ঢাকা ০৪:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo বৈশাখে জামায়াতের শোভাযাত্রা, দেশীয় সংস্কৃতি রক্ষার আহ্বান Logo ট্রাম্পকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও, ইরানপন্থি চ্যানেল বন্ধ করায় ইউটিউবের বিরুদ্ধে তেহরানের ক্ষোভ Logo অল্প বয়সের আবেগে নেওয়া বিয়ের সিদ্ধান্তকে ভুল বললেন অপু বিশ্বাস Logo পহেলা বৈশাখে টাঙ্গাইলে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী Logo নির্ভয় সমাজ ও বিশ্বশান্তির আহ্বান, ছায়ানটের বর্ষবরণ আয়োজন Logo চারুকলা থেকে বৈশাখী শোভাযাত্রা, নতুন দিনের আশায় বর্ণিল আয়োজন Logo মানবাধিকার কমিশনের সব সদস্যের পদত্যাগ, আইনি পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ Logo সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার অপব্যবহার করছে বিএনপি : হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ Logo বকেয়া পাওনার অভিযোগ খণ্ডন, নাসুমের বিরুদ্ধেই পাল্টা অভিযোগ সিলেটের Logo রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আজ সম্পন্ন হবে সুরসম্রাজ্ঞী আশা ভোঁসলের শেষকৃত্য

রাজস্ব ঘাটতিতে চাপে সরকার, আদায় বাড়াতে জোর দিচ্ছে এনবিআর সংস্কারে

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

বর্ধিত ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে গিয়ে আর্থিক চাপে রয়েছে সরকার। বাজেটে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায়ে পিছিয়ে পড়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), ফলে ঘাটতির পরিমাণও ক্রমশ বাড়ছে। একই সঙ্গে প্রত্যাশিত হারে বাড়েনি কর-জিডিপি অনুপাতও।
পরিস্থিতি সামাল দিতে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা চার দফায় বাড়ানো হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে নেওয়া ঋণের শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় রাজস্ব সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। ফলে ঋণ পরিশোধ, পরিচালন ব্যয় মেটানো এবং বাজেট বাস্তবায়নে রাজস্ব বাড়ানোর বিকল্প দেখছে না সরকার। এ কারণেই এনবিআরের কার্যক্রমে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
এনবিআরের সাবেক সদস্য মো. ফরিদ উদ্দিনের মতে, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজস্ব আদায়ে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি, অথচ সরকারি ব্যয় বেড়েই চলেছে। এর ফলে জাতীয় ঋণের চাপও বাড়ছে। তিনি মনে করেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এনবিআরের সংস্কার জরুরি। তার ভাষায়, দেশের অর্থনীতি থেকে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব সংগ্রহ করা সম্ভব হলেও কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না।
চলতি অর্থবছরে জিডিপির তুলনায় রাজস্বের অবদান ৮ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও সেই লক্ষ্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি আইএমএফ প্রতি বছর জিডিপির কমপক্ষে শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ হারে রাজস্ব বৃদ্ধির শর্ত দিলেও তা অর্জন করাও চ্যালেঞ্জের মুখে।
অর্থনৈতিক শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির সদস্য এম আবু ইউসুফ জানিয়েছেন, বাজেটের প্রায় ১৫ শতাংশই সুদ পরিশোধে ব্যয় হয়। এ চাপ কমাতে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানো অপরিহার্য। তিনি আরও বলেন, দেশের কর-জিডিপি অনুপাত প্রায় ৭ শতাংশ, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে অনেক কম। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পুরো প্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয় (অটোমেশন) করার ওপর জোর দেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজস্ব আদায় বাড়াতে কার্যকর সংস্কার বাস্তবায়ন ছাড়া অন্য কোনো টেকসই পথ নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১২:০২:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
৩৭ বার পড়া হয়েছে

রাজস্ব ঘাটতিতে চাপে সরকার, আদায় বাড়াতে জোর দিচ্ছে এনবিআর সংস্কারে

আপডেট সময় ১২:০২:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

বর্ধিত ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে গিয়ে আর্থিক চাপে রয়েছে সরকার। বাজেটে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায়ে পিছিয়ে পড়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), ফলে ঘাটতির পরিমাণও ক্রমশ বাড়ছে। একই সঙ্গে প্রত্যাশিত হারে বাড়েনি কর-জিডিপি অনুপাতও।
পরিস্থিতি সামাল দিতে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা চার দফায় বাড়ানো হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে নেওয়া ঋণের শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় রাজস্ব সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। ফলে ঋণ পরিশোধ, পরিচালন ব্যয় মেটানো এবং বাজেট বাস্তবায়নে রাজস্ব বাড়ানোর বিকল্প দেখছে না সরকার। এ কারণেই এনবিআরের কার্যক্রমে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
এনবিআরের সাবেক সদস্য মো. ফরিদ উদ্দিনের মতে, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজস্ব আদায়ে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি, অথচ সরকারি ব্যয় বেড়েই চলেছে। এর ফলে জাতীয় ঋণের চাপও বাড়ছে। তিনি মনে করেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এনবিআরের সংস্কার জরুরি। তার ভাষায়, দেশের অর্থনীতি থেকে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব সংগ্রহ করা সম্ভব হলেও কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না।
চলতি অর্থবছরে জিডিপির তুলনায় রাজস্বের অবদান ৮ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও সেই লক্ষ্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি আইএমএফ প্রতি বছর জিডিপির কমপক্ষে শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ হারে রাজস্ব বৃদ্ধির শর্ত দিলেও তা অর্জন করাও চ্যালেঞ্জের মুখে।
অর্থনৈতিক শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির সদস্য এম আবু ইউসুফ জানিয়েছেন, বাজেটের প্রায় ১৫ শতাংশই সুদ পরিশোধে ব্যয় হয়। এ চাপ কমাতে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানো অপরিহার্য। তিনি আরও বলেন, দেশের কর-জিডিপি অনুপাত প্রায় ৭ শতাংশ, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে অনেক কম। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পুরো প্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয় (অটোমেশন) করার ওপর জোর দেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজস্ব আদায় বাড়াতে কার্যকর সংস্কার বাস্তবায়ন ছাড়া অন্য কোনো টেকসই পথ নেই।