক্রেতার সঙ্গে দরদাম করবো, তখন যদি জানাই না পণ্যটি যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরে পৌঁছালে তাদের আমদানি নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে কি না, তাহলে এটা বড় ঝুঁকি। যদি রুলস অব অরিজিন পূরণ না করে, তাহলে পণ্য বন্দরে আটকে যাবে।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশের পণ্যের বৈচিত্র্য ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে হবে। না হলে বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে।