ঢাকা ০১:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
Logo রাজস্ব ঘাটতিতে চাপে সরকার, আদায় বাড়াতে জোর দিচ্ছে এনবিআর সংস্কারে Logo পদ্মায় বাস দুর্ঘটনার ৫ ঘণ্টা পরও নিখোঁজ বহু যাত্রী Logo ইরান যুদ্ধ থামার ইঙ্গিত? ১৫ দফা প্রস্তাব ঘিরে বাড়ছে জল্পনা Logo মগবাজারের ঘটনায় নিজেদের অবস্থান জানিয়ে ভিডিও প্রকাশ নবীন ফ্যাশনের Logo ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট মূল্য নিয়ে ফিফার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় সমর্থকদের মামলা Logo স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেশবাসী ও প্রবাসীদের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের ৪ শিক্ষানবিশ এএসপি চাকরি থেকে অপসারণ Logo নবীন ফ্যাশন দোকান বন্ধের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুলে দেওয়ার নির্দেশ, ওসিকে তলব Logo ১৩৩ অধ্যাদেশের মধ্যে ১২০টির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, বাকিগুলো নিয়ে আলোচনা ২৯ মার্চ Logo যুদ্ধবিরতিতে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইলের কাছে ইরানের পাঁচ শর্ত

ইরান যুদ্ধ থামার ইঙ্গিত? ১৫ দফা প্রস্তাব ঘিরে বাড়ছে জল্পনা

নিজস্ব সংবাদ : দেশ২৪লাইভ

ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছেন, যা পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরানের কাছে পৌঁছানো হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে। পাকিস্তান ইতোমধ্যেই জানিয়েছে, তারা এ ধরনের শান্তি আলোচনার আয়োজক হতে প্রস্তুত।

 

ট্রাম্প দাবি করেছেন, চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তবে ইরান বরাবরের মতোই এই দাবিকে অস্বীকার করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো আলোচনা চলছে না। এমনকি ইরানি নেতারা ব্যঙ্গ করে মন্তব্য করেছেন— যুক্তরাষ্ট্র নিজের সঙ্গেই আলোচনা করছে।

 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাত ইতোমধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, শেয়ারবাজারে ওঠানামা এবং মধ্যপ্রাচ্যে হতাহতের ঘটনা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ মার্চ পর্যন্ত দেশটিতে নিহত হয়েছেন প্রায় ১,৫০০ জন এবং আহত হয়েছেন ১৮ হাজারের বেশি মানুষ।

 

সংঘাতের কয়েকদিন পরই ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল সীমিত করে দেয়। বর্তমানে খুব অল্পসংখ্যক জাহাজ, বিশেষ করে ভারত, পাকিস্তান ও চীনের জাহাজ চলাচলের অনুমতি পাচ্ছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা যুদ্ধের আগে ছিল প্রায় ৬৫ ডলারের মতো।

 

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের ১৫ দফা পরিকল্পনায় এক মাসের যুদ্ধবিরতি, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখা, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ এবং আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধের মতো শর্ত রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

 

যদিও এই পরিকল্পনার পূর্ণ বিবরণ কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি, তবুও এটি ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র যেমন আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তেমনি সামরিক প্রস্তুতিও জারি রেখেছে।

 

অন্যদিকে, ইরানও যুদ্ধ শেষ করতে কিছু শর্ত দিয়েছে। দেশটি তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং ভবিষ্যতে আগ্রাসন বন্ধের নিশ্চয়তা চায়। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বন্ধের দাবিও তুলেছে তেহরান।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, উভয় পক্ষের অবস্থানের মধ্যে এখনো বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। তবে যুদ্ধের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আলোচনার সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কেউ কেউ মনে করছেন, সীমিত পরিসরে হলেও যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে, যা ভবিষ্যতে বড় কোনো সমঝোতার পথ খুলে দিতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১১:৪৯:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
৯ বার পড়া হয়েছে

ইরান যুদ্ধ থামার ইঙ্গিত? ১৫ দফা প্রস্তাব ঘিরে বাড়ছে জল্পনা

আপডেট সময় ১১:৪৯:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছেন, যা পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরানের কাছে পৌঁছানো হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে। পাকিস্তান ইতোমধ্যেই জানিয়েছে, তারা এ ধরনের শান্তি আলোচনার আয়োজক হতে প্রস্তুত।

 

ট্রাম্প দাবি করেছেন, চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তবে ইরান বরাবরের মতোই এই দাবিকে অস্বীকার করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো আলোচনা চলছে না। এমনকি ইরানি নেতারা ব্যঙ্গ করে মন্তব্য করেছেন— যুক্তরাষ্ট্র নিজের সঙ্গেই আলোচনা করছে।

 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাত ইতোমধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, শেয়ারবাজারে ওঠানামা এবং মধ্যপ্রাচ্যে হতাহতের ঘটনা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ মার্চ পর্যন্ত দেশটিতে নিহত হয়েছেন প্রায় ১,৫০০ জন এবং আহত হয়েছেন ১৮ হাজারের বেশি মানুষ।

 

সংঘাতের কয়েকদিন পরই ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল সীমিত করে দেয়। বর্তমানে খুব অল্পসংখ্যক জাহাজ, বিশেষ করে ভারত, পাকিস্তান ও চীনের জাহাজ চলাচলের অনুমতি পাচ্ছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা যুদ্ধের আগে ছিল প্রায় ৬৫ ডলারের মতো।

 

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের ১৫ দফা পরিকল্পনায় এক মাসের যুদ্ধবিরতি, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখা, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ এবং আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধের মতো শর্ত রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

 

যদিও এই পরিকল্পনার পূর্ণ বিবরণ কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি, তবুও এটি ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র যেমন আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তেমনি সামরিক প্রস্তুতিও জারি রেখেছে।

 

অন্যদিকে, ইরানও যুদ্ধ শেষ করতে কিছু শর্ত দিয়েছে। দেশটি তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং ভবিষ্যতে আগ্রাসন বন্ধের নিশ্চয়তা চায়। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বন্ধের দাবিও তুলেছে তেহরান।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, উভয় পক্ষের অবস্থানের মধ্যে এখনো বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। তবে যুদ্ধের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আলোচনার সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কেউ কেউ মনে করছেন, সীমিত পরিসরে হলেও যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে, যা ভবিষ্যতে বড় কোনো সমঝোতার পথ খুলে দিতে পারে।